বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭

নির্বাচনে বিজেপির বিজয়: হার স্বীকার করে মোদীকে রাহুলের অভিনন্দন

নির্বাচনে বিজেপির বিজয়: হার স্বীকার করে মোদীকে রাহুলের অভিনন্দন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ: ভারতের সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী আবারও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি।

লোকসভা নির্বাচনে নিজেদের হার স্বীকার করে নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। এমনকি নিজের ঐতিহ্যবাহী আসন আমেথিতেও স্মৃতি ইরানির কাছে হারের বিষয়টি মেনে নেন রাহুল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রাহুল।

বিজেপি‘র বিজয়ের সংবাদের মাঝেই দিল্লিতে নিজেদের দলীয় সদরদপ্তরের সামনে ২০ হাজার দলীয় নেতাকর্মীর সামনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। নিজের ভাষণে মোদী বলেছেন, এই বিজয় গণতন্ত্রের, এই বিজয় জনগণের। বিশে^র সময় এসেছে ভারতের গণতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার।

নিজের ভাষণে মোদী বলেছেন, এই বিজয়ের কৃতিত্ব ১৩০ কোটি ভারতীয়র। তাই ১৩০ কোটি ভারতীয়র সামনে তিনি মাথা ঝুঁকে অভিবাদন জানাতে চান। তিনি জানান, তার ক্ষমতার মেয়াদেই মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্ম জয়শ্রী আর ভারতের স্বাধীনতার ৭৫তম জয়ন্তী পালন করা হবে। তিনি জাঁকজমকের সঙ্গে এই দুই জয়ন্তী পালন করতে চান।

মোদী বলেছেন, তার আমলে কোনো দুর্নীতির অভিযোগই উঠেনি। ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে এরকম কোন মেয়াদকাল আসেনি বলে মনে করেন তিনি।

মোদী বলেছেন, প্রতি লোকসভা নির্বাচনের সময়ই প্রধান ইস্যু থাকে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি, জীবনযাত্রার মান হ্রাস। কিন্তু বিরোধীদলগুলো চাইলেও এবার এই ধরনের ইস্যু তুলতে পারেনি। ফলে বিজেপি বড় জয় ঘরে তুলেছে।

৪৫ মিনিটের বক্তৃতায় মোদী বলেন, এই ভোট একবিংশ শতাব্দীর সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের জন্য। সরকার আসবে যাবে, কিন্তু ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দেশবাসী এক কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই জাত-পাতের রাজনীতির কারবারীদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে। এই দেশে এখন দু’টো জাতি, গরিবি থেকে যাঁরা মুক্তি পেতে চান, এবং গরিবি থেকে মুক্তি দিতে চান। এই দুই পক্ষের হাতই শক্ত করতে হবে।

এর আগে বক্তব্য রাখেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তিনি বক্তব্যের শুরুতেই মোদীকে ধন্যবাদ আর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রণাম জানান। অমিত দাবি করেন, স্বাধীনতার পর দেশে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছেন মোদী।

এই জয় দেশবাসীর জয়, ভারতের কোনায় কোনায় কাজ করা লাখ লাখ বিজেপি কর্মীর। এই পাঁচ বছরে ২৮ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য কাজ করেছে সরকার। বিভিন্ন কারণে এটা ঐতিহাসিক জয়, ৫০ বছর বাদে দেশে প্রথম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনও দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বাংলায় বিজেপির উত্থাানকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন অমিত শাহ।

এদিকে, নিজের দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আশা ত্যাগ না করার আহ্বান জানান রাহুল। তিনি বলেন, আমরা হেরে গেছি। এর মানে এই নয় যে, আমরা ন্যায়ের পথ থেকে সরে যাবো। আপনারা ভয় পাবেন না। হেরে গেলেও আমরা ন্যায়ের পথে থাকবো।

আমেথিতে হেরে যাওয়ার পরেও স্মৃতি ইরানির বিজয় মেনে নিয়েছেন রাহুল। তিনি আমেথির জনগনের খেয়াল রাখার জন্য স্মৃতির প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ৫ বছরের জন্য আমেথির জনগনের দায়িত্ব আপনার। দয়া করে তাদের প্রতি খেয়াল রাখবেন। তাদের যেনো কোন কষ্ট না হয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026