বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭

জাপান ও যুক্তরাজ্য যৌথ মহড়া: গন্তব্য দক্ষিণ চীন সাগর

জাপান ও যুক্তরাজ্য যৌথ মহড়া: গন্তব্য দক্ষিণ চীন সাগর

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: জাপানের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ জাহাজ কাগা হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার ও ডেস্ট্রয়ার ইনাজুমা ভারত মহাসাগরে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধ জাহাজ এইচএমএস আরগিলের সঙ্গে গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক যৌথ মহড়ায় অংশ নিয়েছে।

সেখান থেকে তাদের গন্তব্য দক্ষিণ চীন সাগর। এর আগেও যুক্তরাজ্য বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে নিজের যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে। তখন বেইজিং লন্ডনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, এমন কাজ আবার করলে প্রত্যাশিত বাণিজ্য চুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে যুক্তরাজ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ছাড়াও জাপানের দাঁড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে। কারণ ওই সমুদ্র এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হয়। চীনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে এশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের সমুদ্র পথে হওয়া বাণিজ্যের অনেকটাই চীনের মর্জির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

কাগা হেলিকপ্টার ক্যারিয়ারের কমান্ডার কেনজি সাহাগুচি বলেছেন, ব্রিটিশ নৌ বাহিনীর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এমন মহড়ায় পারস্পারিক সহযোগিতার সম্পর্ককে শক্তিশালী করার একটা সুযোগ পাওয়া যায়।

তিনি মনে করেন, দুই দেশের নৌ বাহিনী যত বেশি একসঙ্গে কাজ করবে ভবিষ্যতে তাদের সম্পর্ক তত শক্তিশালী হবে। অন্য দেশের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় যাওয়ার আগে আলোচনা করতে হয় কিন্তু যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তার প্রয়োজন হয় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জাপানের যোগাযোগ অনেক সহজ।

গত মাসে যুক্তরাজ্যের উভচর যুদ্ধ জাহাজ আলবিন দক্ষিণ চীন সাগরে  চীনের দাবিকেকে চ্যালেঞ্জ করেছিল। ফ্রিডম অব নেভিগেশন অপারেশন (এফওএনওপি) নামক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই জাহাজটি পার্সেল দ্বীপপুঞ্জে চীনের ঘাঁটির পাশ দিয়ে জাপান হয়ে ভিয়েতনাম গিয়েছিল।

এর জবাবে চীন একটি যুদ্ধ জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার পাঠিয়ে যুক্তরাজ্যকে হুঁশিয়ারি করেছিল। চীন সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, যুক্তরাজ্য যদি আবারও এমন কাজ করে তাহলে ইইউ ত্যাগের পর চীনের সঙ্গে যে পৃথক বাণিজ্য চুক্তি করার প্রত্যাশা করে যুক্তরাজ্য তা বাস্তবায়িত হবে না। কিন্তু চীনের হুমকি উপেক্ষা করেই এবার দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে রওনা হয়েছে এইচএমএস আরগিল।

পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চীনের দাবি, তাদের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ। অথচ ওই সমুদ্র দিয়ে বার্ষিক প্রায় তিন লাখ কোটি ডলারের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। চীনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়ে গেলে দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও বেইজিংয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো সেটা  হতে দিতে চায় না। তাছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন অংশের ওপর মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং ব্রুনেই দাবি জানিয়েছে। তেল-গ্যাসের মজুত ছাড়াও দক্ষিণ চীন সাগরে রয়েছে প্রচুর মৎসসম্পদ আহরণের সুযোগ।

অন্যদিকে চীনের সঙ্গে জাপানের পূর্ব চীন সাগর নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ মাসেই জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির একটি সাবমেরিন, দুইটি ডেস্ট্রয়ার এবং কাগা ক্যারিয়ার সেখানে মহড়া চালিয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, মহড়া শেষে ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ এইচএমএস আরগিল জাপানের সমুদ্র সীমায় থাকবে। তার কাজ হবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে কেউ বাণিজ্য করছে কি না তার দিকে নজর রাখা।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026