সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬

ইএফটি’র মাধ্যমে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রধান হিসাব কর্মকর্তার জালিয়াতি

ইএফটি’র মাধ্যমে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের প্রধান হিসাব কর্মকর্তার জালিয়াতি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াত চক্র। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিএও (অর্থ) কার্যালয় থেকে এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ডাচ বাংলা ব্যাংককে। ভুয়া কোড ব্যবহার করে ব্যাংকটির মিরপুর শাখায় এ ডিজিটাল কারসাজি সম্পন্ন হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধান রির্পোটের ভিত্তিতে জানা যায়, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রদানের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিএও(অর্থ) বিভাগে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ইএফটি’ নামে নতুন এক ধরনের পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই বিভাগের আওতাধীন ‘ডিপেনডিং মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক’ (ডিএমটিবিএফ) প্রকল্পে গত বছরের জানুয়ারি মাসের বেতন ও আনুষঙ্গিক বিলসমূহ দায়িত্বপ্রাপ্ত অডিটর, সুপার ও হিসাররক্ষণ কর্মকর্তা কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর কম্পিউটারে এন্ট্রি দেওয়া হয়। প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসএএস সুপার হিসেবে কর্মরত মো. শরিফুল ইসলাম ইএফটি কার্যক্রমের জন্য উক্ত কার্যালয়ের একমাত্র প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। বেতনভাতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাবসমূহ এন্ট্রি করে তিনি এগুলোকে ইএফটি’র সঙ্গে যুক্ত করেন ।

একই সময় কৌশলে স্ত্রী, আপন ভাই-বোন ও ২ ভাগ্নেসহ মোট ৬ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ব্যাংক হিসাবও ইএফটি’র সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি। এ ব্যাংক হিসাবগুলোর সবগুলোই ছিলো ডাচ বাংলা ব্যাংকের মিরপুর শাখায়। এর মধ্যে ফিরোজ কবির তার আপন ভাই, মুরাদ মোর্শেদ ও তানভীর সরকার আপন ভাগ্নে, সুফিয়া সরকার তার বোন এবং খাদিজা খাতুন দিনা তার স্ত্রী। পরে গত বছরের ২ জুলাই থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে ওই ৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ কোটি ৩১ হাজার ১৬ হাজার টাকা স্থানান্তর করেন তিনি। পরে ভাই মো. সাদেকুল ইসলামের সহায়তায় এটিএম কার্ড, ফান্ড ট্রান্সফার এবং অন্য শাখার চেকের বিপরীতে মোট ৬৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ওই হিসাবগুলো থেকে সরিয়ে নেন শরিফুল। জানা গেছে জালিয়াতিতে ব্যবহৃত ওই ৬টি হিসাবের মধ্যে ৪টি হিসাবেরই নমিনি শরিফুলের ভাই সাদিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে এ জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে অর্থমন্ত্রণালয়ের মহা হিসাব নিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) এসএএস সুপার মো. শরিফুল ইসলামকে চিহ্নিত করেছে দুদক। তাকে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা যায় এ জালিয়াতির কাজে নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করেছিলেন শরিফুল।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এ সব অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শরিফুলকে প্রধান ও সাদিকুলকে দ্বিতীয় আসামি করে মোট ৭জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে মামলাগুলো দায়ের হতে পারে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় শরিফুল এবং এ ঘটনায় জড়িত তার অপর ৬ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামে চলতি সপ্তাহে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক। দুদকের সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক এসএম সাহিদুর রহমান এ মামলা দায়ের করবেন।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026