শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ: জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দুনিয়াজুড়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী।
শুক্রবার ম্যানিলা থেকে শুরু করে কোপেনহেগেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাস বাদ দিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের আকার সবচেয়ে বড় ছিল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ আর অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের মতো শহরগুলোতেও রাজপথে জমায়েত হয়ে জলবায়ু ইস্যুতে আওয়াজ তোলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ভূমিকার দাবিতে ২০১৮ সালে সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেওয়া শুরু করে স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ। তার এই অবস্থানের মধ্য দিয়ে দুনিয়াজুড়ে বেগবান হয় জলবায়ু আন্দোলন। তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে এই আন্দোলনে শামিল হয় লাখ লাখ মানুষ। প্রতি শুক্রবার পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিক্ষোভ।
আগামী সোমবার মাদ্রিদে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে ওই সম্মেলনের আগে শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন শহরে এ ইস্যুতে বিক্ষোভ বা জলবায়ু ধর্মঘট জোরালো হয়।
শুক্রবার মাদ্রিদের বিক্ষোভে যোগ দেয় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। দাবানলের কারণে ভুগতে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে আওয়াজ তোলে।
লন্ডনের বিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে মৌলিক ইস্যু হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি রাখার দাবি তোলা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচার হওয়া জলবায়ু বিতর্কে অংশ না নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সমালোচনা করেন আন্দোলনকারীরা। ১৭ বছরের মিলি হেডলি বলেন, আমি ভোট দিতে পারবো না। কিন্তু সরকারকে বুঝিয়ে দিতে চাই, এখানে থাকা সব শিক্ষার্থীর কথাই শুনতে হবে।
ম্যানচেস্টারে কয়েক হাজার তরুণ সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে জড়ো হয়। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এতে অংশ দেন। ওই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া কেইলি ওয়াটারহাউস (১৮) জানান, রাজনীতিবিদরা জলবায়ু পরিস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না দেখায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।