সিলেটে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে যাওয়ায় কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল থেকে সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি প্রায় সবকটি পয়েন্টেই কমেছে। তবে সবকটি পয়েন্টে পানি এখনও বিপৎসীমার উপরে রয়েছে।
বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার বৃষ্টিপাত অনেকটা কমেছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছিল সিলেট আবহাওয়া অফিস। আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, বন্যার কারণে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি চলছে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও নেই শিক্ষার্থীরা। সার্বিক দিক বিবেচনায় ৮ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, ৮ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত থাকায় সিলেট বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র ও দ্বিতীয়পত্র এবং ইংরেজি প্রথমপত্র ও দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা আপাতত হবে না। পরবর্তী সময়ে এ চারটি বিষয়ের পরীক্ষার নতুন সময়সূচি জানিয়ে দেবে শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী- আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। অন্যদিকে কুরআন মাজিদ পরীক্ষা দিয়ে আলিম পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। আর কারিগরি বোর্ডের অধীনে এইচএসসির (বিএম/বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা হবে।
চলতি বছর সিলেট বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ৮২ হাজার ৪১৭ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এ বোর্ডের অধীনে কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭টি।
এরআগে বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতেও বৃষ্টিপাতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আজ বেলা ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সিলেটের আকাশে সূর্যের দেখা না মিলেলেও অনেকটা পরিষ্কার ছিল। তবে আবহাওযার পূর্বাভাসে সিলেটে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে।
এদিকে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সিলেটের অধিকাংশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ ও সদর উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় পানি কমার খবর পাওয়া গেছে। তবে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা এখনও কমেনি।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১৬ দশমিক ২৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা ১১টায় তা আরও কমে ১৬ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরে তা আরও কমতে থাকে। সর্বশেষ বেলা ১১টায় ১৩ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার।
সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১১ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সর্বশেষ বেলা ১১টায় এই পয়েন্টে ১১ দশমিক ০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টেও পানি কমেছে। এই পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।
সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে সকাল ৬টায় ১০ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা ১১টায় তা আরও কমে ৯ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার।
সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সকাল ৬টায় ৮ দশমিক ০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বেলা ১১টায় তা আরও কমে ৮ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, আজ সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১১০ দশমিক ২ মিলিমিটার। তিনি আরও বলেন, সিলেটে আজ ও আগামীকাল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণও হতে পারে।
Leave a Reply