রমজান কোরআন নাজিলের মাস, আসুন! বেশী বেশী কোরআন তেলাওয়াত করি। রমজান কোরআন নাজিলের মাস। এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই এ মাসের সাথে পবিত্র কুরআনের বড় সম্পর্ক রয়েছে।
মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির দিগদর্শণ মুসলিম উম্মাহর জন্য শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত আল্লাহর বাণী পবিত্র ‘আল-কোরআন’।
এটি বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা:) এর প্রতি আল্লাহর কাছ থেকে জিবরাইল ফেরেশতা মারফত সুদীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়।
কোরআন মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মুক্তির দিশারি বা পথপ্রদর্শক। পবিত্র কোরআনকে সর্বকালের, সর্বদেশের, সর্বলোকের জীবনবিধান ও মুক্তির সনদ হিসেবে আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে নাজিল করেছেন।
পবিত্র কোরআন নাজিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তাআলা উনার পেয়ারে হাবিব হযরত মুহম্মদ (সা:) কে স্বপ্নের মাধ্যমে এ মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন।
মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির দিগদর্শণ মুসলিম উম্মাহর জন্য শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত আল্লাহর বাণী পবিত্র’আল-কোরআন’।
এটি বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা:) এর প্রতি আল্লাহর কাছ থেকে জিবরাইল ফেরেশতা মারফত সুদীর্ঘ ২৩বছরে অবতীর্ণহয়।
কোরআন মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মুক্তির দিশারি বা পথপ্রদর্শক। পবিত্র কোরআনকে সর্বকালের, সর্বদেশের, সর্বলোকের জীবনবিধান ও মুক্তির সনদ হিসেবে আল্লাহ তাআলা ওহীর মাধ্যমে নাজিল করেছেন।
পবিত্র কোরআন নাজিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তাআলা উনার পেয়ারে হাবিব হযরত মুহম্মদ (সা:) কে স্বপ্নের মাধ্যমেএ মহান কাজের জন্য প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন।
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (আ:) হতে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা:) এর উপর ওহী নাজিলের সূচনা হয়েছিল স্বপ্নেরমাধ্যমে। তিনি স্বপ্নে যা দেখতেন তা দিনের আলোর মতো তাঁর জীবনে প্রতিভাত হতো।
হযরত জিবরাইল (আ:) এর মাধ্যমে ওহী প্রাপ্তির আগে আস্তে আস্তে তিনি নির্জনতা প্রিয় হয়ে ওঠেন, হেরা গুহায় নিভৃতে আল্লাহতাআলার ধ্যানে তিনি মশগুল হয়ে পড়েন এবং বিশাল সৃষ্টি ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন।
খাবার পানি শেষ হয়ে গেলে সেসব নেয়ার জন্যেই তিনি শুধু বাড়ি যেতেন। মাঝে মাঝে উনার অতি প্রিয় সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (আ:) উনাকে হেরা গুহায় খাবার দিয়ে আসতেন।
একদিন জিবরাইল (আ:) হযরত মুহম্মদ (সা:) এর কাছে এসে গভীর কণ্ঠে তাঁকে বলেন ‘ইকরা’ পড়ুন। প্রিয় নবী (সা:) বিস্ময়েহতবাক হয়ে গেলেন। উদ্বেলিত কণ্ঠে তাকে বললেন ‘আমি তো পড়তে জানি না’।
জিবরাইল (আ:) তখন হুজুরে পাক হযরত মুহম্মদ (সা;) কে বুকে চেপে ধরে আবার বলেন, পড়ুন। তৃতীয় বার যখন জিবরাইল(আ:) তাঁকে বুকে আলিংগন করে ছেড়ে দিয়ে বলেন, পড়ুন!
তখন হুজুরে পাক (সা:) ওহীর প্রথম পাঁচটি আয়াত [পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেনমানুষকে জমাট রক্তপিন্ড থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষাদিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। -সূরা আলাক্ব: প্রথম পাঁচ (১ – ৫) আয়াত।] পড়লেন। তারপর সাথ সাথে হযরত জীবরাঈল(আ:) সেখান থেকে চলে গেলেন। এই হল পবিত্র কোরআন নাজিলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
এখন আমরা জানবো পবিত্র কোরআনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-
* ৬১০ খ্রিস্টাব্দ ও রমজান মাসের কদরের রজনীতে হেরা পর্বতের গুহায় সর্বপ্রথম কোরআন অবতীর্ণ হয়।
* অবতীর্ণের মোট সময়কাল ২২ বছর পাঁচ মাস ১৪ দিন।
* প্রথম নাজিলকৃত পূর্ণ সুরা হলো সুরা ফাতিহা।
* সর্বপ্রথম নাজিলকৃত কোরআনের আয়াত হলো সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত।
* কোরআনের প্রথম শব্দ হলো ‘ইকরা’—তুমি পড়ো।
* কোরআনের সর্বশেষ নাজিলকৃত সুরা হলো সুরা আন-নসর এবং সর্বশেষ নাজিলকৃত আয়াত হলো সুরা বাকারার ২৮১ নম্বরআয়াত।
* কোরআন নাজিল শেষ হয় হিজরি ১১ সালের সফর মাসে।
* কোরআনের সর্ববৃহৎ সুরা হলো সুরা বাকারা। এর আয়াত সংখ্যা ২৮৬।
* কোরআনের সবচেয়ে ছোট সুরা হলো সুরা কাওসার। এর আয়াত সংখ্যা ৩।
* পবিত্র কোরআনের মোট সুরা ১১৪টি। এর মধ্যে মাক্কি সুরা (হিজরতের আগে বর্ণিত) ৯২টি, মাদানি সুরা (হিজরতের পরেবর্ণিত) ২২টি।
* কোরআনে মোট ৫৪০টি রুকু আছে।
* প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী কোরআনের মোট আয়াত ছয় হাজার ৬৬৬টি। কিন্তু গবেষকদের দৃষ্টিতে মোট ছয় হাজার ২৩৬টি।
* কোরআনের আয়াতের ধরনআদেশসূচক আয়াত এক হাজার, নিষেধসূচক এক হাজার, সুসংবাদসূচক এক হাজার, ভীতিপ্রদর্শনসূচক এক হাজার, কাহিনীমূলক এক হাজার, দৃষ্টান্তমূলক এক হাজার, হালালসংক্রান্ত ২৫০, হারামসংক্রান্ত ২৫০, দোয়া, জিকির ও তাসবিহ সংক্রান্ত ১০০টি।
* কোরআনের মোট শব্দ ৮৬ হাজার ৪৩০টি।
* কোরআনের মোট অক্ষর তিন লাখ ৪৭ হাজার ৮৩৩টি, মতান্তরে তিন লাখ ৪৯ হাজার ৩৭০টি, মতান্তরে তিন লাখ ৫১ হাজার২৫২টি।
* কোরআনের মোট মনজিল সাতটি এবং পারা ৩০টি।
* কোরআনের মোট হরকত—জের ৩৯ হাজার ৫৮২, জবর ৫২ হাজার ২৩৪, পেশ হলো আট হাজার ৮০৪, জজম এক হাজার৭৭১, নুকতা এক লাখ পাঁচ হাজার ৬৮১, তাশদিদ এক হাজার ৪৫৩, ওয়াকফ্ ১০ হাজার ৫৬৪, মাদ এক হাজার ১৭১ ও আলিফমামদুদাহ ২৪০টি।
* কোরআনে হরফের সংখ্যা—আলিফ ৪৮ হাজার ৪৭৬ বা ১১ হাজার ৪৪২, তা ১০ হাজার ১৯৯, ছা এক হাজার ২৭৬, জিম তিনহাজার ২৭৩, হা তিন হাজার ৯৭৩, খা দুই হাজার ৪৪৬, দাল পাঁচ হাজার ৬৪২, জাল চার হাজার ৬৭৭, রা ১১ হাজার ৭৯৩, জাএক হাজার ৫৯৩, সিন এক হাজার ৮৯১, শিন দুই হাজার ২৫৩, ছোয়াদ দুই হাজার ১৩, দোয়াদ এক হাজার ৬০৭, তোয়া একহাজার ২৭৭, জোয়া ৮৪২, আইন ৯ হাজার ২২০, গাইন দুই হাজার ১০৮, ফা আট হাজার ৪৯৯, ক্বাফ ছয় হাজার ৮১৩, কাফ ৯হাজার ৫০২, লাম ৩৩ হাজার ৪৩২, মিম ২৬ হাজার ৫৬০, নুন ৪৫ হাজার ১৯০, ওয়াও ২৫ হাজার ৫৩৬, হা ১৯ হাজার ৭০, লামআলিফ চার হাজার ৭২০, ইয়া ৪৫ হাজার ৯১৯টি।
* সর্বপ্রথম কোরআনে নুকতা ও হরকত প্রবর্তন করেন আবুল আসওয়াদ দুয়াইলি, মতান্তরে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
* হানাফি মাজহাব মতে, কোরআনে তিলাওয়াতে সিজদা ১৪টি এবং সাকতার সংখ্যা চারটি।
* কোরআনে নবী ও রাসুলের নাম এসেছে ২৫ জনের। ফেরেশতার নাম এসেছে চারজনের। শয়তান শব্দটি এসেছে ৮৫ বার, ইবলিস এসেছে ১১ বার। জিনজাতির প্রসঙ্গ এসেছে ৩২ বার।
* নবীদের মধ্যে পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে বেশি এসেছে মুসা (আ.)-এর নাম। তার নাম এসেছে ১৩৫ বার।
* কোরআনে ছয়জন কাফিরের নাম আছে।
* কোরআনে বিসমিল্লাহ নেই সুরা তওবায়।
* কোরআনে বিসমিল্লাহ দুইবার এসেছে সুরা নামলে।
* কোরআনে বর্ণিত একজন সাহাবি হজরত জায়েদ (রা.)।
* কোরআনে বর্ণিত একজন নারী মারইয়াম বিনতে ইমরান।
* কোরআনের প্রথম ওহি লেখক জায়েদ বিন সাবেত (রা.)।
* কোরআনের মুখপাত্র হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস।
* কোরআনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
* কোরআনের প্রথম সংকলক হজরত ওসমান (রা.)।
* কোরআনের প্রথম ও প্রধান তাফসিরবিদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মাহে রমজানে বেশী বেশী তেলাওয়াত করতেন। তিনি প্রতি রমজানে জিব্রাইল (আঃ) এর সাথে পবিত্র কুরআন দাওর করতেন। মানে একবার জিব্রাইল (আঃ) তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেকোরআন শোনাতেন, আবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিব্রাইলকে কোরআন শোনাতেন। এভাবে তারা একেঅপরকে শোনাশুনি করতেন পবিত্র কোরআন শরীফ।
রমজান মাস আসলে আমাদের আকাবির আছলাফগণ বেশী বেশী কোরআন তেলাওয়াতে মগ্ন থাকতেন। সকল ইবাদতের সাথেকোরআন তেলাওয়াতকে বেশী প্রাধান্য দিতেন।
তার কারণ নফল ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হলো কোরআনের তেলাওয়াত। একারনে সকল বুজুর্গদের নিয়ম ছিল বেশী বেশী তেলাওয়াত। বুজুর্গদের খানকায় কোরআন তেলায়াতের প্রতি বেশী গুরত্বারোপ করা হয়।
একে তো রমজান মাস, রোজাদারের উপর আল্লাহর বিশেষ রহমত থাকে। এরপর আবার যদি কোরআনের তেলাওয়াত করা হয়, তাহলে তো “নুরুন আলা নুর”।
রোজার দ্বারা যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, আত্মার শুদ্ধি লাভ করা যায়। তেমনী ভাবে তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহরসাথে বিশেষ সম্পর্ক স্হাপন হয়।
একারণে রোজার মাসের তেলাওয়াতের গুরুত্বটা যেন অনেক বেশী।
আর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতে তো প্রতিটি হরফের বিনিময়ে কমপক্ষে দশ নেকী দান করা হয়। আর রমজানে তেলওয়াতকরলে তো তার ছওয়াব ৭০ গুন বৃদ্ধি হয়ে যাবে বলে আশা করা হয়। মানে অফুরন্ত সওয়াবের মালিক বনে যাবেন তেলাওয়াতকারী।
এমনি ভাবে আত্মশুদ্ধির এই মাসে কোরআন তেলাওয়াতে তার অন্তরাত্মা আরো পরিশুদ্ধ হবে। সে আরো অনেক পুত পবিত্রহতে পারবে , কেননা কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে তিনটি ফায়দার কথা উল্লেখ করা হয়,
এক. কোরআন তেলাওয়াতের দ্বারা মনের কালিমা দুর হয়। মনের অশান্তি চলে যায়।
দুই. তেলাওয়াতের দ্বারা আল্লাহর সাথে নিগুড় ভালবাসা স্হাপন হয়। আল্লাহর খালেছ বান্দায় পরিণত হয়।
তিন. তেলাওয়াতের বিনিময়ে প্রতিটি হরফে কমপক্ষে ১০ নেকী তেলাওয়াতকারী পেয়ে থাকে।
তাই ভাই-বোন ও বন্ধুদের প্রতি বিশেষ আবেদন, আসুন! আমরা কোরআন তেলাওয়াতের প্রতি মনোনিবেশ করি, মাহে রমজানের এই মোবারক সময় গুলো বেশী বেশী তেলাওয়াত করি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল কে তাওফিক দান করুন। আমিন!
লেখক: মাওলানা নুরুর রহমান, ইমাম- মসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারি- শরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড ও মিডল্যন্ড ইউকে।