অন্যকিছু ডেস্ক: শিক্ষার কোন বয়স থাকে না। সে কথাই প্রমাণ করলেন নেপালের ৬৮ বছর বয়সী এক গ্রান্ডফাদার বা দাদা। তার নাম দুর্গা কামি। এই বয়সেও তিনি নাতিপুতিদের বয়সী সহপাঠীদের সঙ্গে ক্লাস করেন। এক হাতে লাঠি ভর দিয়ে স্কুলে যান। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলেন। তাকে নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় ফলাও করে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। বুধবার অনলাইন বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
তা
তে তার বিভিন্ন সময়ের ছবি যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ছবিতে দেখা যায়, সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছেন। পরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে তিনি লাঠি হাতে স্কুলে যাচ্ছেন। তাকে স্কুলে যেতে অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয়। পরের ছবিটি তার দশম শ্রেণীর ক্লাসরুমের। সেখানে বসা ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী সহপাঠীরা। তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি শিক্ষকের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন।
এরপরের ছবিতে দেখা যায় তিনি হয়তো কোন পরীক্ষা দিচ্ছেন, নাহয় ফরম পূরণ করছেন। একজন শিক্ষক তার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। এর পরে যে ছবিটি রয়েছে তাতে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্গা কামি। তারা তার সহপাঠী। তারপরের ছবিটি তার হাতের লেখার। ঝরঝরে হাতের লেখা। পরের ছবিতে তিনি দাড়ির প্রতি যত্ন নিচ্ছেন। পরে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে ভলিবল খেলছেন। পরের ছবিতে তিনি একটি ঘরের দরজায় বসে আছে। সেটা খুব সম্ভব তার স্কুল গৃহ। দুর্গা কামি দারিদ্র্যের জন্য পড়াশোনা করতে পারেন নি শৈশবে।
কিন্তু তার মন থেকে কখনো পড়াশোনার ইচ্ছা হারিয়ে যায় নি। এখন নতুন করে তিনি স্বপ্ন দেখছেন একজন শিক্ষক হওয়ার। এখন দশম শ্রেণীর ছাত্র তিনি। এরই মধ্যে হয়ে গেছে রেজিস্ট্রেশন। সামনেই পরীক্ষা। রয়েছে তার ৬টি ছেলেমেয়ে। আর আছে ৮ জন নাতিপুতি। দুর্গা কামির শিক্ষকরা বলেন, আমার পিতার বয়সী একজন মানুষকে শিক্ষা দেয়ার এটাই আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। সহপাঠীরা তাকে নাম দিয়েছে ‘বা’। নেপালি ভাষার এ শব্দটির অর্থ হলো পিতা।
দুর্গা কামি বলেন, আমি নানা দুঃখ কষ্ট ভুলে থাকার জন্য স্কুলে যাই। সহপাঠীদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেই। এতে মন ভাল হয়ে যায়। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি একেবারে একা হয়ে পড়েছেন। সেই একাকীত্ব ঘোচাতে তিনি ছুটে যান স্কুলে। তিনি রাতে পড়াশোনা করেন টর্চ লাইট জ্বালিয়ে। খাবার খান না রাতে। কারণ, তিনি খাবার যোগাড় করতে পারেন না।
একজন ফটোসাংবাদিক বলেন, তিনি খুব শক্ত মানুষ। তার মধ্যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে। তিনি জ্ঞানীও। দুর্গা কামির কথা মৃত্যুর সময় পর্যন্ত আমি পড়াশোনা করে যেতে চাই। অন্যদের তিনি বয়সের বাধা পেরিয়ে সাহসী হতে বলেন।