আহমেদ রাজু: আগামী ২৩ জুলাই ২ হাজার ১৩৬টি গাড়ি নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলো মংলা কাস্টমস হাউজ। সরকারের নির্দেশে নিলামের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। মংলা কাস্টমস হাউজের কমিশনার হুমায়ুন কবীর এটি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে টেলিফোনে নিলাম বাতিলে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা তাকে জানানো হয়েছে। জাতীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, গাড়ি আমদানিকারকরা ৩ বছর আগে ২০০৪, ২০০৫ এবং ২০০৬ মডেলের প্রায় ৪ হাজার গাড়ি আমদানি করেছে। কিন্তু, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারিং পারমিট (সিপি) না পাওয়ায় এগুলো ছাড় করাতে পারেনি আমদানিকারকরা। তাই গাড়িগুলো বছরের পর বছর পরে আছে চট্রগ্রাম বন্দর এবং মংলা কাস্টমস হাউজে। গাড়িগুলো ইতোমধ্যেই আমদানি নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সাবেক সভাপতি আবদুল হক জানান, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ধর্ণা দিয়েও তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পান নি। তাই গাড়িগুলো দীর্ঘদিন পোর্টে পড়ে আছে। তিনি জানান, সর্বশেষ অর্থমন্ত্রী গাড়িগুলো ছাড়ের নির্দেশ দিলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো তাতে কর্ণপাত করেনি। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ না মেনেই রাজস্ব বোর্ড গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সূত্র জানায়, গাড়িগুলোর ব্যাপারে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে কিছু দিন আগে একটি কমিটি করে সরকার। কমিটি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তথাপি রাজস্ব বোর্ড নিজের সিদ্ধান্তে গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলো। গাড়ি আমদানিকারকরা নিলামের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি না করার নির্দেশ দেন তিনি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গাড়িগুলো আমদানি করতে বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আমদানিকারকরা ঋণ নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই গাড়ির মূল্যের টাকা বিদেশে চলে গেছে। তাই এগুলো নিলামে বিক্রি করলে আমাদিনকারকরা দারুণ ক্ষতির মুখে পড়বেন।
দীর্ঘ সময় বন্দরে পড়ে থাকায় বিপুল অংকের টাকা পোর্ট চার্জ বকেয়া রয়েছে। গাড়িগুলো ছাড় না করালে সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হবে। এ সব বিষয় বিবেচনা করে সরকার গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে। কিছু দিন ধরে গাড়িগুলো নিষিদ্ধ করে ধ্বংস করে দেওয়ারও পরামর্শ দিয়ে ছিলো কোন কোন মহল। কিন্তু গাড়ি ধ্বংস করার কোনো প্রযুক্তি বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া ধ্বংস করলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। দরিদ্র দেশের জন্য এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক হবে না। তাই সরকার এগুলো ধ্বংস করার পরামর্শ গ্রহণ করেনি।