সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪

সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে চাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে চাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দরকার বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পরমাণু বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম। তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি যত বাড়বে ওই দেশের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তত হ্রাস পাবে। মানুষ হতাশা আর অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতেও সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)-র ১১০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এমসিসিআই’র সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী, এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, ডিসিসিআই সভাপতি শাহজাহান খান প্রমুখ।

বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের যে ঝুঁকি তা দূর করতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে এপিজে আবদুল কালাম বলেন, দরিদ্রতা না থাকলে সন্ত্রাসের প্রবণতাও কমে আসবে। আর দরিদ্রতা থাকলে সন্ত্রাসের প্রকোপ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, কি জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাড়ছে আগে সেটা চিহ্নিত করতে হবে। তারপর সে অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। আর এক্ষেত্রে প্রয়োজন অর্থনৈতিক উন্নয়ন।

ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাণিজ্যের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে। যেসব প্রতিবন্ধকতার জন্য বাণিজ্য বাড়ছে না তা আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ আমদানি আসে ভারত থেকে। প্রতি বছর দুই দেশের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এ বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশিও হওয়া সম্ভব। এ বাণিজ্য হলে দুই দেশই লাভবান হবে।

ড. এপিজে আবদুল কালাম বলেন, বিশ্ব থেকে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার নিরসন করে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কারণ পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ভারতের পাট শিল্পও সম্ভাবনাময়ী। এ বিষয়ে দুই দেশের বেসরকারি খাত এগিয়ে আসতে পারে। তবে এ নিয়ে কোন ভিশন, মিশন ও ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন আবদুল কালাম।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে বন্ধুত্ব বিরাজমান উল্লেখ করে এপিজে আবদুল কালাম বলেন, ৫৪টি নদী এ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করেছে। বড় দু’টি নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এ দুই দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনেও এ দুই দেশ অংশীদার। সাংস্কৃতিক দিক থেকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কবি নজরুল ইসলাম দুই দেশের মধ্যে অভিন্ন ধারা তৈরি করেছেন।

ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, সার্ক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য কিছু সুযোগ রয়েছে। এ অঞ্চলে মোট ১৪৭ কোটি মানুষ বাস করে। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৫ ভাগ। তাছাড়া, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত অনেক মিল রয়েছে, যা ব্যবসায়িক উন্নয়নের জন্য খুবই ইতিবাচক। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব যেসব ঝুঁকি মোকাবিলা করছে সেগুলো হলো- দরিদ্রতা, অশিক্ষা, নিরাপদ খাবার পানির অভাব, সম্পদের অদক্ষ বণ্টন, মূল্যবোধভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব এবং সুচিকিৎসার অভাব। এ বিষয়গুলোকে সব দেশ মিলে মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নয়নের একটি ভিশন থাকতে হবে। গ্রাম ও শহর, ধনী ও দরিদ্র এবং উন্নত ও উন্নয়নশীলদের মধ্যে পার্থক্য যেন সংকীর্ণ হয়ে আসে। এনার্জি ও খাবার পানির পর্যাপ্ত ও দক্ষ বণ্টন নিশ্চিত হতে হবে। সব দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা, সুচিকিৎসা, সুশাসন, দুর্নীতি মুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং শিশু ও নারীদের জন্য অত্যাচারমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি এবং সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে হবে। বিশেষ করে সার্কভুক্ত অঞ্চলের জনগণ যেহেতু সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ তাই এখানে সম্পদের বণ্টনে বেশি দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এসব কিছু সম্ভব করতে পিইউআরএ (প্রোভাইডিং আরবান এমিনিটিস ইন রুরাল এরিয়াস) বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। এটাই হতে পারে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার উপায়।

এপিজে আবদুল কালাম বলেন, শহর অঞ্চলের সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের সড়ক এবং রেলওয়ের মাধ্যমে সরাসরি যোগযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। এছাড়া গ্রামে মানসম্মত স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতাল থাকা প্রয়োজন। গ্রামাঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তির সহজপ্রাপ্তি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে। এছাড়া সব ধরনের জ্ঞান অর্জনের সব মাধ্যম ও সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হলে গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন হবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। এ ধরনের উন্নয়ন হবে দেশের টেকসই উন্নয়ন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এমসিসিআই বাংলাদেশে স্পেশাল সার্ভিস দিচ্ছে শুধু ব্যবসায়িক খাতে নয়, অন্যান্য খাতেও ভাল অবদান রাখছে। প্রতিবছরই তারা বাজেট প্রস্তাবনা দিয়ে সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির সবখাতে যথেষ্ট প্রাধান্য দেয়া হয়। ফলে কৃষি উন্নয়নে ভাল ফল পাওয়া গেছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, অনেক দেশে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও আমেরিকায় বাংলাদেশী পণ্য প্রবেশে তেমন সুবিধা নেই। তবে আমেরিকার বাজারে অবাধে পণ্য প্রবেশের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর শূন্য থেকে শুরু করে বর্তমানে সব খাতের প্রবৃদ্ধি ও উন্নতি হয়েছে। রপ্তানি বেড়েছে, রিজার্ভ ও রেমিটেন্স বেড়েছে। নতুন নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে।
এমসিসিআই’র সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যবসায়ী সংগঠন হিসেবে এমসিসিআই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ দ্বিতীয়। খুব শিগগিরই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে।

গওহর রিজভী বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে। বাংলাদেশের উন্নয়নকে অনেকে জাদু মনে করে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দু’দিক থেকেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে খাদ্য সঙ্কট থেকে বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে রপ্তানি করতে সক্ষম। এটা বড় সাফল্য।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026