যুক্তরাষ্ট্রে আবার সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। এই সংশোধনী ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনপ্রণেতারা বারবার সংবিধানে বর্ণিত পদ্ধতিতে একজন প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়টি তুলেছেন। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপসারণ করতে হলে তার মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের সমর্থন প্রয়োজন।
তবে বর্তমানে এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ বিষয়ে ভাবছেন, কিংবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এতে সম্মত হবেন।
কিন্তু মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্পের মন্তব্য- ‘ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে মঙ্গলবার রাতে পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’- নতুন করে নানা মহল থেকে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি জোরালো করেছে।
ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সময় রাত ৮টার সময়সীমার দুই ঘণ্টারও কম আগে ট্রাম্প ঘোষণা দেন- তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। শর্ত হলো তেহরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
এ নিয়ে অনলাইন সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা এবং ডানপন্থী মহল উভয়ই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ইরান যুদ্ধকে কতদূর নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে এবং কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এসব হুমকি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে। যা হোয়াইট হাউস অস্বীকার করে।
২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি মূলত ডেমোক্রেটদের দিক থেকেই এসেছে। তারা সংখ্যায় ডজনখানেক। এর মধ্যে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জে.বি. প্রিটজকারের মতো নেতারাও রয়েছেন। অবশ্য এ মুহূর্তে তাদের হাতে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু করার মতো বাস্তব ক্ষমতা নেই।
তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু রক্ষণশীল এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মিত্ররাও এই দাবিতে যোগ দিয়েছেন। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারকারী অ্যালেক্স জোন্স সোমবারের শোতে তার অতিথিকে প্রশ্ন করেন, আমরা কীভাবে তার বিরুদ্ধে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করব?
সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিন জর্জিয়ার রিপাবলিকান। তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রায় এক ঘণ্টা পর এক্সে পোস্ট করেন: ‘২৫তম সংশোধনী!!!’ তিনি এটিকে ‘অশুভ এবং উন্মাদনা’ বলে আখ্যা দেন।
কিছু ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতা গ্রিনের এই বক্তব্য পুনরায় পোস্ট করেন। ডানপন্থী পডকাস্টার ক্যান্ডেস ওউয়েন্স পরে বলেন, ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
স্কারামুচি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক ছিলেন। তিনিও ট্রাম্পকে অপসারণের আহ্বান জানান এবং দাবি করেন ট্রাম্প পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘জেগে উঠুন: তিনি একটি পারমাণবিক হামলার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করুন।
যখন অনেকে অনলাইনে দাবি করেন যে জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন, তখন হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করে। ভাইস প্রেসিডেন্ট শুধু বলেন, ‘আমাদের হাতে এমন কিছু উপায় রয়েছে যা আমরা এখনো ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিইনি।
‘নেভার ট্রাম্প’ রক্ষণশীলদের মধ্যে আছেন ডেভিড ফ্রেঞ্চ। তারাও ২৫তম সংশোধনীর পক্ষে মত দিয়েছেন। ফ্রেঞ্চ বলেন, এটি স্পষ্টভাবেই ২৫তম সংশোধনীর বিষয়। কিন্তু মানুষ এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তারা এটি বুঝতে পারছে না।
অন্যরা এতটা এগোয়নি, তবে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাদের একজন ট্রাম্পের সাবেক মিত্র টাকার কার্লসন। তিনি সোমবার তার শোতে ট্রাম্পকে নজিরবিহীনভাবে সমালোচনা করেন।
ফক্স নিউজের সাবেক এই উপস্থাপক বলেন, ট্রাম্প এমনভাবে অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিচ্ছেন যা ব্যাপক মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এটা ‘যুদ্ধাপরাধ, নৈতিক অপরাধ’। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প ‘অ্যান্টিক্রাইস্ট’ হতে পারেন।
উইসকনসিনের রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসন কংগ্রেসে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি মঙ্গলবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ট্রাম্প যদি বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেন, তাহলে আমি তার পাশে থাকতে পারব না।
তিনি ইঙ্গিত দেন, এমন হামলা অবৈধ। এই সবকিছুর অর্থ এই নয় যে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ খুব কাছাকাছি। এটি কার্যকর করা কঠিন। কারণ এতে ট্রাম্পের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠদেরই তাকে অযোগ্য ঘোষণা করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তবুও, ট্রাম্পের কিছু সাবেক মিত্র এবং ডেমোক্রেটদের এই প্রতিক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা বলছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে ট্রাম্পের সতর্ক হওয়া উচিত। এটি বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
Leave a Reply