শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫১

ফেসবুক ব্যবহারে বিষণ্নতা

ফেসবুক ব্যবহারে বিষণ্নতা

প্রযুক্তি আকাশ ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। সম্প্রতি ফেসবুকের কিছু নেতিবাচক দিক গবেষকদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। তারা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, অতিরিক্ত সময় ফেসবুক ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক রয়েছে। মানুষ তার বন্ধুদের কর্মকাণ্ড ও অর্জনগুলোর সঙ্গে নিজের কর্মকাণ্ড ও অর্জনগুলোর তুলনা শুরু করলেই বিষাদের ছায়া ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা উদ্বেগজনক এ তথ্য দিয়েছেন। ‘সোশ্যাল অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি’ সাময়িকীতে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সায়েন্স ডেইলি ও নেচার ওয়ার্ল্ড নিউজ।

পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে মানুষ নিজেদের মধ্যে সামাজিক অবস্থার যে তুলনা করে, তা নতুন নয়। কিন্তু, অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বিষয়টি এভাবে ছড়িয়ে পড়ায়, মানুষ আরও খারাপ বোধ করতে পারে। যে ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগতভাবে কোন কঠিন সময় অতিক্রম করছেন, তাদের আবেগ ও অনুভূতি স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং তারা সহজেই অন্যের অবস্থার সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা শুরু করে দিতে পারে। আর সেটা ঘটতে পারে অতিরিক্ত সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহারের কুফল হিসেবে।

প্রধান গবেষক মাই-লি স্টিয়ার্স বলেন, এর অর্থ এটা নয় যে, ফেসবুক বিষণ্নতা সৃষ্টি করে। কিন্তু, হতাশার অনুভূতি এবং ফেসবুকে বহু সময় কাটানো এবং নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা হতাশার দিকেই নির্দেশ করে। স্টিয়ার্স ও তার সহ-গবেষকরা দুটি বিষয়ের ওপর এ গবেষণা চালিয়েছেন। প্রথম গবেষণায় পুরুষ ও নারীর উভয়ের ফেসবুকে সময় কাটানোর সঙ্গে বিষণ্নতার তুলনামূলক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তারা। ফলাফলে দেখা গেছে, পুরুষরা নিজেদের সামাজিক অবস্থার সঙ্গে অন্যের অবস্থার তুলনা করার কারণে তারা অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ধরে ফেসবুকিং করেন এবং তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় তার বিষণ্নতার উপসর্গগুলো। দ্বিতীয় গবেষণায় তারা দেখতে পান, ফেসবুকে সময় কাটানো ও বিষণ্নতা চালিত হচ্ছে ব্যক্তির সামাজিক তুলনা দ্বারা। নারী-পুরুষ উভয় ব্যবহারকারীই এ অবস্থার শিকার।

গবেষকরা বলছেন, ফেসবুক আমাদের বন্ধুদের সম্পর্কে আমাদের প্রায়ই সেসব তথ্য দেয়, যেগুলো আমরা সাধারণভাবেই জানি। এটা আমাদের সামাজিকভাবে নিজেদের তুলনা করতে আরও বেশি সুযোগ করে দেয়। স্টিয়ার্স ব্যাখ্যা করে বলেন, আপনি তুলনা করার তাড়নাকে এড়াতে পারেন না। কারণ, আপনি কখনোই আগে থেকে জানেন না আপনার বন্ধু কি পোস্ট করতে চলেছেন। এর সঙ্গে আমাদের ফেসবুকের বেশির ভাগ বন্ধু তাদের জীবনের সুন্দর বা ভালো মুহূর্তভগুলোই সাধারণভাবে পোস্ট করে থাকে।

জীবনের খারাপ ও নেতিবাচক ঘটনাগুলো তারা সাধারণভাবে শেয়ার করেন না। আর আমরা বন্ধুদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেসব উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক দিকগুলোর তুলনামূলক পর্যালোচনা শুরু করে দেই। আমরা শুধু ওই ভালো পোস্টগুলোর সঙ্গে নিজেদের জীবনকে তুলনা করি এবং অতি সহজেই হতাশ হয়ে পড়ি। বিষণ্নতা আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। স্টিয়ার্স বলেন, এতে আমাদের মনে হয় আমাদের বন্ধুরা আমাদের চেয়ে অনেক ভাল আছে, এবং আমরা নিজেদের সম্পর্কে নিচু ধারণা পোষণ করতে শুর করি। আমাদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরে যায়।

গবেষকরা আশা করছেন, এ গবেষণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ব্যবহারের সুবিধা এবং ঝুঁকি বা বিপদগুলো সম্পর্কে আমাদের সূক্ষ্ম ধারণা দেবে। একই সঙ্গে তারা আশা করেন, বিষণ্নতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষরাও ফেসবুক ব্যবহারে অধিকতর সচেতন হবেন এবং ফেসবুকে কাটানো সময়টাও প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026