সাজেদুল হক: সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক। কোথাও কোনো টুঁ শব্দ নেই। তবে দুটি স্পর্শকাতর ইস্যু হঠাৎই ঝড় তৈরি করে সরকারের ভেতরে-বাইরে। ৮০০ কোটি টাকার রিজার্ভ লোপাট আর যুক্তরাজ্যের কার্গো নিষেধাজ্ঞায় তৈরি হয় অস্থিরতা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এখন স্পর্শকাতর দুটি ইস্যু থেকে সরকার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের বিদায় সহজ বিষয় ছিল না। সাত বছর ধরে এ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। সরকারেরও অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে তার ছিল দূরত্ব। অনেকটা সময় ধরে তাদের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল। রাজকোষ কেলেঙ্কারির বিষয়টি যখন প্রকাশ হয়ে পড়ে তখন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, তাকে এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। কয়েক দিন ধরেই পরোক্ষভাবে আতিউর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন অর্থমন্ত্রী।
এরই মধ্যে ভারতের উদ্দেশে পাড়ি জমান সদ্যবিদায়ী গভর্নর। তবে ভারতে থাকাবস্থাতেই অনেকটা তার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যায়। সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ওই দিন বিকালে দেশে ফিরেন আতিউর। বিমানবন্দর থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে না গেলেও রাতে অর্থমন্ত্রীর বাসায় যান তিনি। সেখানে অর্থমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন।
আতিউর রহমানের ভাষ্যমতে অর্থমন্ত্রী তাকে বলেন, আপনাকে ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংক ভালো চলবে। কেন অর্থমন্ত্রীকে জানাতে দেরি করা হয়েছে তারও ব্যাখ্যা দেন গভর্নর। যদিও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেই নিজের ভবিষ্যৎ বুঝে যান আতিউর। বাসায় ফিরে প্রস্তুত করেন পদত্যাগপত্র। সকালে কথা বলেন কিছু সাংবাদিকের সঙ্গে। যে কথোপকথনের সময় তিনি বারবার আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চাইলে তিনি পদত্যাগ করবেন।
এ কথার কিছু সময় পরই গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। আতিউর রহমানের পদত্যাগকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আতিউর রহমানের এই পদত্যাগ একটি সাহসী পদক্ষেপ, যা নৈতিক মনোবল ও সৎ সাহসের বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের গতকাল সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও পরে আর তা তিনি করেননি। রাজকোষ কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গভর্নরকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এক ধরনের শুদ্ধি অভিযানই যেন চলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। তবে বহু প্রশ্নের সমাধা এখনও হয়নি। এ কেলেঙ্কারির প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে হয়তো আরও সময় লাগবে। হয়তোবা কোনো দিনই তা জানা যাবে না।
ওদিকে, কার্গো নিষেধাজ্ঞার সংকট থেকেও বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরনের চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে চিঠিতে কার্গো নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে দফায় দফায় চলছে বৈঠক। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হতে পারে একটি ব্রিটিশ কোম্পানিকে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।