নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর সম্পর্কে তথ্য নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন রিজভী আহমেদ সিজার (৩৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে এফবিআই’র এক কর্মকর্তাসহ আরও দুই জনকে। এরা যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট থেকে গোপনীয় তথ্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘুষ দিয়ে রিজভী আহমেদ ও বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতার নিজের ও তার সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে। ঘুষ দিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এরা। এই ঘটনায় আটক অপর দুই জন হচ্ছেন রবার্ট লাস্টিক (৫০) ও জোহানেস থালের( ৪৯)। এদের মধ্যে লাস্টিক এফবিআই’র হোয়াইট প্লেইনস রেসিডেন্ট এজেন্সির সদস্য। থালের তারই বন্ধু। আর এই থালেরের মাধ্যমেই রিজভী আহমেদ ওরফে সিজার ঘুষ দিয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এফবিআইতে নিজের পদবি বলেই অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগ বিষয়ক যেসব নথিপত্র লাস্টিকের আওতাভূক্ত সেগুলোই পেতে চেয়েছিলেন সিজার। শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় সিজার ও থালেরকে। দিনের পরের ভাগে হোয়াইট প্লেইনস এর কেন্দ্রীয় আদালতের বিচারক জর্জ এ ইয়ানথিসের আদালতে হাজির করা হয়।
জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নেতা কিংবা নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই বাংলাদেশি নাগরিক বিরোধী দলের সঙ্গে যুক্ত বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই তিন জনের বিরুদ্ধেই চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগটি লাস্টিক, থালের ও সিজার তিন জনের বিরুদ্ধেই। তারা সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন। দ্বিতীয় অভিযোগটি লাস্টিক ও থালেরের বিরুদ্ধে। তারা ঘুষ লেনদেনে মধ্যস্থতা ও ঘুষ গ্রহণ করেছেন। তৃতীয় অভিযোগটি সিজারের বিরুদ্ধে। তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছেন। এবং চতূর্থ অভিযোগটি লাস্টিকের বিরুদ্ধে। তিনি ঘুষ নিয়ে সরকারি নথি ফাঁস করতে চেয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, লাস্টিক, থালের ও সিজার মিলে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় ওই গুরুত্বপূর্ণ নেতার বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে গচ্ছিত তথ্য পেতে চেষ্টা চালিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে এই অপরাধে রিজভী আহমেদ সিজারের ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। এছাড়া লাস্টিকের সর্বোচ্চ ২৫ বছরের এবং থালেরের সর্বোচ্চ ২০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে লাস্টিক ও থালেরের মধ্যে সেল ফোনে টেক্সট মেসেজ বিনিময় হয়েছে। এতে রিজভী আহমেদ সিজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কিভাবে বাড়তি অর্থ আদায় করা যায় সে সংক্রান্ত মেসেজও রয়েছে। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সিজারের কাছে লাস্টিক ও থালের মাসিকভিত্তিতেও ঘুষ চেয়েছিলেন। রিজভী আহমেদ সিজারের আসল উদ্দেশ্যই ছিলো বাংলাদেশের ওই রাজনৈতিক নেতার ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে ওইসব তথ্য সংগ্রহ করা।
যেমন লাস্টিক থালেরকে বলছেন…আহমেদকে আমাদের চাপ দিতে হবে যাতে ৪০ জিএস খুব দ্রুত পাওয়া যায়। আমরা নগদ অর্থ পেতে কথা বলবো। আমি আমার ম্যাজিক ব্যবহার করবো। আমরা খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। জবাবে থালের লিখেছেন, আমি জানি সব কিছুই এখন আমাদের সামনে। খুব শিগগিরই আমরা ওসেনফ্রন্ট রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে পারবো। অভিযোগ মতে, লাস্টিক ও থালের এই কাজের বিনিময়ে ১ হাজার ডলার নিয়েছেন রিজভী আহমেদ সিজারের কাছ থেকে।
Leave a Reply