শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫

সিরিয়ায় অভিযান: যুক্তরাজ্যের পিছুটান সিদ্ধান্তে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ায় অভিযান: যুক্তরাজ্যের পিছুটান সিদ্ধান্তে বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সুমন আহমেদ:  সিরিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ডাকা বিশেষ প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউজ অফ কমন্সের ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে গেছে। আর এদিকে, ক্যামেরনের উথাপিত প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে নাকচ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই অভিযানের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে আসা ক্যামেরন বুধবার একবার পার্লামেন্টে প্রস্তাব তুললেও লেবার পার্টির বিরোধিতার মুখে পড়েন। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সদস্যও ইরাক যুদ্ধে তখনকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ভূমিকা ও এ নিয়ে ব্রিটেনের সমালোচনায় পড়ার কথা মনে করিয়ে দেন। ব্রিটিশ সরকার তারপরও প্রস্তাবটি এগিয়ে নিতে চাইলে বৃহস্পতিবার রাতে ভোটাভুটি হয়। এতে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের বিপক্ষে ২৮৫ ভোট পড়ে, আর ক্যামেরনের প্রস্তাবকে সমর্থন দেন ২৭২ জন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই বিশেষ অধিবেশনের ডাক দিয়েছিলেন।

এর মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে যুক্তরাজ্যের যোগ দেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডেভিড ক্যামেরনের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া কঠিন হয়ে এলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ১৭৮২ সালের পর ক্যামেরনই হলেন প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, যার সামরিক প্রস্তাব পার্লামেন্টের অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হলো। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তের কারণে ওয়াশিংটন-লন্ডন সম্পর্কেও প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০০৩ সালে ইরাকে হামলার প্রধান সহযোগী যুক্তরাজ্যের এ পিছুটান সিরিয়ায় অভিযানের ব্যাপারে হোয়াইট হাউসকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। পার্লামেন্টের পরামর্শক্রমে যুক্তরাজ্য সরকার সিরিয়া অভিযান থেকে সরে আসার পর থেকে প্রশ্ন উঠছে মার্কিনিরা শেষ পর্যন্ত একাই হামলা চালাবে কিনা? অবশ্য প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র একাই সিরিয়ায় অভিযান চালাতে পারে বলে ইতোমধ্যে ইংগিত দিয়েছে বারাক ওবামা প্রশাসন।

যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের পক্ষ থেকে নেতিবাচক বার্তা পাওয়ার পরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ আগ্রহ নিয়েই সিরিয়া সঙ্কট দূরীকরণে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র দেশের পার্লামেন্টে থেকে এমন অপ্রত্যাশিত খবর পাওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেল বলেছেন, সিরিয়া সঙ্কট মোকাবেলায় স্বেচ্ছায় কাজ করতে ইচ্ছুক এমন ‍আন্তর্জাতিক মিত্র খুঁজে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পশ্চিমা সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব পর্যায়ের দেশটির এ ধরনের পিছুটান যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্র দেশগুলোকেও সিরিয়ায় অভিযানের ব্যাপারে নতুন করে ভাবিয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

বিব্রতকর পরাজয়ের পর ক্যামেরন বলেন, “সিরিয়ায় যা ঘটেছে তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া জরুরি ছিল বলে আমি মনে করি। তবে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চায় না। সরকার পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানাবে। অবশ্য মিত্রদের সহযোগিতা না পেলেও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একাই সিরিয়া অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ইতোমধ্যে ইংগিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকতারা। অবশ্য এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি দাঁড় করানো দরকার। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবাহিনীকেই দায়ী করে আসছে মার্কিন প্রশাসন। অবশ্য বরাবরই এ দোষ বিরোধীদের ঘাড়ে চাপিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে দায়ী করছে আসাদ সরকার।

অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র কেটলিন হেডেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভোটাভুটির ফল নেতিবাচক হওয়ার পরও প্রধান মিত্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের কাছে অভিযানের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন বলে জানান গেছে। সামরিক অভিযানের পক্ষে তারা গোয়েন্দা প্রতিবেদনও জমা দেবেন।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026