শীর্ষবিন্দু নিউজ: জিএসপি সুবিধা স্থগিতের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি বলেছে, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে ওয়াশিংটনে চিঠি পাঠাবে বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ স্থগিতের দুদিন পর শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানালেন। বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মুক্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে জিএসপি নিয়ে কথা বলেন ফখরুল।
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জিএসপি সুবিধা ‘বাতিলের’ জন্য চিঠি লিখেছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, দেশের ভিতরে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কিছু লোক এই সুবিধা বাতিলের চেষ্টায় ছিল। এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে। তথ্যমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য রেখেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা কোথাও কখনো কোনো চিঠি দেননি। দেশের স্বার্থে জিএসপি সুবিধা পুনরায় পেতে বিএনপি কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মার্কিন প্রশাসনের কাছে এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেব। আমরা তাদের কাছে অনুরোধ জানাব, যাতে এই সুবিধা ফিরিয়ে দেয়। এজন্য বিবৃতিও দেব। কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার-সুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়ার এক নিবন্ধ ধরে জিএসপি সুবিধা স্থগিতের জন্য তাকে দায়ী করে ইনু। ওই নিবন্ধে খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপ’ প্রত্যাশার পাশাপাশি বলেছিলেন, শ্রমিকদের পক্ষে যারা কথা বলেন তাদের ওপর দমন-পীড়ন হওয়ায় জিএসপি সুবিধা বাতিলের হুমকি শেখ হাসিনা সরকারকে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ফখরুল আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা গতকালই বলেছেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন গার্মেন্টসের দুর্ঘটনার কারণেই জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। তাই তথ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, তা অসত্য।
কারাগারে আটক দুলুর মুক্তি দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, আট মাস ধরে দুলুকে সরকার অন্যায় ও রাজনৈতিক কারণে কারাগারে আটকে রেখেছে। হাই কোর্ট থেকে দু’দফা জামিন হওয়ার পরও আপিল বিভাগে গিয়ে সরকার পক্ষ সেই জামিন স্থগিত করে রেখেছে। দুলু হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন দাবি করে তার মুক্তি দাবি করেন তিনি। তার স্ত্রীও দুরারোগ্যে ব্যাধিতে আক্রান্ত। অতিদ্রুত দুলুর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর রাজপথ অবরোধ কর্মসূচির সময়ে দুলুকে নাটোর পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন ফখরুল।
Leave a Reply