শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেলিফোর্নিয়া শহরের সান জোসে এলাকায় হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশী এক দম্পতিকে। তাদের বাসার ভিতরেই পড়ে ছিল মৃতদেহ। পাশেই লেখা ছিল একটি বার্তা: সরি, মাই ফার্স্ট কিল ওয়াজ ক্লামজি।
ইঞ্জিনিয়ার গোলাম রাব্বি এবং স্ত্রী শামিমা রাব্বির মরহদেহ গত ২৪ শে এপ্রিল রোববার লস এঞ্জেলেসের সেন জোসের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে একটি করে বুলেটের চিহ্ন রয়েছে। তবে তাদেরকে কখন হত্যা করা হয়েছে সে ব্যাপারি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে কে বা কারা তাদেরকে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত হতে পারে নি পুলিশ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এবিসি ৭ নিউজ।
নিহতের পারিবারিক স্বজন রোববার স্থানীয় সময় দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে তাদের ঘরে এসে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এ সময় নিহতদের ঘরের গ্লাসের স্লাইড দরোজাটা খুলা ছিল। পুলিশ ধারণা করছে তাদেরকে গুলি করে হত্যা করেছে দৃর্বৃত্তরা।
জানা যায়, নিহতরা হলেন গোলাম রাব্বি ও তার স্ত্রী শামীমা রাব্বি। পেশায় গোলাম রাব্বি একজন প্রকৌশলী। শামীমা রাব্বি একজন একাউন্টেন্ট। কয়েক দশক আগে তারা বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন। সেখানে শান্তিপূর্ণ ছিল তাদের জীবনযাপন। কয়েক দিন তাদের খোঁজখবর না পেয়ে বন্ধুরা তার বাসায় যান গত রোববার। সেখানে গিয়ে তাদেরকে ডাকাডাকি করেন।
কিন্তু ভিতর থেকে কোন সাড়া পাচ্ছিলেন না তারা। এ সময় তারা বাসার একটি দরজার সøাইডিং গ্লাস সরিয়ে যা দেখতে পান তাতে গা শিউরে ওঠে। তারা দেখতে পান হার্ডউডের ওপর পড়ে আছে তাদের মৃতদেহ। খবর পায় পুলিশে। এখন ঘটনা উদ্ধারের চেষ্টা করছে তারা। এই দম্পতি বসবাস করতেন একটি মসজিদের কাছেই। তারা ছিলেন ধর্মপ্রাণ।
এ বিষয়ে এভারগ্রিন ইসলামিক সেন্টারের সদস্য ফয়সাল ইয়াজাদি বলেন, রাব্বি দম্পতি আমাদের মাঝে আর নেই। এ কথা ভাবতেই পারছি না। তারা এমনভাবে চলে বিদায় নিয়েছেন যার নিন্দা করে শেষ করা যায় না। রাব্বি দম্পতির বন্ধুরা বলেছেন, তাদের রয়েছে দুটি ছেলে। তাদের একজনের বয়স ১৭ বছর। আরেকজনের ২১ বছর। ঘটনার সময় তারা বাসায় ছিলেন না। পুলিশ বলেছে, রাব্বি দম্পতিকে গুলি করা হয়েছে। তবে কি উদ্দেশে হত্যা করা হয়েছে বা এ বিষয়ে সন্দেহভাজন কাউকে চিহ্নিত করা যায় নি।
নিহত গোলাম রাব্বী এবং শামীমা রাব্বির দুই ছেলে রয়েছে। তাদের বয়স ১৭ এবং ২৩ বছর। ঘটনার সময় তারা ঘরে ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গ সংশ্লিষ্ট কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহতরা সান জোসের সাউথ বে ইসলামিক এসোসিয়েশন এবং এভারগ্রীন ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে জড়িত ছিলনে। গোলাম রাব্বি এবং শামীমা রাব্বি প্রায় দুই দশক আগে আমেরিকা প্রবাসী হন। গোলাম রাব্বি একজন ইঞ্জিয়ার এবং শামীমা পেশায় একজন একাউনটেন্ট। দুজনই কর্মরত ছিলেন।