রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১১

কড়া নিরাপত্তায় শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

কড়া নিরাপত্তায় শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চার লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

শনিবার ঈদের দিন সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঈদুল ফিতরের ১৯১তম জামাতে ইমামতি করেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।

নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তিু ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। নিম্নআয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত দেশে পরিণত হওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা হয়।

ভোর থেকেই হাজার হাজার মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে কিশোরগঞ্জ রাস্তাঘাট। কেউ গাড়িতে চড়ে কেউবা পায়ে হেঁটে জামাতে অংশ নিতে আসেন। সকাল ৯টার অগেই কানায় কানায় ভরে যায় শোলাকিয়া মাঠ।

তবে নিরপত্তার কড়াকড়ি ও মোবাইল ফোন নিয়ে মাঠে প্রবেশে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক মুসল্লিকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তারপরও অন্তত চার লক্ষাধিক মুসল্লি এবার শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত আদায় করেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা।

২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার পর থেকে শোলাকিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়। এ বছর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ড্রোন। নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয় পুরো আয়োজন। পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যা ব ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোশাকে নজরদারি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এছাড়াও শহরসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার। নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ আবার তল্লাশি করা হয়। শোলাকিয়া মাঠ ও শহরের যত অলিগলি আছে, সবখানে বসানো হবে নিরাপত্তা চৌকি।

এ উপলক্ষে শহরের মোড়ে মোড়ে নির্মাণ করা হয় শুভেচ্ছা তোরণ। রাস্তার দু’পাশে টাঙানো হয় রঙ-বেরঙের পতাকা ও ব্যানার। মুসল্লিদের সুবিধায় এবারই পুরো মাঠ ও আশপাশে খাবার পানির ব্যবস্থা রাখে পৌর কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় মুখর ছিল গোটা শোলাকিয়া মাঠ।

সকালে দুটি বিশেষ ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নিয়ে কিশোরগঞ্জে আসে।

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুঁড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত দেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও, ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি সভাপতি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, এবার আমাদের সবার প্রচেষ্টায় সুষ্ঠুভাবে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার থেকে পাঁচ লাখ মুসুল্লি এবার নামাজে অংশ নিয়েছে। মাঠে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ মাঠের বাইরে রাস্তায় ও আশপাশে নামাজে অংশ নেয়।

জনশ্রতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সাথে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

সাধারণ মুসল্লিদের বিশ্বাস বেশি লোক একসাথে নামাজ আদায় করলে করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। সে কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করতে আসেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026