শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯

আবারও ব্যাটারি রিকশার রাজত্ব

আবারও ব্যাটারি রিকশার রাজত্ব

এস এম রানা: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। সিটি করপোরেশনও এসব রিকশাকে লাইসেন্স দেয়নি। তবু সড়কে চলছে এদের রাজত্ব।

লে রিকশার সৌজন্যে যানজট হয়ে যাচ্ছে নগরবাসীর জন্য নিত্যদিনের উপহার! চলাচল নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কেন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন?-জানতে চাইলে মুরাদপুর মক্কা হোটেলের সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকা ব্যাটারি রিকশাচালক রবিউল ইসলাম বললেন ভিন্ন কথা।

তাঁর ভাষায়, আমরা গরিব মানুষ। আদালতের নির্দেশনা কী জানি না। পেটের দায়ে পুলিশকে দৈনিক ৪০ টাকা দিয়ে রিকশা চালাই। সকাল-সন্ধ্যা দুই দফায় ২০ টাকা করে ৪০ টাকা না দিলে তো পুলিশ এখানে দাঁড়াতেই দেয় না।

কোন পুলিশ টাকা নেয়? থানা পুলিশ নাকি ট্রাফিক পুলিশ? এমন প্রশ্ন শুনে বিরক্ত রবিউল। বললেন, ‘পুলিশের আবার জাত কী? পুলিশ তো পুলিশই। তবে তাদেরও ইজ্জত আছে। নিজে নেয় না। নির্দিষ্ট লোক আছে। তারাই টাকা তুলে পুলিশের কাছে পৌঁছে দেয়। ’

রবিউলের কথায় মন ভরেনি পাশের রিকশাচালক আবদুল হান্নানের। আনুমানিক ৫০ বছর বয়স্ক এই রিকশাচালক বললেন আরেক কথা।

তাঁর ভাষায়, ব্যাটারি রিকশা আগেও চলেছে। এখনও চলছে। সুবিধা হলো, ব্যাটারি রিকশার কাগজপত্র লাগে না। পুলিশ ধরে মামলা দিতে পারে না। শুধু সমিতির একটি সাইনবোর্ড থাকলে গাড়ি চালানো যাচ্ছে। বাড়তি কিছু টাকা সমিতি ও পুলিশ নিলেও ক্ষতি নেই। দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীতে প্রায় এক বছর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ব্যাটারি রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।

ওই সময় ট্রাফিক পুলিশ ব্যাটারি রিকশা উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছিল। এর পর কয়েক মাস এসব রিকশা বন্ধ থাকলেও নগরীর অলিগলিতে পুনরায় ব্যাটারি রিকশা চলাচল শুরু হয়। প্রথম প্রথম অলিগলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রধান সড়কেও ব্যাটারি রিকশার রাজত্ব চলছে। শুরুর দিকে সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স পাওয়ার দাবি জানিয়েছিল ব্যাটারি রিকশা-মালিক শ্রমিক সংগঠনগুলো।

পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনও জানিয়ে দেয়, ব্যাটারি রিকশা চলাচলের অনুমতি বা লাইসেন্স দেওয়া হবে না। চালকেরা জানিয়েছেন, সরকারদলীয় কিছু শ্রমিক নেতা বিভিন্ন সংগঠনের নাম দিয়ে সমিতি গঠন করেছে। সমিতির নামের শেষে লীগ শব্দটি যোগ করে বুঝানো হচ্ছে এসব সমিতি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন।

ব্যাটারি রিকশাসংশ্লিষ্ট সংগঠনের নাম দেখে পুলিশও সহজে সেদিকে চোখ দেয় না। এই সুযোগে ব্যাটারি রিকশা চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে সমিতিগুলো। একই সঙ্গে পুলিশও সেখানে ভাগ বসাচ্ছে।

অবৈধ এসব রিকশা চলাচল করলেও সিটি করপোরেশন কার্যকরভাবে বাধা দিচ্ছে না। তবে সম্প্রতি অভিযান শুরু করেছেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজীদা শরমিন। তিনি জানান, নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। পাশাপাশি লাইসেন্স ছাড়া সাধারণ রিকশার বিরুদ্ধেও সিটি করপোরেশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নগর ট্রাফিক পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) সুজায়েত ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনার পর থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাটারি রিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিনই অভিযান চলছে। তবে যেসব সড়কে ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি নেই সেসব গলিপথে ব্যাটারি রিকশা চলছে।

ব্যাটারি রিকশা থেকে পুলিশ দিনে ৪০ টাকা হারে আদায় করছে-এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই। ব্যাটারি রিকশাচালক, সমিতি বা অন্য কোনো ব্যক্তি কখনো এ ধরনের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত এক সপ্তাহে ৪৫০টি ব্যাটারি রিকশা জব্দ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিদিন দুটি ট্রাক নিয়ে পুলিশের একটি দল একেক থানা এলাকায় যাবে। ব্যাটাারি রিকশা জব্দের পর সেগুলো ডাম্পিং স্টেশনে এনে রাখা হবে। এসব রিকশা ও ব্যাটারি জব্দের পর ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি জানান, ব্যাটারি রিকশার কারণে ডাম্পিং স্টেশনে বিস্ফোরণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই কারণে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে ব্যাটারিগুলো শিগগিরই ধ্বংসের উদ্যোগ নেবে ট্রাফিক পুলিশ।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026