সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪৬

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর আজ

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর আজ

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ওয়াশিংটন ডিসি / ১১১
প্রকাশ কাল: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আজ থেকে দুই দশক আগে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে গিয়েছিলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।  দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকী আজ।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে গিয়েছিলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করে। একই দিন ভার্জিনিয়ার আরলিংটনে তৃতীয় বিমান হামলা করে। ২০ হাজার গ্যালন জেট ফুয়েল ভর্তি আমেরিকান এয়ারলাইনসের বোয়িং-৭৬৭ উড়োজাহাজ আঘাতে হেনেছিলো নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায়।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে ছিনতাইকারীরা ছোট ছোট দলে পূর্ব আমেরিকার আকাশপথ দিয়ে ওড়া চারটি বিমান একইসঙ্গে ছিনতাই করে। তার পর বিমানগুলো তারা ব্যবহার করে নিউইয়র্ক আর ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আঘাত হানার জন্য বিশাল ও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আল কায়েদার এই সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলায় মারা যায় ৭৭টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ২,৯৭৭ জন (১৯ জন ছিনতাইকারী বাদে)। চারটি বিমানের ২৪৬ জন যাত্রী এবং ক্রুর প্রত্যেকে মারা যান। টুইন টাওয়ারের দুটি ভবনে মারা যান ২,৬০৬ জন- তাৎক্ষণিক ও পরে আঘাত থেকে পেন্টাগনের হামলায় প্রাণ হারান ১২৫ জন। নিউইয়র্ক শহরে যারা প্রথম ঘটনাস্থলে জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় দৌড়ে যান, তাদের মধ্যে মারা যান ৪৪১ জন। ৬,০০০-এর অধিক মানুষ আহত হয় এবং ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

নাইন-ইলেভেনে সন্ত্রাসী হামলার আশু প্রতিক্রিয়া ছিল আফগানিস্তানে পালটা মার্কিন হামলা। আল কায়দার সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নিতে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা এখন শেষ। দেশটি থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে মার্কিন সেনা। ক্ষমতায় এসেছে তালেবান। কিন্তু ২০ বছর পরও সারেনি সেই নাইন-ইলেভেনের ক্ষত। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তির আগে প্রকাশিত এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এক দশকেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্টে সম্পৃক্ত ছিল ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্স। তাদের সঙ্গে সহপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির দুজন মেধাবী গবেষক স্টফানি স্যাভেল ও ক্যাথরিন লুৎজ।

১ সেপ্টেম্বর ওয়াটসন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ইভেন্টে অধ্যাপক ক্যাথরিন বলেন, যুদ্ধটি ছিল দীর্ঘ, জটিল ও ভয়াবহ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে এবং ৮০টিরও বেশি দেশে যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের লাভ-ক্ষতি কত? প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজতে গেলে, দেখা যাবে, এই হামলা শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একতাবদ্ধ করেনি বরং নিরাপত্তা, অভিবাসননীতিও বদলে দিয়েছে। বর্ণবৈষম্য, জাতিগত বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বাড়িয়েছে। েনাইন-ইলেভেনের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হামলার পর প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধস নামে। এক মাসেই চাকরি হারান ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। ধারণা করা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছিল। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ, মধ্য এশিয়ার ছোট দেশ আফগানিস্তান ছাড়িয়ে ইরাকে পৌঁছে যায়, এমনকি আফ্রিকা পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ঘটে। ইরাকে এই সংঘাতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ আমেরিকান সেনা সদস্য এবং লাখ লাখ বেসামরিক লোক প্রাণ হারান।

এরপর আফগানিস্তান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর আরও কয়েকটি দেশে যুদ্ধ করতে গেছে। আফগানিস্তান ছাড়াও সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়ায় চালানো সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একদিকে ছিল ব্যয়বহুল, অন্যদিকে বহু আমেরিকান সৈন্যকেও এসব যুদ্ধে প্রাণ দিতে হয়েছে। শুধু আফগানিস্তান যুদ্ধেই দেশটির খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সৈন্য। ৯/১১ হামলা যেভাবে বিশ্বকে বদলে দেয়! মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ট এবিসি নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, ৯/১১ জঙ্গি হামলা তিনভাবে বিশ্বকে বদলে দিয়েছে। প্রথমত, নিরাপত্তা নজরদারি বেড়েছে বহুগুণে। বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর প্রবেশপথে এরপর থেকে নজরদারির জন্য ইলেকট্রিক মেশিনের ব্যবহার বেড়েছে। বিমানের যাত্রীদের তল্লাশি নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ জন ব্লাক্সল্যান্ড এবিসিকে বলেন, ঐ হামলার আগ পর্যন্ত বিমান ছিনতাই হতো জিম্মি করে অর্থ আদায় বা এর বিনিময়ে সুবিধা নেওয়ার জন্য। কিন্তু বিমানকে যে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এ হামলার আগে কেউ কল্পনাও করেনি। জঙ্গিবিরোধী পলিসি বিশেষজ্ঞ লাইদিয়া খলিল বলেন, নিরাপত্তা নজরদারির কিছু পদক্ষেপ জরুরি ছিল। কিন্তু ঐ হামলার পর এসব বিষয় এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ‘ইসলামি’ সন্ত্রাসবাদ এবং মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি বেড়েছে। ৯/১১ হামলার আগে সন্ত্রাসবাদ শব্দটি ঘরে ঘরে পরিচিত ছিল না। লাইদিয়া খলিল বলেন, এই হামলার আগে আল-কায়েদার নাম শুনেছিল এমন মানুষের সংখ্যা ছিল খুবই কম। কিন্তু হামলার এক বছর পর এটি সবারই জানা ছিল। এখন কোটি কোটি মুসলিম ঐ হামলার প্রতিক্রিয়া অনুভব করে। অনেক বৈশ্বিক নীতি তাদের জন্য বৈরী হয়ে দেখা দিয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন মুসলিমবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই!

তৃতীয়ত, অন্তহীন যুদ্ধ। এই হামলার পর আফগানিস্তানে আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এর ১৮ মাসের মধ্যে ইরাকেও সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এসব যুদ্ধ শুধু সম্পদ ও প্রাণহানির কারণ হয়েছে। আল-কায়েদার তত্কালীন প্রধান ওসামা বিন লাদেন মার্কিন বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু জঙ্গি মতাদর্শ ছড়িয়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধে হয়তো আল-কায়েদা দুর্বল হয়েছে কিন্তু তাদের বিস্তৃতি এখন এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশেই। যুক্তরাষ্ট্রে হয়তো হামলার আশঙ্কা কমেছে কিন্তু সন্ত্রাসীদের একেবারে নির্মূল করা যায়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, বিশেষ করে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বেড়ে ওঠার সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৯/১১ হামলার ২০তম বার্ষিকীতে নিহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তিনি আজ তিনটি হামলাস্থল পরিদর্শন করবেন। বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন প্রথম নিউ ইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার সাইট ‘গ্রাউন্ড জিরো’তে যাবেন। এখানে দুটি বিমান হামলায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করে। যার ফলে নিহত হয় ২ হাজার ৭৫৩ জন। এরপর তারা হামলার বাকি দুটি ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করবেন।

৯/১১-এর সেই হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল ২ হাজার ৯৯৬ জন। আহত হয়েছিল আরও কয়েক হাজার মানুষ। ওই হামলা পুরো বিশ্বকেই বদলে দিয়েছে। আর ওই হামলার জবাব দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ওই হামলার পর দীর্ঘ দুই দশকে বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আসলে কোথায়? কী হারিয়েছে দেশটি? আর কী-ই বা পেয়েছে। ওপরের প্রশ্নগুলোর জবাব খুঁজতে গেলে, দেখা যাবে, এই হামলা শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একতাবদ্ধ করেনি বরং নিরাপত্তা, অভিবাসননীতিও বদলে দিয়েছে। বর্ণবৈষম্য, জাতিগত বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক অপরাধ বাড়িয়েছে।

নাইন-ইলেভেনের হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। হামলার পর প্রথম দিনেই নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধস নামে। এক মাসেই চাকরি হারান ১ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ। ধারণা করা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির এক হিসাবে বলা হচ্ছে, ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার পর আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান ও সিরিয়াতে যুদ্ধ-বাবদ যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ান ডলার। এই বছর আগস্টের শেষ নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর থেকে বাইডেন প্রশাসন গত ২০ বছরকে পেছনে ফেলে রেখে আসার জন্য বেশ কিছু চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনাবলীর ওপর আলোকপাত করতে পারে এমন কিছু নথিপত্রকে গোপনীয়তামুক্ত করেছে। একইসঙ্গে আমেরিকানদের প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলকারী তালেবান সরকার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের দিন শেষ হয়ে আসছে কি না, তা যদি বিবেচনা করি, তবে কিছুদিন আগে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বক্তব্য থেকে দেখা যায়, আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তের পক্ষে জোর গলায় যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি অন্য আরেকটি দেশ পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের যুগের অবসান ঘটানোর কথা ঘোষণা করেছেন।

বাইডেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। কোনো যুদ্ধে যাওয়ার আগে পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। তবে জাতি কিংবা রাষ্ট্র গঠনে তার দেশ আর জড়িত হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ৬০-এর দশক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত যেভাবে আচরণ করে আসছে, সারা বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যের নতুন বাস্তবতার কারণে সেখানে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। মানবাধিকার রক্ষার জন্য তার দেশ অন্তহীন কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সবসময় সচেষ্ট থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের শিক্ষক ড. আলী রীয়াজ মনে করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো যুদ্ধে জড়িত হবে না; এরকমটা ভাবার কোনো কারণ নেই। সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে সেখানে জাতীয় স্বার্থ কতোটুকু আছে এবং তাতে অন্যদের সংশ্লিষ্ট করা যায় কিনা। বাইডেন বলেছেন কেউ জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করলে তাকে শায়েস্তা করা হবে।

আবার যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাউথ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও যোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক শফিকুর রহমান মনে করেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই ঘোষণা রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়। ৯/১১ এর আগে পশ্চিমা দেশগুলো অন্য যেসব দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে, তুলনামূলকভাবে সেগুলো ছিল অনেক দ্রুত এবং সহজ। সিয়েরা লিওন, কসোভো, বা এমনকি ১৯৯১ সালের ডেজার্ট স্টর্ম অভিযান- এই সবগুলো অভিযান শেষ করার একটা নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা ছিল।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আফগানিস্তান এবং ইরাকে যে আক্রমণ চালানো হলো, তার পরিণামে যে যুদ্ধ শুরু হলো, তাকে বলা হচ্ছিল ‘চিরকালের যুদ্ধ’। ২০০১ এবং ২০০৩ সালে যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা কেউ ধারণা করতে পারেনি যে দুই দশক পরও এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। সোজা কথায় বললে, পশ্চিমা দেশগুলো আসলে বুঝতেই পারেনি যে তার কীসের মধ্যে গিয়ে পড়ছে, এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার কোন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাও ছিল না।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে হামলার স্থান, যেখানে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হয়েছিল, সেই ‘গ্রাউন্ড জিরো’র ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে সময় লেগেছিল আট মাসেরও বেশি। ওই জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে জাদুঘর, সঙ্গে স্মৃতিসৌধও।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021