বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩

সংবাদ সম্মেলনে কাদলেন মাশরাফি: লড়াই করেই জবাব দিতে চায় টাইগাররা

সংবাদ সম্মেলনে কাদলেন মাশরাফি: লড়াই করেই জবাব দিতে চায় টাইগাররা

গ্যালারী থেকে ডেস্ক: কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ। এমনিতে তিনি প্রাণবন্ত, চঞ্চল। কিন্তু রোববার তার চেহারা একেবারেই ভিন্ন। সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকেই ধরে আসছিল গলা। সংবাদ সম্মেলন শেষে আর আটকে রাখতে পারলেন না চোখের পানি। তাসকিন আহমেদের নিষিদ্ধ হওয়া মানতে পারছেন না মাশরাফি।

তাসকিনের অ্যাকশনে সমস্যা নেই। তাসকিনের অ্যাকশনে সমস্যা নেই। তাসকিনের অ্যাকশনে সমস্যা নেই। পুরো সংবাদ সম্মেলনে কথাটা মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন বারবার। মাশরাফি আবেগী মানুষ। কিন্তু তাসকিনের ব্যাপারে জোর দিয়ে যে বলছেন, সেটা শুধু আবেগ থেকে নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন ১৫ বছর ধরে। সেই দেড় দশকের অভিজ্ঞতা থেকেই কথাটা বলেছেন মাশরাফি। শুধু আবেগী হলে আরাফাত সানির ব্যাপারেও একইভাবে জোর দিয়ে বলতেন।

অবিচার শব্দটি বারবার বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে। মাশরাফি বলেন, দলের সবার বিশ্বাস, তাসকিনের অ্যাকশনে কোনো সমস্যা নেই। মাশরাফি জানালেন, দলের পক্ষ থেকে শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে বিসিবিকে, যেন যেভাবে সম্ভব প্রতিবাদ করা হয়, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দলের মানসিক অবস্থা এই মুহূর্তে ভালো নয়। সবকিছু এলোমেলো হয়ে আছে। একদম শেষ মুহূর্তে দলে যোগ দিয়েছেন দুজন নতুন খেলোয়াড়। সব মিলিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে মাশরাফি। দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখাই এখন কঠিন।

আগের দিন দুপুরে আরাফাত সানি ও তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হওয়ার খবর জানার পর থেকেই ক্ষুব্ধ, হতাশ বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে তাসকিনের নিষিদ্ধ হওয়া মানতেই পারছে না দল। শনিবার বিকেল থেকে টানা চার ঘণ্টার বৈঠক করেছে দল। আলোচনা হয়েছে অনেক কিছুই। দলের পক্ষ থেকে শক্ত কোনো পদক্ষেপ, কঠিন কোনো বার্তা দেওয়ার তাগিদ বারবার জানিয়েছেন মাশরাফি। শেষ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টের হস্তক্ষেপে আইসিসির প্রক্রিয়া মানারই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিষিদ্ধ হওয়ার খবর জানার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তাসকিন। মাশরাফি তাকে শান্ত করেছেন বারবার। হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন সানিও। সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানালেন, এই ছেলে দুটিকে শান্ত রাখতে কতটা হিমশিম খাচ্ছে দল, ওদের জন্য কতটা পুড়ছে দলের সবার হৃদয়। একটা পর্যায়ে খানিকটা হাসলেনও অধিনায়ক। জানালেন, যে ম্যাচে তাসকিনের অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, সেই ম্যাচে তার একটি ডেলিভরিও অবৈধ প্রমাণিত হয়নি!

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওই ম্যাচে একটি বাউন্সারও মারেননি তাসকিন। অথচ বোলিং পরীক্ষায় তাকে ৩ মিনিটের মধ্যে ৯টি বাউন্সার করতে বলা হয়েছে, যেখানে ৩টি বল শুধু ১৫ ডিগ্রির সীমা ছাড়িয়েছে। এসব বলতে বলতে হাসি ফুটে উঠল মাশরাফি মুখে। ততে মিশে থাকল প্রচ্ছন্ন আক্ষেপ, আইসিসির প্রতি ক্ষোভ। মাশরাফি হাসছেন, কিন্তু চোখে ছলছল করছে জল!

তবু এই কঠিন পরিস্থিতিটাকেই প্রেরণার মন্ত্র বানাচ্ছেন মাশরাফি। বলছেন, আগামীকাল জয়ের জন্যই লড়াই করবে দল, ‘আমরা অবশ্যই মাঠে নামব জয়ের জন্য। সেটা যে-ই খেলুক না কেন। আমাদের প্রথম কাজই হবে জয়ের জন্য মাঠে নামা।’ সতীর্থদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েও লড়াই করতে বললেন তিনি, আমি সবার দিকেই তাকিয়ে আছি। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে দলের সবার ছোট ছোট অবদানেই ম্যাচে জেতা যায়। আমি প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের দিকে তাকিয়ে আছি।

এখন পর্যন্ত এই গ্রুপে বাংলাদেশ আর অস্ট্রেলিয়াই জয় পায়নি। কালকের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই বাঁচা মরার। অস্ট্রেলিয়াও প্রাণপণ লড়াই করবে। এটা মাশরাফির চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন করে তুলছে। কিন্তু মাশরাফি জানালেন, তাঁরা প্রস্তুত, ‘আমাদের গ্রুপটা অনেক বেশি কঠিন। অস্ট্রেলিয়া আছে। কাজটা এমনিতেই কঠিন ছিল, আরও কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের অবশ্যই প্রথম চাওয়া থাকবে ম্যাচটা যেন আমরা জিততে পারি। ওভাবেই আমরা পরিকল্পনা করব।’

তাসকিন-সানিরা না থাকলেও দলের সঙ্গে থাকবেন। তাঁদের স্কোয়াডে আছে ধরে নিয়েই খেলবে বাংলাদেশ। মাশরাফি সেটাই জানিয়ে দিলেন, এখানে হয়তো কেউই ওইভাবে অনুভব করতে পারবে না, আমরা কীভাবে আছি। তাসকিন বা সানির সঙ্গে আমরা শেষ সময়গুলো কীভাবে কাটিয়েছি। ওই ছেলেদের কষ্টটা আমরা অনুভব আমরা করতে পারছি।

এই দুজনের জন্যই সতীর্থদের উজাড় করে দিতে বললেন মাশরাফি, আমরা শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করব। দুইটা ছেলে আমাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছে। এই দুটি ছেলেকে দেশে ফিরে যেতে হবে। হয়তোবা সানিরটা মেনে নেওয়া গেছে। আমরা মেনেও নিয়েছি। কিন্তু তাসকিনেরটা বৈধ এই বিশ্বাস আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা যেটা বিশ্বাস করি সেটা তো বাস্তব হচ্ছে না। এখন তাকে চলে যেতে হচ্ছে। জিনিসটা এখন চাইলেও ভুলে থাকা কঠিন। এখন এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। এই মুহূর্তে এতটুকু বলতে পারি আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা করব।

সব শেষ পর্যন্ত আবেগটাই ছুঁয়ে গেছে সবাইকে। সংবাদ সম্মেলন কক্ষে পিন পতন নিরবতা। বাংলাদেশের সংবাদকর্মীরা তো বটেই, ভারতীয়, অস্ট্রেলিয়ান ও অন্যান্য বিদেশি সাংবাদিকরাও হতবাক, বিস্মিত ও একই সঙ্গে আপ্লুত। সংবাদ সম্মেলনে তবু কোনো রকমে নিজেকে ধরে রেখেছিলেন অধিনায়ক। চোখে জল থাকলেও নামেনি গাল বেয়ে। কক্ষ থেকে বের হয়ে পেরে উঠলেন না নিজের সঙ্গে। হাত দিয়ে বারবার মুছতে হলো অশ্রু।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026