শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে বিদেশি বন্ধু হিসেবে সম্মাননা পেয়েছিলেন পাকিস্তানি ওয়ারিস মীর, তা ফিরিয়ে দিতে চেয়েছেন তার ছেলে সাংবাদিক হামিদ মীর।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপড়েনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, বাবার ওই সম্মাননাকে তার ধোঁকা বলে মনে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জিও নিউজের নিয়মিত শো ক্যাপিটাল টকে হামিদ বলেন, ২০১৩ সালে আমাদের বলা হয়েছিল পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো করার জন্য পাকিস্তানের কিছু মুরুব্বিকে বাংলাদেশ সরকার অ্যাওয়ার্ড দেবে। ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক অপারেশনের বিরোধিতা করেছিলেন তাদের এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। যার মধ্যে আমার বাবাও ছিলেন।
হামিদ মীর বলেন, সে সময় ১৩ জন পাকিস্তানি ওই দাওয়াত গ্রহণ করেছিলেন। আমি সেখানে গিয়ে বাবার পক্ষে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু এরপরে দেখলাম, হাসিনা সম্পর্ক ভালো করার জায়গায় আরও খারাপ করলেন।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে ২০১৩ সালের মার্চে বাবার সম্মাননা নিতে ঢাকায় এসেছিলেন হামিদ মীর। সে সময় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানেও একদিন একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচার হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে যে ক’জন পাকিস্তানি বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব বাংলা) সংঘটিত পাকিস্তানি গণহত্যার প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন, অধ্যাপক ওয়ারিশ মীর ছিলেন তাদের একজন। ২০১৩ সালে তার মুক্তিযুদ্ধকালীন এই ভূমিকার স্বীকৃতি দেয় সরকার। অধ্যাপক মীরকে বিদেশি সুহৃদদের জন্য ঘোষিত ফরেন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে অধ্যাপক ওয়ারিশ মীরসহ পাঁচ পাকিস্তানিকে সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ওয়ারিশ মীরের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন হামিদ মীর।
এছাড়াও বিপ্লবী কবি হাবীব জালিবের মেয়ে তাহিরা জালিব, প্রখ্যাত কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের মেয়ে সেলিমা হাশমি, মালিক গুলাম জিলানির মেয়ে আসমা জাহাঙ্গীর এবং গাউস বক্স বিজেনজোর ছেলে হাসিল বক্স বিজেনজো সম্মাননা গ্রহণ করেন।
ওই সম্মাননা অনুষ্ঠানে হামিদ মীর বলেছিলেন, আমরা জানি, আজ আমরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া অনেককেই সম্মান জানাতে পারবো না। তিনি আরো বলেন, অনেকের নামই হয়তো আমরা জানি না। যারা নিঃশব্দে ওই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন।
সে সময় পাক বাহিনীর নির্মমতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক জং পত্রিকায়। ২০১১ সাল থেকে ফরেন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড প্রদান শুরু হয়।