বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫

সংযুক্ত আরব আমিরাত: করোনা আতঙ্ক দেশে দেশে

সংযুক্ত আরব আমিরাত: করোনা আতঙ্ক দেশে দেশে

আনোয়ার শাহজাহান: সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সাতটি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি ফেডারেশন। ১৯৭১ সালে দেশগুলি স্বাধীনতা লাভ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের নাম হল আবুধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাহআসুল খাইমাহ, শারজাহ্ এবং উম্ম আল খাইয়ুম। আবুধাবি শহর ফেডারেশনের রাজধানী এবং দুবাই দেশের বৃহত্তম শহর।

সংযুক্ত আরব আমিরাত মরুময় দেশ। এর উত্তরে পারস্য উপসাগর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে সৌদি আরব, এবং পূর্বে ওমান ও ওমান উপসাগর। এর আয়তন ৮৩ হাজার ৬শ বর্গ কিলোমিটার (৩২ হাজার ৩ শ বর্গ মাইল)।

২০০৫ সালের আদমশুমারি হিসেব অনুযায়ী লোকসংখ্যা ৪১ লাখ ০৬ হাজার ৪২৭ এবং ২০১৭ সালের আনুমানিক হিসেব এর লোকসংখ্যা ৯৪ লাখ।

সর্বশেষ তথ্যানুসার সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাত লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন।

প্রথম রোগী শনাক্ত:
করোনা আতঙ্কের দেশ হিসেবে ১৯তম তালিকায় ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার উহান থেকে আসা এক পরিবারে প্রথমবারের মতো রোগের সন্ধান পায় আমিরাত স্বাস্থ্য বিভাগ। ২৯ জানুয়ারি বুধবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। খবর রয়টার্সের।

আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য ও প্রতিকার মন্ত্রণালয় চীনের উহান থেকে আসা এক পরিবারে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির নিশ্চিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রযোজনীয় চিকিৎসা সহ নজরদারিতে রাখে।

করোনায় আক্রান্ত প্রথম বাংলাদেশি:
২১ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে ৩৯ বছর বয়স্ক এক বাংলাদেশি আক্রান্ত হন। ২২ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ২৮ জানুয়ারি। ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার প্রথমবারের মত একজন বাংলাদেশি নাগরিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশি এই লোক সহ তখন দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১১।

প্রসঙ্গত সিঙ্গাপুরে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মত এক বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ২১ ফেব্রুয়ারি আরব আমিরাতে আরেক বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হোন। তখন বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে কোন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

করোনায় আক্রান্ত প্রথম মৃত্যু:
২১ মার্চ শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। দেশটির স্বাস্থ্য ও প্রতিরোধ মন্ত্রণালয় টুইটারে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

দুইজন রোগীর মধ্যে একজন হলেন ৭৮ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক। তিনি ইউরোপ থেকে গিয়েছিলেন। করোনায় সংক্রমিত ওই ব্যক্তি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। মারা যাওয়া ৫৮ বছর বয়সী অপর ব্যক্তি ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। তিনি হৃদরোগ ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।

প্রথম বাংলাদেশির মৃত্যু:
২৮ মার্চ শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবারের মত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫২ বছর বয়স্ক মাহবুবুল আলম একজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তিনি একই সঙ্গে হৃদরোগেও ভুগছিলেন।

২৮ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলেও ৩ এপ্রিল শুক্রবার করোনা ভাইরাসে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিজানুর রহমান।

মাহবুবুল আলম আমিরাতে বৈদ্যুতিক এবং নদীর গভীরতানির্ণয় টেকনিশিয়ান হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার চারালিয়ার হাট কেফায়েত নগর গ্রামের আবদুল সালামের ছেলে। মাহবুবুল আলমের তিন পুত্র সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। তাঁর স্ত্রী এবং একজন বৃদ্ধ মা রয়েছেন।

গাল্ফ নিউজে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মাহবূবুল আলমের একজন বন্ধু বলেছেন, “আমি তাকে চিনতাম কারণ আমরা একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলাম। বাড়ির প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে সে খুব হাসিখুশি নিয়ে কথা বলত। সব বয়সের মানুষের কাছে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।”

ইসলামের মতে, অতীতে আলম দুটি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ১৯ মার্চ বুকে ব্যথার জন্য দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা কেবল জানতাম যে তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং ভর্তি হয়েছিলেন। ১১ দিন পরে আমাদের জানানো হয়েছিল যে তিনি মারা গেছেন, এবং তারপরেও আমরা ভেবেছিলাম এটি হৃদরোগের জন্য মারা যেতে পারেন। গাল্ফ নিউজে ইসলাম আরও বলেন, “আমি যখন তার মৃত্যুর সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম তখনই আমরা জানতে পেরেছিলাম তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আরব আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তঃ
২৪ মার্চ মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার দুই সপ্তাহের জন্য দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আমিরাতের সকল বাসিন্দাদের জন্য ‘স্টে হোম’ বা বাসায় থাকার জন্য একটি নতুন প্রচরণা শুরু করে দেশটি এবং এটি বাস্তাবায়নের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে।

গুজব ছড়ালেই ৪ লাখ টাকা জরিমানা:
করোনাভাইরাস নিয়ে ‘গুজব’ ছড়ালে বা এ সম্পর্কিত যে কোনও ধরনের ‘ভুল তথ্য’ দিলে ২০ হাজার দিরহাম ( বাংলাদেশি মূদ্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা) জরিমানার বিধান চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

১৮ এপ্রিল শনিবার আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএমে এ নির্দেশনা প্রচার করা হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

ডব্লিউএএমের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, আরব আমিরাতে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা সরকারিভাবে ঘোষণা দেয়া হয়নি এমন কোনো মেডিকেল তথ্য বা নির্দেশনা প্রিন্ট, অডিওভিজ্যুয়াল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশনা নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোকে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সব বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্ধ:
বিশ্বব্যাপী করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তেই আরব আমিরাতের স্বাস্থ্য, সমাজ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় জরুরি ও সংকট কর্তৃপক্ষ সব বাণিজ্যিক কেন্দ্র, শপিংমল এবং উন্মুক্ত বাজার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি মাছ, শাক-সবজি এবং মাংস বিক্রির বাজারগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু পণ্য সরবরাহ ও পাইকারি বিক্রিকারী সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েনি।

প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ:
একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় দূর্যোগ মন্ত্রণালয় নাগরিক ও দর্শনার্থীদের মাস্কিং এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশনার পালনে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।

একান্ত প্রয়োজনে নিজের গাড়ি ব্যবহার করে বের হওয়ার প্রতি উৎসাহিত করেছে। গণপরিবহন আপাতত এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে। আর একজন দেশের বিশেষ বিশেষ নাগরিককে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সবকিছু বাসায় পৌঁছে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

হাসপাতালে না যাওয়ার পরামর্শ:
গুরুতর প্রয়োজন ছাড়া হাসপাতালে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে গেলেও গণপরিবহন, ট্যাক্সি ও অন্যান্য পরিবহনের ব্যবহার এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে। দেশটি গণপরিবহনের জন্য বিভিন্ন আইন তৈরির কথা ভাবছে। সেগুলো না মানলে জরিমানা প্রয়োগ করা হবে। সে বিষেয়ে নির্দেশনা দু’একদিনের মধ্যেই আসবে।

বিমান পরিবহন বন্ধ ঘোষণা:
আরব আমিরাতের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে যাত্রী, ফ্লাইট ক্রু এবং বিমানবন্দর কর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে বিমানগুলো দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বিনোদন ও পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ:
এ ছাড়া বিনোদন ও পর্যটন স্পটগুলো, খেলার মাঠ, সুইমিংপোলসহ সব ধরনের বাড়তি ব্যবস্থাপনাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

বাড়িতে নামাজ পড়ুন:
করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ আজানের বাণী বদলে দিয়েছিল।

খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজ নামের দুটি সংবাদপত্র তাদের এক রিপোর্টে এই তথ্য নিশ্চিত করে। ১৬ মার্চ সোমবার আমিরাতের মসজিদগুলো থেকে যে আজান দেয়া হয় তাতে একটি নতুন বাক্য যুক্ত হয়েছে।

আজানে যুক্ত করা এই নতুন বার্তায় লোকজনকে বাড়িতে থেকে নামাজ পড়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ইসলাম ধর্মের রীতিতে মসজিদে এসে নামাজ পড়ার আহ্বান জানিয়ে যে আজান দেয়া হয় তার বাণীতে একটি বাক্য হচ্ছে ‘হাইয়া আলা আল-সালাহ’ – যার অর্থ নামাজ পড়তে আসুন।

নতুন আজানে শোনা যাচ্ছিল মুয়াজ্জিন বলছেন, ‘আল-সালাতু ফি বুয়ুতিকুম’ – অর্থাৎ বাড়িতে থেকে (অথবা আপনি যেখানে আছেন সেখানে থেকেই) নামাজ পড়ুন।

মুয়াজ্জিনকে এ বাক্যটি দু’বার বলতেও শোনা যায় বলে পত্রিকা তার রিপোর্টে উল্লেখ করে।

দুবাইয়ের ইসলামিক এফেয়ার্স এ্যান্ড চ্যারিটেবল এ্যাকটিভিজ ডিপার্টমেন্টকে উদ্ধৃত করে গালফ নিউজ জানায়, ওই বিভাগের ইনস্টাগ্রাম পেজে পোস্ট করা এক বার্তায় বলা হয়, “প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ফলে দুবাইয়ের সব মসজিদে জামাতে নামাজ পড়া স্থগিত থাকবে, এবং জনগণকে তাদের বাড়িতে থেকে নামাজ পড়তে বলা হবে এবং এই মহামারি মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হবে।”

গালফ নিউজ জানায়, এই পোস্টের আরবি সংস্করণে শেষে একটি লাইন জুড়ে দেয়া হয় যাতে বলা হয়, (এ পরিবর্তনের ব্যাপারে আপনাদের সচেতন করতে) এখন মুয়াজ্জিনকে বলতে শোনা যাবে ‘বাড়িতে নামাজ পড়ুন’।

খালিজ টাইমসের রিপোর্টে বলা হয় ‘দ্য জেনারেল অথরিট অব ইসলামিক এ্যাফেয়ার্স এ্যান্ড এনডাওমেন্টস’ ১৬ মার্চ সোমবার বলেছে, “মসজিদগুলো থেকে মুসল্লিদেরকে নামাজের সময়ের ব্যাপারে সচেতন করতেই শুধু আজান দেয়া হবে। মসজিদের দরজা বন্ধ থাকবে।”
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই নতুন আজানের ভিডিও পোস্ট করে বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন।

করোনাভাইরাস বা কোভিড নাইনটিন বিস্তার ঠেকানোর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে মসজিদে এসে নামাজ পড়া ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখে। ১৬ মার্চ সোমবার রাতে আমিরাত সরকারের এ নির্দেশ ঘোষিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সব জায়গাতেই এক মাসের এ স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে বলে গালফ নিউজের সংবাদে বলা হয়।

বাংলাদেশিদের পাশে বাংলাদেশি:
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে অনেক বাংলাদেশি দিশেহারা। দেশটির অনেক এলাকা লকডাউন ঘোষণা করার ফলে প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। খাদ্য সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা। তাদের সাহায্য আমিরাত সরকারের পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে অনেকগুলো বাংলাদেশি সংগঠন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি সংগঠন হল বাংলাদেশ সমিতি, শারজাহ এবং বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম। এ দুটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে পাঁচশত প্রবাসীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। এ ছাড়াও স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ও পাঁচ হাজারেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য খাদ্যদ্রব্য দিয়েছে। তাদের কার্যক্রমের প্রসংশা করে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ইকবাল হোসেন খান বলেন, ‘চলমান সংকটে যারা প্রবাসীদের জন্য এগিয়ে এসেছেন, তারা দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। দেশ ও জাতি তাদের অবদান সবসময় স্মরণ রাখবে।’ পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাস এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে খাদ্য সরবরাহ করেছে।

সর্বশেষ:
করোনায় আক্রান্তের দিক দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে আমিরাতের অবস্থান চতুর্থ। প্রথম অবস্থানে রয়েছে ইরান (আক্রান্ত ৮৯,৩২৮ জন), দ্বিতীয় অবস্থানে সৌদি আরব ((১৬,২৯৯ জন), তৃতীয় স্থানে কাতার (৯৩৫৮ জন)।

২৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমিরাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯২৮১ এবং মৃতের সংখ্যা ৬৪ জন। ঐদিন মোট আক্রান্ত হলেন ৫২৫ জন এবং মারা গেছেন ৮ জন। এছাড়াও ১৭৬০ জন আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়েছেন। আমিরাতে করোনায় শতকরা মৃতের হার ৬ ভাগ বলে জানিয়েছে আমিরাত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনায় আক্রান্তের মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন সত্তরের কাছাকাছি এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026