শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা: করোনা ঠেকাতে চীন ছাড়া দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কমার্শিয়াল ফ্লাইট বন্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে আটকা পড়েন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রায় পাচঁ হাজার বৃটিশ নাগরিক। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই যাত্রীই সিলেট জেলার। তারা নাড়ির টানে বেড়াতে কিংবা প্রয়োজনে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
বাংলাদেশে আটকে পড়াে এই সব বৃটিশ নাগরিকদের চলমান উদ্ধার কার্যক্রম আগামী ৭ই মে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন।
সর্বশেষ ভিডিও বার্তায় সোমবার বৃটিশ দূত স্পষ্ট করেই বলেন, বৃহস্পতিবারের পর আর কোনো ফ্লাইট অ্যরেঞ্জের চিন্তা তাদের নেই। আর এ কারণে এখনও বাকী থাকা মঙ্গলবারের ৮ম বিশেষ ফ্লাইট এবং বৃহস্পতিবারের নবম এবং সর্বশেষ ফ্লাইট ধরতে তিনি নাগরিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অবশিষ্ট দু’টি ফ্লাইটের একটি আসনও যাতে ফাঁকা না যায় সেটি নিশ্চিত করতে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, হয়তো আপনি রেজিস্ট্রেশন করেছেন কিন্তু কোনো কারণে যেতে পারছেন না বা যাচ্ছেন না, দয়া করে দ্রুত আমাদের জানিয়ে দেন।
দূতাবাস বা ট্রাভেল এজেন্ট যে কারও কাছে ম্যাসেজটি রাখতে পারেন জানিয়ে হাই কমিশনার বলেন, এতে আপনার শূণ্য হওয়া আসনে অপেক্ষায় থাকা অন্য কেউ ফিরতে পারবেন। হয়তো ওই নাগরিকের বাড়ি (লন্ডন) ফেরাটা জরুরি।
এদের উদ্ধারে প্রথম দফায় (২১-২৬ শে এপ্রিল) ৪টি স্পেশাল ফ্লাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২১ শে এপ্রিলের প্রথম ফ্লাইটে ১০ শিশুসহ ২৬৪ নাগরিক, ২৩ শে এপ্রিলের দ্বিতীয় ফ্লাইটে ১৭৭, ২৫ শে এপ্রিলের তৃতীয় ফ্লাইটে ১৭১ এবং ২৬ শে এপ্রিলের চতুর্থ ফ্লাইটে ১৬৮ জন নাগরিক বৃটেনে ফিরেন।
তিনদিন বিরতির পর ২৯ শে এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫টি ফ্লাইট শুরু হয়। যার প্রথম ফ্লাইটে ২১০ জন, ১লা মে ২২৪ জন এবং রোববার (৩রা মে) ফিরেন ২১৩ জন। বৃটিশ দূত আগেই বলেন, দুই ধাপে ৯ স্পেশাল ফ্লাইট আয়োজন করতে পেরে তিনি খুবই অানন্দিত। এই ফ্লাইটগুলোর ব্যয় কম রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। ঢাকা বা সিলেট যেখান থেকেই নাগরিকরা যাত্রা করেন না কেন তাদের খরচ হচ্ছে মাথাপিছু ৬০০ পাউন্ড।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে বৃটিশ নাগরিকদের ফেরাতে বৃটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস ২১ শে এপ্রিল থেকে ঢাকায় স্পেশাল ফ্লাইট পাঠাচ্ছে। দেশটির ন্যাশনাল ক্যারিয়ার বৃটিশ এয়ারওয়েজের বোয়িং উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ৭ টি ফ্লাইটে ১৪২৭ নাগরিক ফিরেছেন জানিয়ে ঢাকাস্থ হাই কমিশনের মূখপাত্র জানান, যাদের বেশিরভাগই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে আটকা পড়েছিলেন। তাদের সিলেট থেকে ঢাকায় আনতে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ভাড়া করে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশন।