শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া জব্দ হওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে কোনো আবেদন করেননি বলে দাবি করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন।
তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জব্দ হওয়া তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
২০০৭ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর নির্দেশে এনবিআর ব্যাংকগুলোকে খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয়। দুই নেত্রীর এক সঙ্গে অ্যাকাউন্ট জব্দের পর শেখ হাসিনার অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়। অথচ খালেদা জিয়ার অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হলো না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যথাযথ কারণ দেখিয়ে আবেদন করাতে তার (প্রধানমন্ত্রী) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু খালেদা জিয়া বার বার আবেদন করার পরও এনবিআর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়নি এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যথাযথ কারণ দেখিয়ে যারা আবেদন করেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মধ্যে খালেদা জিয়া কোনো আবেদন করেননি বলে দাবি করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে শুধু খালেদা জিয়া কেন যে কেউই যথাযথ কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে আমরা অ্যাকাউন্ট খুলে দেই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যেখানে আবেদন করেছেন, কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ায় কোনো বাধা থাকার কথা নয়। যদি কারো অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়, নিয়ম হলো তাকে লিখিত আবেদন করতে হয়। নিয়মের বাইরে কারো প্রতি এমন করা হয় না।
অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়া সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন বলেন, ওই সময় (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে) যাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, তাদের একটি তালিকাও (রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী) সংসদে সরবরাহ করা হয়েছে। যাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ, তারা আন-অফিসিয়ালি (অনানুষ্ঠানিক) একটি চিঠি দিলেই অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। তবে এ ক্ষেত্রেও কোনো সাড়া নেই বলে দাবি করেন তিনি।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা ও তাদের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিসহ ১২৯ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর নির্দেশে এনবিআর খালেদা জিয়ার ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় ব্যাংকগুলোকে। সোনালী ব্যাংক ক্যান্টনমেন্ট শাখায় খালেদা জিয়ার একটি অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) শাখায় খালেদা জিয়া জব্দকৃত ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। বহু চেষ্টা করার পরও অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়নি এনবিআর। এনবিআর তখন বলেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই জিয়ার অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।