শীর্ষবিন্দু নিউজ: করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় লকডাউন রাজধানী লন্ডনসহ পুরো ব্রিটেন। ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পদক্ষেপ হিসেবে এই বিশেষ ব্যবস্থা জোরদার করছে বরিস জনসনের সরকার।
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে সকল স্কুল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দেশজুড়ে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২০ হাজার সেনা সদস্য। রাজধানী লন্ডনে আনুষ্ঠানিক লকডাউন জারির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে লকডাইন হয়ে গেছে লন্ডনের কিছু এলাকা।
বৃহস্পতিবার লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি আংশিক শাটডাউন শুরু হয়েছিল, সেখানে শহরজুড়ে ৪০টি টিউব স্টেশন অন্যান্য লাইনের সাথে পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বার ও রেস্তোরাঁগুলো। সুপারস্টোরগুলোও ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু রাখা হয়েছে।
পাবলিক বাস-ট্রেন চালু থাকলেও তা সীমিত হয়ে আসবে। শুধুমাত্র ডাক্তার নার্স বা সেবা প্রদানকারীদের জন্য এই গণপরিবহন চালু থাকবে। বড় বড় মসজিদ, গীর্জা বন্ধ করা হয়ে গেছে।
দ্য মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার বিকেল থেকে বৃটেনজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে সকল স্কুল। পাশাপাশি চলতি মৌসুমের সকল এ-লেভেল পরীক্ষাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা শহরটিকে সুপার সংক্রমণকারীদের শহর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। লকডাউনের অংশ হিসেবে, কমিয়ে দেয়া হবে পরিবহণ সেবাও। জারি করা হতে পারে আরো কঠোর ব্যবস্থাও। আজ বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে ক্ষমতা দেয়ার ব্যাপারে আইন পাসের কথা রয়েছে।
এদিকে, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় সকল কাজ বাতিল ঘোষণা করেছেন বৃটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তিনি শুক্রবার বাকিংহাম প্যালেস ছেড়ে উইন্ডসর ক্যাসেলে চলে যাবেন। সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধির অংশ হিসেবে সেখানে যাবেন তিনি।
লন্ডনের মেয়র খুব জরুরি না হলে নগরবাসীকে গণপরিবহন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা বন্ধ করতে উপদেশ দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারীতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ। ভাইরাসটি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে অঞ্চলটির সরকাররা। বৃটেনে ভাইরাসটি মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে সমালোচিত হচ্ছে সরকার। এর মাঝে লন্ডন লকডাউন করে দেয়ার ও স্কুল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬২৬ জন। মারা গেছেন ১০৪ জন। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে লন্ডনে। শহরটিতে বুধবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৯২৯ জন।