বিশ্বের বৃহত্তম বহুজাতিক নাগরিকের শহর লন্ডনের নগরপিতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বৃহস্পতিবার (২রা মে)।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত দশটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। নির্বাচনে টানা তিনবারের মেয়র হিসেবে রেকর্ড গড়ে নির্বাচিত হবার অপেক্ষায় আছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ইমিগ্রান্ট পরিবারের সন্তান সাদিক খান।
লেবার পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে কাজ করা সাদিক লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হন। সাদিক খানের বাবা ছিলেন একজন বাস ড্রাইভার এবং মা দর্জির কাজ করতেন।
ব্রিটেনে বসবাসরত প্রায় ১৭ লাখ বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বাস রাজধানী লন্ডনে। লন্ডনের ৩৩টি বারা বা কাউন্সিলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অর্ধশতাধিক লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলার বৃহস্পতিবার দিনভর সাদিক খানের পক্ষে শেষ মুহূর্তে ফোনে, ক্ষুদে বার্তায় ভোট প্রার্থনা করেন। সিলেটের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও সাদিক খানের পক্ষে ভিডিও বার্তায় ভোট চেয়েছেন।
লন্ডনের পরিবেশ রক্ষায় আল্ট্রা লো-ইমোশন জোন চালু করায় গাড়ি চালকদের খরচ বাড়ে সাদিক খানের আমলে। দুই বার মেয়র থাকার পরও সাদিক লেবার কনজারভেটিভ দ্বি-দলীয় বৃত্তের বাইরে তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা গড়তে সক্ষম হয়েছেন।
সাদিক খান আগামী ৪ বছর পুরো লন্ডনের স্কুলগুলোতে ফ্রি স্কুল মিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বাংলাদেশি ও ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির জন্য সাদিক খানের বিকল্প নেই।
অন্তত দশ শতাংশ ভোট বেশি পেয়ে সাদিক বিজয়ী হবেন বলে জানা যায়। লন্ডনে খেটে খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর আস্থার জায়গায় সাদিক খান রয়েছেন।
কনজারভেটিভের তুলনায় লন্ডন এবং জাতীয় উভয় ক্ষেত্রেই লেবার পার্টির শক্তিশালী নেতৃত্বের পরও সাদিক খান বলছেন যে, তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে রয়েছেন। অভ্যন্তরীণ সমালোচকরা তার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সাদিক যখন শুক্রবারের প্রকাশিতব্য ফলাফলে জয়ের প্রতীক্ষায় যেখানে তিনি ২০১৬ সালের মে মাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানা সংকট ও অব্যাহত বাজেট কাটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
মেয়র নির্বাচিত হবার আগে ২০০৫ সালে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন সাদিক খান। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপিয়ানদের লন্ডন ছাড়ার মিছিল লন্ডনের অর্থনীতিতে নেতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লন্ডনে বহুমাত্রিক কমিউনিটিতে সম্পর্কের টানাপড়েন, ব্রিটেনজুড়ে অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতার প্রজন্মগত অব্যাহত চ্যালেঞ্জ, শহরের শিশুদের সংখ্যা হ্রাসের মতোন ইস্যুগুলো সামনে এসেছে নির্বাচনের মাঠে।
মানুষ পরিবর্তন চায়। লন্ডনজুড়ে ক্রমবর্ধমান যানজট, আবাসন সংকটে জেরবার ভোটারদের ভোট নিশ্চিতভাবেই কনজারভেটিভের সুসান হলের বাক্সে যাবে।
লন্ডনের মেয়র পদে মোট ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও বিকাল সাড়ে পাঁচটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকায় কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক বেশি।
লেবার সমর্থক অধ্যুষিত লন্ডনে ভোটারদের উপস্থিতির গতি সাদিক খানের হ্যাটট্রিক বিজয়ের সম্ভাবনাকে কতটা বৃহস্পতির গতি দিল তা জানতে আজ শুক্রবার ফলাফল অবধি অপেক্ষা করতে হবে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ জনমত জরিপে টোরি প্রতিদ্বন্দ্বী সুসান হলের চেয়ে সাদিক অনেক এগিয়ে রয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, লন্ডনে অদৃশ্যমান কিছু রাজনৈতিক স্রোত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া ভোটের হার ও পোস্টাল ভোটের হিসেব সমীকরণকে কিছুটা বদলে দিতেও পারে।
Leave a Reply