ওয়েছ খছরু: চিরকুটের মৃত্যুপরোয়ানার আলটিমেটাম শেষ। উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিবকে। গাড়ি কিংবা চালকেরও কোন হদিস নেই। চিরকুটে বলা হয়েছিল, দুই দিনের মধ্যে তাদের হত্যা করা হবে। এ কারণে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান জোরদার করা হয়েছিল। সিলেট ও সুনামগঞ্জে পুলিশের একাধিক টিম ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে। ফলাফল শূন্য।
তবে, শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহর থেকে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। বিকাল পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য মিলেনি। আজ এক সপ্তাহ হলো। হঠাৎ করে গাড়িসহ গুম হন প্রবাসী নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব। ঘটনার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের নিশানা অনুযায়ী অভিযান শুরু করা হয় ময়মনসিংহ শহরে। সুনামগঞ্জের এডিশনাল এসপি হেমায়েতুল ইসলামের নেতৃত্বে চলে অভিযান। মুক্তাগাছায় করা হয় খোঁজ। এদিকে, নাম-ঠিকানাহীন চিরকুটের আলটিমেটাম শেষ হওয়ায় দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে স্বজনদের। নিখোঁজ মুজিবুর রহমানের স্বজন যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন ও ইলিয়াসমুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আলহাজ শেখ মকন মিয়া শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তারা নিখোঁজ মুজিবুর রহমানকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশের সহায়তা কামনা করেন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন, নিখোঁজ মুজিবুর রহমান ও তার গাড়িচালকের সন্ধানে সিলেট বিভাগ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোন গাফিলতি করা হচ্ছে না। তিনি মুজিবুর রহমানকে উদ্ধারে স্বজনদেরও সহায়তা কামনা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছাতকের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল মুকিতের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। পাওনা টাকার জন্য আবদুল মুকিতকে চাপ দিচ্ছিলেন মুজিবুর রহমান। এ কারণে নিখোঁজের পেছনে আবদুল মুকিতের হাত থাকার বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় সিলেট নগরীর জালালাবাদ এলাকায় আবদুল মুকিতের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এর বাইরে বেশ কয়েকজন পরিচিতজন ও আত্মীয়স্বজনের বাসায়ও তল্লাশি করা হয়। কিন্তু কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ মুজিবুরের ভাইপো আবুল হোসেন গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে সিলেটের পুলিশের একাধিক টিম মুজিবুর রহমানের সন্ধানে রয়েছে।