শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫

যুক্তরাজ্যে আইনজীবীদের সহযোগিতায় ভুয়া সমকামীর ছদ্মবেশে আশ্রয় প্রার্থনা

যুক্তরাজ্যে আইনজীবীদের সহযোগিতায় ভুয়া সমকামীর ছদ্মবেশে আশ্রয় প্রার্থনা

ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন (এসাইলাম) সফল করতে ভুয়া সমকামী সেজে আবেদন করছে অগণিত আশ্রয়প্রার্থী। নিজেদের সমকামী বলে দাবি করলেও আসলে তারা কেউ সমকামী নন।

শুধু মাত্র এসাইলাম কৃতকার্য করে ব্রিটেন থেকে যেতে এমন অভিনয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন দক্ষিণ এশিয়ার বহু নাগরিক। এক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের আইনজীবীরা। এমন দাবি করে ব্রিটেনের প্রভাবশালী সংবাদমাধম বিবিসি একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

বিবিসির অনুসন্ধানে প্রকাশ পাওয়া রিপোর্টে বলা হয়, আশ্রয় আবেদন সফল করার জন্য ব্রিটেনে কিছু আইনজীবী ও পরামর্শক একটি শ্যাডো বিজনেস চালু করেছেন।

এতে অভিবাসীরা দেশটিতে আশ্রয় পাবার জন্য সমকামী হওয়ার অভিনয় করছে এবং এর মাধ্যমে হাজার হাজার পাউন্ড ফি হাতিয়ে নিচ্ছে এই দুষ্ট চক্র।

গোপন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব অভিবাসীর ভিসা শেষ হওয়ার পথে, তাদের জন্য নকল গল্প তৈরি করা হচ্ছে এবং নকল প্রমাণ যেমন সাপোর্টিং চিঠি, ছবি ও চিকিৎসা রিপোর্ট সংগ্রহের কৌশল শেখানো হচ্ছে।

এরপর তারা আশ্রয়ের জন্য আবেদন করছেন, দাবি করে যে তারা সমকামী এবং যদি পাকিস্তান বা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়, তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত শিক্ষার্থী, স্কিলড ওয়ার্কার এবং পর্যটক ভিসাধারীরা অন্তর্ভুক্ত। ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আগতদের তুলনায় এরা সংখ্যায় বেশি।

বিবিসির রিপোর্টার পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সেজে এই তদন্ত চালায়। দেখা গেছে, একটি আইন সংস্থা সাত হাজার পাউন্ড পর্যন্ত চার্জ করছে নকল আশ্রয় আবেদন করার জন্য এবং হোম অফিসের আবেদন প্রত্যাখ্যান সম্ভাবনা খুব কম বলে আশ্বাস দিচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ইউকে জিপি ডাক্তারদের নিকট হতে মানসিক অসুস্থতার ভান করে চিকিৎসা প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। এক অভিবাসন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তিনি ১৭ বছর ধরে নকল আবেদন নিয়ে কাজ করছেন।

রিপোর্টারের সঙ্গে সমকামী সমর্থন কমিউনিটির মাধ্যমে প্রমাণ তৈরি ও ক্লাবের ছবি, সাপোর্টিং চিঠি এবং নকল যৌন সম্পর্কের প্রমাণ তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই পরিষেবা দুই হাজার পাঁচশ পাউন্ড থেকে শুরু হয়।

অন্য এক আইন সংস্থা থেকে সিনিয়র উপদেষ্টা রিপোর্টারকে জানিয়েছেন কীভাবে নকল প্রমাণ তৈরি করতে হবে এবং প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে হোম অফিস কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হবার সম্ভাবনা খুব কম বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।

একটি সমকামী সমর্থন নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা বলেছেন, এটি একটি বিরাট সমস্যা। কেউ কেউ আমার কাছ থেকে সুপারিশ চায়, আমি তা দিই না। অনেকেই বলে, আমি সমকামী নই, কিন্তু এই দেশে থাকতে চাই।

হোম অফিসের পরিসংখ্যান দেখায়, পাকিস্তানি নাগরিকরা যৌনতার ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় দাবি করেন, যদিও তারা মোট আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ছয় শতাংশ।

এমন ভুয়া কৌশল প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। লেবার পার্টির সংসদ সদস্য বলেছেন, আইনজীবী ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রিফিউজি পরিষদ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা নিঃস্বার্থ মানুষদের শোষণ করে যাচ্ছে অবৈধ উপায় ও পথ বাতলে দিয়ে।

হোম অফিস জানিয়েছে, নকল আশ্রয় আবেদন একটি অপরাধ, যার ফলে কারাবাস এবং নিজ দেশে ফেরত দেয়া হতে পারে অতি দ্রুত সময়ের ভিতরে।

যুক্তরাজ্যের নতুন রিফিউজি আইন অনুযায়ী, এখন থেকে কেবল সাময়িক আশ্রয় প্রদান করা হবে এবং ৩০ মাস পর পর পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026