বিনোদন ডেস্ক: ভারতের তেলেগু অভিনেত্রী আরতি আগরওয়াল মুত্যুবরণ করেন। তার এ আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নায়িকাদের শরীরী সৌন্দর্যের ওপর ইন্ডাস্ট্রির চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কলকাতার একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রেক্ষাপটে নায়িকাদের হতে হবে স্বপ্নসুন্দরী। দর্শকের কল্পনাকে ভরিয়ে দিতে তাদের থাকতে হবে একেবারে মাপে মাপে। কোথাও এতটুকু এদিক ওদিক হলেই ক্যারিয়ার বরবাদ। এই চাপ নায়িকাদের সারাক্ষণই তাড়া করে বেড়ায়।
ফলে সেই চাপই হয়তো মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দিয়েছে তেলেগু অভিনেত্রী আরতিকে। মাত্র ৩১ বছর বয়সী আরতি আগরওয়াল শরীরের মেদ কমাতে লিপোসাকশন অপারেশনের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রথমে হায়দারাবাদের এক ডাক্তারের কাছে মেদ ঝরানোর অপারেশনের জন্য গিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু ডাক্তার অপারেশনে রাজি হননি, কেননা আরতি এমন মেদবহুল ছিলেন না যে, এই অপারেশন করা যায়। পরে আমেরিকায় গিয়ে তিনি এই অপারেশন করান। আর তাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন এ অভিনেত্রী। বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদ ঝরানোর এই অপারেশন বিপদজনক।
কারণ শরীরে যে পরিমাণ মেদ অপারেশনের মাধ্যমে বাদ দেওয়া হচ্ছে তার বিকল্প হিসেবে শরীরে পর্যাপ্ত তরল সরবরাহ করতে হয়। ২-৩ কেজি মেদ ঝরানো ঠিক হলেও, পরিমাণ যদি ৮-৯ কেজি হয়, তবে এ ব্যাপারে মারাত্মক সতর্কতা নিতে হয়। অন্যথায় বিপদ অবশ্যম্ভাবী।
সম্ভবত এই ভারসাম্য ঠিকঠাক বজায় না থাকার কারণেই বিপদ ঘটে আরতির ক্ষেত্রেও। দেখতে আরো বেশি সুন্দর হওয়ার জন্য নায়িকাদের সার্জারি নতুন কিছু নয়। বলিউডে শিল্পা শেঠির নোজ সার্জারি একসময় চর্চার বিষয় ছিল। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সিনেমাতেই এই অপারেশন করান শিল্পা। পরে তিনি জানিয়েছিলেন, এই অপারেশন আসলে তাকে বেকায়দাতেই ফেলেছিল। একই মত অভিনেত্রী কোয়েনা মিত্ররও। ‘নোজ সার্জারি’র পর নাকের আশেপাশের হাড় ফুলে যেতে শুরু করে। তবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় বড় কিছুর হাত থেকে বেঁচে যান কোয়েনা। সিনেমায় ভালো দেখাতে গিয়ে পরিচালকরাও নায়িকাদের এরকম সার্জারি করার পরামর্শ দেন বলে মনে করেন বলিউডের একাংশ।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, সিদ্ধান্ত একান্তই নায়িকাদের। তারাই ক্যারিয়ারের জন্য এরকম সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন। আর এতেই প্রশ্ন উঠছে। তবে কী সেরা নায়িকাদের দৌঁড়ে থাকতে গিয়েই এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরতি?
আর এক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রির ক্রমবর্ধমান চাপ অস্বীকার করা যায় না। নায়িকাদের শরীরকে বিপণনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন অনেক পরিচালকই। মাইনাস ডিগ্রিতেও শরীর প্রদর্শনে বাধ্য হন তারা। সেটাই ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা। সেরকমই আর এক চাহিদা মাত্রাতিরিক্ত স্লিম থাকা। তাই হয়তো ডাক্তারি প্রয়োজন না থাকলেও মেদ ঝরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরতি। সিনেমাকে নারীর শরীর প্রদর্শনের মাধ্যম না করে তুললে হয়তো আরতিকে মেদ ঝরিয়ে অকালে ঝরে যেতে হত না।