শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঘরে বসে একটি ঘড়ি বানিয়েছিলেন আমেরিকার টেক্সাসের একটি হাইস্কুলের মুসলিম ছাত্র আহমেদ মুহামেদ। সোমবার ঘড়িটি স্কুলে এনেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাসের শিক্ষককে দেখানোর জন্য। পরবর্তীতে এ ঘড়ির কারণেই গ্রেফতার হতে হয়েছে ১৪ বছরের এ মুসলিম শিক্ষার্থীকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৪ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরকে স্কুলে প্রেজেন্টেশনের জন্য আনা ঘড়িকে বোমা সদৃশ বলে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে এ অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট বাতিল করা হয়। এরপরই আহমেদ মোহাম্মদ নামে ওই কিশোরকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
নর্থ ট্যাক্সাসের আর্ভিং ম্যাকআর্থার হাইস্কুলের ছাত্র আহমেদ মুহামেদ। হোমমেইড প্রজেক্টের অধিনে বানানো ঘড়িটিতে এলার্ম বেল লাগানো ছিল। ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাশে হঠাৎ করেই ঘড়িটির এলার্ম বাজে। তবে শিক্ষক ঘড়িটি দেখে প্রশংসা করার পাশাপাশি এটি অন্য শিক্ষককে না দেখানোর পরামর্শ দেন আহমেদকে। পরবর্তীতে ইংলিশ ক্লাশে গিয়ে বিপাকে পড়েন আহমেদ। ক্লাশ চলাকালে ঘড়িটির রিং বেজে উঠে।
এ কারণে ঘড়িটি বাজেয়াপ্ত করেন ইংলিশ শিক্ষক। তিনি ঘড়িটিকে বোমার মতো বলে মন্তব্য করেন। যদিও আহমেদ শিক্ষককে বলেছেন, এটা বোমা জাতীয় কিছু নয়। এটা তার হোম ওয়ার্ক প্রজেক্ট। এর মধ্যেই শিক্ষকরা পুলিশ ডাকেন। ক্লাশ শেষে একটি রুমে ডেকে নিয়ে সেখান থেকে ৫ জন পুলিশ অফিসার হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে তাকে স্কুল থেকে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ছবি তুলে রাখা হয়।
মাত্র ১৪ বছর বয়সের আহমেদকে পুলিশ স্টেশনে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করে পুলিশ। ঘড়িটিকে বোমা মনে তাকে গ্রেফতার করা হলেও তার উপর কোনো ধরনের চার্জ আনা হয়নি। যদিও তাকে ৩ দিন স্কুল থেকে সাসপেন্ড থাকতে হয়েছে। স্কুলের হেড টিচারের হুমকির মুখে তাকে পুলিশে লিখিত স্টেইটমেন্টও দিতে হয়েছে। স্টেইটমেন্ট না দিলে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন হেড টিচার।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন বলছে, আহমেদ মোহাম্মদ মুসলিম হবার কারণেই তার সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হলেও তার গ্রেপ্তারের কড়া সমালোচনা চলছে এবং অনেকেই তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। এরই মধ্যে তাকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
আমি এক শিক্ষককে দেখানোর জন্য আমার ঘড়িটি নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে পুলিশ আসে এবং আমাকে গ্রেপ্তার করে। ওরা আমাকে বলেছিল যে, আমি নাকি একটি নকল বোমা বানানোর অপরাধ করেছি। এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন আহমেদ মোহাম্মেদ। আহমেদের বাবা মোহাম্মেদ এলহাসান এসেছেন সুদান থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, নামের কারণেই তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
আহমেদ স্থানীয় সংবাদপত্রে অভিযোগ করে বলেছেন, পুলিশ স্টেশনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলো। কিন্তু পুলিশ তার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় কারো সঙ্গে কথা বলা যাবে না বলে বারণ করে পুলিশ। এ ঘটনায় মর্মাহত আহমেদ জানান, তার সঙ্গে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছে পুলিশ। তাকে হিউম্যান হিসেবেও গণ্য করা হয়নি বলে মনে করেন আহমেদ।
আহমেদের বাবা সুদানি অরিজিন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছেলেকে প্রেরণা দিয়ে রেডিও এবং ঘড়ি বানানোতে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু একটি ঘড়ির জন্য তার ছেলের সঙ্গে এভাবে সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করা হবে বলে বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি।
এদিকে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরভিং পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, আহমেদকে কোনো অপরাধে চার্জ করা হয়নি। পুলিশ বলেছে, তার আবিস্কারের কোনো খারাপ উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ঘড়িটিতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক ডিভাইস নেই বলেও নিশ্চিত করে পুলিশ।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাস ট্যাগের মাধ্যমে স্টান্ডউইথ আহমেদ লিখে’ নাসার বিজ্ঞানীসহ অনেকেই আহমেদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক টুইটারবার্তায় ওবামা আহমেদের ঘড়িটিকে দারুণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মতো আরো বেশি শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা উচিত।পাশাপাশি তিনি আহমেদ মোহাম্মদকে আটক করার ঘটনার সমালোচনাও করেন।