মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৪৪

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখন কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখন কোথায়

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ওয়াশিংটন ডিসি / ৭৩
প্রকাশ কাল: শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকী নানাভাবে স্মরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাসের ওই ঘৃণ্য হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। প্রায় দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তাতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে হাজির হন ওসামা বিন লাদেন, হামিদ কারজাই, জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং কলিন পাওয়েলসহ আরও বেশ কয়েকজন।

ওসামা বিন লাদেন

যিনি জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর তার নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। আফগানিস্তানের গুহায় বসে তিনি কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাতে পারেন, তা নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে জনমনে। তাকে ধরতে দীর্ঘদিন অভিযান পরিচালনা করে পশ্চিমা বাহিনী। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিহত হন লাদেন।

হামিদ কারজাই

সেই সময় তালেবান গোষ্ঠী ও আল কায়েদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পশ্চিমাদের কাছে শক্ত তদবির করেন হামিদ কারজাই। এর পরেই আফগানিস্তানে পা রেখে তালেবান সরকারকে উৎখাত করে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী। পরবর্তীতে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন হামিদ কারজাই। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। বেশ কয়েকবার মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যান তিনি। বর্তমানে দেশটির অন্যতম রাজনীতিবিদ। আফগানিস্তানের ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে সম্প্রতি তালেবান গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হয় তার।

জর্জ ডব্লিউ বুশ

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ তম প্রেসিডেন্ট বুশ। ফ্লোরিডার একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীতে ‘দ্য পেট গোট’ বই পড়ানোর সময় প্রেসিডেন্ট বুশকে সন্ত্রাসী হামলার খবর দেওয়া হয়। ঘটনার দিন রাত ৮টা ৩০ মিনিটে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বুশ ঘোষণা দেন এই জঘন্য হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে। তখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্বও দেন তিনি। টেক্সাসের তৈলচিত্রের জন্য দীর্ঘদিন অবসর নেন বুশ। সম্প্রতি আফগানিস্তানের ঘটনাগুলো নিবিড়ি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডিক চেনি

৯/১১-এ হামলার সময় ডিক চেনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্ত ছিলেন। ওই দিন গোয়েন্দা সংস্থা যখন প্রেসিডেন্ট বুশের নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি হোয়াইট হাউসের বাংকারে ঢুকে পড়েন। পাঁচবার হার্ট অ্যাটাকের পর তিনি এখনও বেঁচে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জীবিত ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে প্রবীণ ধরা হয়।

রুডি গিলিয়ানি

এক সময় নিউইয়র্কের জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন রুডি গিলিয়ানি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর বিধ্বস্ত নগরীকে দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছিলেন গিলিয়ানি। জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অপেরা উইনফ্রে তাকে ‘আমেরিকার মেয়র’ হিসেবে সম্বোধন করেন। টাইম ম্যাগাজিন গিলিয়ানিকে বর্ষসেরা ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

কন্ডোলিৎজা রাইস

বুশের শাসনামলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আল কায়েদার হামলার আশঙ্কা করেন। এ বিষয়ে তৎকালীন সিআইএর পরিচালক জর্জ টেনেটনের সঙ্গে আলোচনাও করেন তিনি। তিনি এখন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হুভার ইনস্টিটিউশনের পরিচালক।

কলিন পাওয়েল

প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন কলিন পাওয়েল। ৯/১১ তিনি পেরুর রাজধানী লিমায় অবস্থান করছিলেন। ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘে মামলা করতে চেয়েছিলেন কলিন। এজন্য তখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কপিট্যাল হিলে হামলার পর রিপাবলিকান পার্টি ত্যাগ করেন কলিন পাওয়েল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021