গত ৩২ বছরের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছে হতাশার আরেক নাম ছিল ‘২০২৩ নারী বিশ্বকাপ।’ গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে কোয়াটার ফাইনাল পর্যন্ত বাদ পড়ে সাবেক চ্যাম্পিয়ন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, নরওয়ে ও জাপান।
তবে এবারের আসরে চমক দিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে স্পেন ও ইংল্যান্ড। রোববার অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সিডনি অলিম্পিক স্টেডিয়ামে সোনালী ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নেমেছিলো এই দুই ফাইনালিস্ট।
এই লড়াইয়ে ইংলিশদের কাঁদিয়ে ১-০ গোলে ব্যবধানে জিতে ট্রফিটা প্রথমবার নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশ মেয়েরা। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলে স্পেন। একের পর এক আক্রমণ করে ইংলিশ রক্ষণভাগের পরীক্ষা নিয়েছে স্পেন।
এতে ম্যাচের ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। ম্যারিওনা কালডেন্টির বাড়িয়ে দেওয়া বল গোল করে দলকে এগিয়ে নেন স্প্যানিশ অধিনায়ক ওলগা কারমোনা। এতে গোলে শিরোপার খুব কাছাকাছি চলে যায় ২০১০ সালে ছেলেদের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ী দেশটি।
এভাবেই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর আক্রমণে ধার বাড়ায় ইংলিশ মেয়েরা। গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। কিন্তু কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি। বিপরীতে নিজেদের বক্সের ভেতরে ফাউল করে পেনালটি জরিমানা গুণে বসে ইংলিশরা। ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণের দারুণ সুযোগ পায় স্পেন।
কিন্তু পেনাল্টি মিস করে বসেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জেনিফার হারমোসো। তার শটের বল দারুণভাবে লুফে নেন ইংলিশ গোলকিপার মেরি ইরাপস। গোল কিপার পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিলে ইংলিশ মেয়েদের আত্মবিশ্বাস যেন বেড়ে যায়। আক্রমণের গতি আরো বাড়ায়।
কিন্তু স্প্যানিশ রক্ষণভাগ ঠিকই প্রাচীর হয়ে উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ১-০ গোলে ব্যবধানে জয় নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন দলের খেলোয়াড়রা। ফলে এবার নারী বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়নের দেখা পেল পেলো ফুটবলমোদীরা।
গত ২০ জুলাই শুরু হয়ে ঠিক একমাস পর শেষ হলো নারী বিশ্বকাপের নবম আসর। ইংল্যান্ড ২০১৫ সালে তৃতীয় এবং ২০১৯ সালে চতুর্থ হলেও এবার আরও ভালো খেলে রানার্সআপ হলো।
এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের ওলগা কারমোনা। আর টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছেন আইতানা বনমাতি। ৫ গোল করে সেরা গোলদাতা হয়েছেন জাপানের হিনাতা মিয়াজওয়া। সেরা ইয়ং খেলোয়াড় হয়েছেন স্পেনের সালমা পারালুতো। আর সেরা গোলকিপার হয়েছেন ইংল্যান্ডের মেরি ইরাপস।
নারী বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৯টি আসর শেষ হলো। তাতে এবারের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চারবার (১৯৯১, ১৯৯৯, ২০১৫ ও ২০১৯), জার্মানী দুই বার ( ২০০৩ ও ২০০৭) এবং জাপান ( ২০১১) এবং নরওয়ে (১৯৯৫) একবার করে শিরোপা লাভ করেছে।
Leave a Reply