বিস্ময়কর ডেস্ক: অবশেষে সফল অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফিরে গেছে চার পা ও দুই পুরুষাঙ্গ নিয়ে জন্মানো সেই ভারতীয় শিশু। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু নারায়ণা হেলথ সিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক সংবাদ সম্মেলন করে শিশুটির অস্ত্রোপচারকালীন জটিলতা ও সফলতার কথা তুলে ধরেন।
গ
ত ২১ জানুয়ারি দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক রাজ্যের পুলাদিন্নী গ্রামের সরকারি স্বাস্থকেন্দ্রে শিশুটির জন্ম হয়। দরিদ্র কৃষক বাবার নাম চেন্নাবাসাভা এবং মা ললিতাম্মা হচ্ছেন গৃহিণী। বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়ায় স্থানীয় ডাক্তারদের পরামর্শে শিশুটিকে জন্মের পরদিনই তারা প্রায় দুশো কিলোমিটার দূরের নারায়ণা হেলথ সিটিতে নিয়ে যান।
গত ২১ জানুয়ারি চারটি পা এবং দু’টি পুরুষাঙ্গ নিয়ে শিশুটি জন্মেছিলো ভারতের কর্নাটকের বল্লরী এলাকায়। চিকিৎসকরা যখন তাকে বাঁচানোর জন্য অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিলেন, বাঁধ সাধলেন তার মা। শিশুটিকে ‘ঈশ্বরের আশির্বাদ’ মনে করে অপারেশন করতে নারাজ তিনি।
এমনকি চিকিৎসার জন্য সন্তানকে বিজয়নগর ইন্সটিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সে রাখতেও নারাজ ছিলেন তাঁরা। শিশুটি যেভাবে আছে সেভাবেই বড় করতে চেয়েছিলেন শিশুটির বাবা চেন্নাবাসাভা এবং মা ললিতাম্মা।
চিকিৎসকরা তাদের অনেক বুঝিয়ে রাজি করালেন অপারেশনের ব্যাপারে। অবশেষে সফল অপারেশন হলো তার। সার্জারির মাধ্যমে শরীর থেকে অপসারণ করা হলো অতিরিক্ত দু’টি পা।
চিকিৎসক ভিরুপাকসা জানান, শিশুটি জন্মগতভাবে পলিমেলিয়া নামের একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। এ রোগের কারণে শিশুরা শরীরে অতিরিক্ত অঙ্গ নিয়ে জন্ম নেয়। খুব তাড়াতাড়ি সে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হেলথ সিটির ২০ জন ডাক্তারের একটি টিম ‘পলিমেলিয়া ডিসঅর্ডার’নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুটির অপারেশনের ঝুঁকি নেন। আর ধাপে ধাপে সম্পন্ন জটিল সব অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন ড. সঞ্জয় রায়।
তিনি বলেন, এটি এমন একটি জটিল সমস্যা যে প্রায়ই ঘটতে দেখা যায়, কিন্তু সাহসের সঙ্গে উদ্যোগ নিলে এর চেয়েও বড় ধরণের সীমাবদ্ধতা জয় করা যায়। এর আগে ভারতের অতি দরিদ্র এবং প্রান্তিক অঞ্চলে এমন বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্মা নেয়া শিশুরা প্রায় সব মারা যেত।