শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নতুন পাসপোর্ট বৃহস্পতিবারে রাতে তার ভাই শামীম ইস্কান্দারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন অপেক্ষা শুধু সরকারের কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার।
বিএনপির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে শেষ হয়ে যায়। গত বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আবেদন করে। এরপর বৃহস্পতিবার ভিসা ও পাসপোর্টের সকল কাজ সম্পন্ন করে তার পরিবার।
সুত্র জানায়, এমআরপি পাসপোর্টের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট ও আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনা ফিঙ্গার প্রিন্ট ও স্বাক্ষরে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এদিকে শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সর্ম্পকে জানতে চাইলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হবে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার এখনো অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। ডায়াবেটিস মাত্রা ১৭ থেকে ২২ এ উঠা নামা করছে। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে আছেন।
গৃহকর্মী ফাতেমাসহ খালেদা জিয়ার বিদেশসঙ্গী হচ্ছেন যারা
করোনায় আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে তার পরিবার সরকারের কাছে আবেদন করেছে। তারই প্রেক্ষিতে সরকার আবেদনে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে এখনও মেলেনি আনুষ্ঠানিক অনুমোদন।
সরকারের অনুমতি পেলে যেকোনো সময় তাকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য সদস্যরা। খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারা যাচ্ছেন সেটি এখনও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার সঙ্গে যাবেন এমন দুই চিকিৎসক এবং পরিবারের সদস্যদেরও ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডন যাবেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। এ ছাড়া ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও গৃহকর্মী ফাতেমাও বিদেশ যাবেন। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়া এবং যারা তার সঙ্গে যাবেন তাদের ভিসা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তারা।
সরকারের ইতিবাচক সারা পেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি ও তার পরিবার। খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসা নিতে চান। সেখানে তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান রয়েছেন।
এর আগে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেন তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। তিনি গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসায় গিয়ে আবেদনপত্রটি হস্তান্তর করেন। আবেদনপত্রটি পর্যালোচনার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘মৌখিক অনুমতি’ পাওয়া গেছে বলে পরিবার জানায়।
Leave a Reply