শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪০

দুর্ঘটনার ২৮ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধারে ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

দুর্ঘটনার ২৮ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধারে ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের গত শনিবার (২১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে নাদিম হোসেনের অডি এ৩ গাড়িটি এম৬১ মহাসড়কের ৯ নম্বর জংশনের কাছে একটি গভীর খাদে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই নাদিমের আইফোন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ‘ক্র্যাশ এসওএস’ অ্যালার্ট পুলিশ কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট সংকেত পাওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ মাত্র একবার ফিরতি কলের চেষ্টা করেই বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দেয়। ফলে দুর্ঘটনার পরবর্তী ২৮ ঘণ্টা নাদিম জনহীন ঝোপঝাড়ে পড়ে থাকলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও তল্লাশি চালানো হয়নি।

ল্যাঙ্কাশায়ারের নেলসন কমিউনিটিতে এখন শোকের ছায়া। ৩৭ বছর বয়সী ব্রিটিশ-পাকিস্তানি নাগরিক ও দক্ষ মেকানিক নাদিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের সীমাহীন অবহেলা ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারে ব্যর্থতায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

গাড়ির স্বয়ংক্রিয় জরুরি সংকেত (এসওএস) পুলিশ উপেক্ষা করার পর, নাদিমের পরিবারই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার মরদেহ খুঁজে বের করতে বাধ্য হয়েছে।

নাদিম ঘরে না ফেরায় উদগ্রীব স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর পাননি। নিরুপায় হয়ে তারা নিজেরাই মোবাইলের ট্র্যাকিং ডেটা ব্যবহার করে গভীর রাতে মহাসড়কের আশপাশে তল্লাশি শুরু করেন।

অবশেষে সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ১টা ৫৬ মিনিটে বনজঙ্গলে উল্টে পড়ে থাকা গাড়িটি এবং নাদিমের নিথর দেহের সন্ধান পান তারা।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাদিম দুর্ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের পরিবর্তে পরিবারের সদস্যদের এই উদ্ধার জরুরি সেবা প্রোটোকল নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নাদিমের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে ‘সাদাকাহ জারিয়া’ হিসেবে গভীর নলকূপ স্থাপন ও দাতব্য কাজে সহায়তার জন্য বর্তমানে একটি ‘গোফান্ডমি’ ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে।

পুলিশ বর্তমানে শোকাতুর পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা বললেও কমিউনিটি নেতারা পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি তুলেছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশেও জীবন বাঁচাতে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ক্র্যাশ প্রযুক্তি কি তবে জরুরি সেবা কেন্দ্রের অবহেলায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে?

নাদিমের এক ঘনিষ্ঠজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নাদিম সব সময় অন্যের সাহায্যের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ত। যখন তার ফোনটি সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করছিল, তখন তারও একই রকম তৎপরতা পাওয়ার অধিকার ছিল।

সব মহলে ‘ডিম্মি’ নামে পরিচিত নাদিম হোসেন ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্রিটিশ-পাকিস্তানি কমিউনিটিতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান—মালিশা, আনায়া এবং জাকারিয়ার একনিষ্ঠ অভিভাবক ছিলেন।

বাবার সঙ্গে মিলে মেকানিক হিসেবে তার দক্ষতা ছিল সর্বজনবিদিত। হোসেন পরিবারের জন্য এটি এক বছরে দ্বিতীয় বড় শোক; মাত্র ছয় মাস আগেই নাদিম তার বোন নাদিয়াকে হারিয়েছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026