শীর্ষবিন্দু নিউজ: সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আড্ডা’ দিচ্ছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, দেশটির ভিসা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। সরাসরি জবাব দিচ্ছেন ব্যস্ত এ কূটনীতিক।
বুধবার বিকালের এক আড্ডায় বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতির সঙ্গে নানা কারণে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত চৌকস এ কূটনীতিকের কাছে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আসন্ন নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন আসে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি অনেক জবাব দিয়েছেন তার স্বভাব-সুলভ ভঙ্গিতে। ফেসবুক পেজ ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রশ্ন আহ্বানের পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ২১০ প্রশ্ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ড্যান মজিনা ২৫টির জবাব দিয়েছেন। সেখানে একজন দূত হিসেবে দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে তার কাজকর্ম ও বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। রিফাত আহনাফ নামের একজন প্রশ্নকর্তা এ নিয়ে রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে ড্যান মজিনা বলেন, ২৭শে জুন জিএসপি স্থগিত করার পর দেশটির তরফে এটি ফেরত পাওয়ার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবারও জিএসপি ফিরে পেতে পারে। রিফাত আহনাফের প্রশ্নের দ্বিতীয় ভাগে ছিল বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আরও সহজ করার আবেদন। রাষ্ট্রদূত এ নিয়ে কোন জবাব দেননি।
শোয়েব আবদুল্লাহ আল মামুন নামের একজন জানতে চান, জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে কিনা? আর যদি না থাকে তাহলে কি করা উচিত? জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে উন্নতিও করছে। ডিসেম্বরে জিএসপি নিয়ে ওয়াশিংটনে পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তা ফিরে পেতে পারে। বাংলাদেশ যাতে কর্মপরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারে এজন্য তিনি নিজেও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন ড্যান মজিনা। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে বিস্তারিত না বললেও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
সমঝোতার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি এখনও স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডব্লিউ ড্যান মজিনা বলেছেন, বাংলাদেশে এখনও রাজনৈতিক দলের সংলাপের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। অতীতের মতো এখনও সব দলের সংলাপে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে প্রত্যাশা রাখে মার্কিন সরকার। তবে সংলাপ আর সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই করতে হবে।
বুধবার সকালে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট-এর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনীতে একটি কনটেইনার পোর্ট হলে এ এলাকার দৃৃশ্যপট বদলে যাবে। সমৃদ্ধ হবে এ জনপদ। পোর্ট হলে সড়কপথে চাপ কমবে। নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ড্যান মজিনা বলেন, নারায়ণগঞ্জের কুমুদিনীর পাট বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে এটা একটি ভাল দিক। এ প্রতিষ্ঠানের কুটির শিল্প ও হস্তশিল্প রপ্তানির কারণে দেশের সুনাম বাড়ছে। সকাল ১০টায় ড্যান মজিনা কুমুদিনীতে প্রবেশ করেন।
তিনি বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখার পর শীতলক্ষ্যা নদীও ঘুরে দেখেন। তখন তার সঙ্গে ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিস উইলসন, এডাম নরেকিন, মোবাশ্বের শাহিদ, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব সাহা, তার মা শ্রীমতি সাহা, মহাব্যবস্থাপক রিয়াজুল কবির, উপ-মহাব্যবস্থাপক সমির সাহা, কর্মকর্তা আনোয়ার, হুমা রায়, ব্যারিস্টার রেহান ফারুক প্রমুখ।
Leave a Reply