মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৭

দুনিয়াজুড়ে তীব্র নিন্দা: মিশরে নিহত ছয়শ ছাড়িয়েছে

দুনিয়াজুড়ে তীব্র নিন্দা: মিশরে নিহত ছয়শ ছাড়িয়েছে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দুনিয়া জুড়ে ডেস্ক: মিশরে সেনা অভিযানে ছয় শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর ফের বিক্ষোভ-সহিংসতা শুরু হয়েছে। রাজধানী কায়রোর কাছে গিজায় একটি সরকারি ভবনে আগুন দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা। গিজার স্থানীয় সরকারি ভবনে বিক্ষুব্ধরা চড়াও হলে পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। টিভি ফুটেজে দুটো ভবন জ্বলতে দেখা গেছে।

বুধবারের অভিযানে কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে মুরসি সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে অন্তত ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য মুসলিম ব্রাদারহুডের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি। রয়টার্সের এক সাংবাদিক ইমাম মসজিদের কাছে সাদা কাপড়ে মোড়া ২২৮ টি মৃতদেহ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বুধবার ওই জায়গাটিতেই সবচেয়ে বেশি সহিংতা হয়। ভয়াবহ এ সহিংসতার পর রাজধানীসহ অন্য ১০টি প্রদেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থা এবং সকাল-সন্ধ্যা কারফিউয়ে কিছুটা শান্ত অবস্থা ফিরে এলেও পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হচ্ছে। নিহতদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানকে ঘিরে আগামী দিনগুলোতে আরো সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুরসি সমর্থকদের ক্ষোভের আগুন সেনাবাহিনী ছাইচাপা দিয়ে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে গেছে জানিয়ে ব্রাদারহুডের মুখপাত্র গেহাদ এল-হাদ্দাদ বলেছেন, আমরা একাধারে যে দমনপীড়ন, ধরপাকড় আর হত্যার শিকার হচ্ছি তাতে আবেগ এত বেড়ে গেছে যে তা আর কেউই বশে আনতে পারবে না। সেনা অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানির প্রতিবাদে মুসলিম ব্রাদারহুড বৃহস্পতিবার দিনশেষে নতুন করে তার অনুসারীদেরকে বিক্ষোভে নামার ডাক দেয়। এক বিবৃতিতে ব্রাদারহুড এদিন আল-ইমাম মসজিদ থেকে পদযাত্রা শুরুর কর্মসূচি জানায়।

মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর অ্যালেক্সান্দ্রিয়ায় মিছিল করেছে শ’ শ’ বিক্ষোভকারী। ‘শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ স্লোগান দেয় তারা। দাবি তোলে মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের। অ্যালেক্সন্দ্রিয়া শহরতলীর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ব্রাদারহুড সদস্যদের সংঘর্ষেরও খবর জানিয়েছে রাষ্ট্র-পরিচালিত নাইল নিউজ টিভি।

বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী কায়রোয় দুটো বিক্ষোভ শিবির থেকে মুরসিপন্থিদেরকে উচ্ছেদ করে।সংঘর্ষ মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য শহরে। মিশরে ছয় সপ্তাহ আগে মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে বুধবারের অভিযানে তৃতীয়দফায় গণহারে হত্যাযজ্ঞ চলেছে। ব্যাপক এ সেনা অভিযান অনেককেই হতবাক করেছে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাওয়ার লক্ষণও এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

নিন্দার এ ঝড়ের মুখেও মিশরের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হাজেম বেবলাওয়ি দমনাভিযানের সাফাই গেয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার স্বার্থেই মিশরের নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ শিবির ভেঙে ফেলতে হয়েছে। টিভিতে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি হতাহতের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জরুরি অবস্থা শিগগিরই তুলে নেয়া হবে বলে জানান।

মিশরের পুলিশ গত সোমবার ভোর থেকেই উচ্ছেদ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেয় আন্দোলনকারীরা। এতে সাময়িক পিছু হটে অভিযান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপরই বুধবার দিনের প্রথমভাগে অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। মুরসির ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সহিংসতা ও নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মিশরজুড়ে পাঁচশ’রও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

মিশরের নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক রক্তক্ষয়ী অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, তুরস্ক মিশরে সহিংসতার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের দপ্তর থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর মিশর কর্তৃপক্ষের বলপ্রয়োগের ঘটনায় বান কি মুন মর্মাহত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন মিশরে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানোর আহ্বান জানান।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026