শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সৌদিআরবে তিন নভেম্বর বৈধ হওয়ার সময় শেষ হলেও, শ্রমিকরা যে সকল কোম্পানিতে ইকামা ট্রান্সফারের জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়েছিল ওই সকল কোম্পানির অবহেলার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইকামা ট্রান্সফার করা সম্ভব হয়নি, আবার কেউ কেউ নিজের অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণেও বৈধ হতে পারেন নি। সৌদি আরবের বাদশার বিশেষ ক্ষমায় গত তিন নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ফেরত গেছেন ৩১ হাজার সাতশ’ ৩৮ জন বাংলাদেশি। বৈধ হতে না পেরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন আরো কয়েক হাজার বাংলাদেশি।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম জানান, যারা বৈধ হতে পারেন নি তাদের বৈধ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে। হেল্প ডেস্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারপরও যারা দেশে ফেরত যেতে চাইছেন, তাদের জন্য সৌদি আরবের রিয়াদে এবং জেদ্দা দূতাবাসে দু’টি করে মোট চারটি হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে। হেল্প ডেক্সে গত ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য এক হাজার একশ শ্রমিক যোগাযোগ করে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করিয়েছেন। হেল্প ডেস্কে যারা নাম তালিকাভুক্ত করছেন তারা সৌদি সরকারের খরচে দেশে ফেরত যেতে পারবেন বলে জানান সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রদূত।
প্রসঙ্গত: সৌদি বাদশার বিশেষ ক্ষমার সুযোগ গ্রহণ করে সাত লক্ষ ৯৯ হাজার একশ’ ৮৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক বৈধ হয়েছেন। এর মধ্যে আকামা(আইডি) ট্রান্সফার করেছেন চার লক্ষ ৩৬ হাজার চারশ’ ৭৩ জন, কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করেছেন তিন লক্ষ ৩০ হাজার নয়শ’ ৭৫ জন, বাংলাদেশে ফেরত গিয়েছেন ৩১ হাজার সাতশ’ ৩৮ জন। আরও ১১শ’ প্রবাসী দেশে ফেরত যাবার জন্য তাদের নাম তালিকাভুক্ত করিয়েছেন।
দূতাবাসের কতৃপক্ষ জানায়, যারা দেশে ফিরে যাবার জন্য নাম এন্ট্রি করিয়েছেন তাদের সৌদি সরকারের খরচে পর্যায়ক্রমে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং এছাড়াও যারা ফেরত যেতে চাচ্ছেন তাদের রিয়াদ এবং জেদ্দা দূতাবাসে নাম এন্ট্রি করে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা সৌদি প্রশাসনের কাছে রয়েছে জানিয়ে সূত্রটি আশঙ্কা করে, তাদের বিরুদ্ধে আগামী বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কম্বাইং অপারেশন চালাতে পারে। সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে সূত্র জানায়, এই দেশে ট্রাফিক আইন অমান্য করাকেও একটি ক্রাইম হিসেবে গণ্য করা হয়। এখানকার বাংলাদেশিদের উচিত হবে, ট্রাফিক আইনও যেন অমান্য না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।