শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১১:৫০

ভারতে সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যায় মুম্বাই গ্যাং

ভারতে সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যায় মুম্বাই গ্যাং

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যায় গ্রেফতার হওয়া দুই সন্দেহভাজন দাবি করেছে যে তারা মুম্বাইয়ের লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য। এমনটাই জানিয়েছে সূত্র।

তবে পুলিশ এখনও এই দাবি যাচাই করতে পারেনি। আর গ্যাংটিও এখনও হত্যার দায় স্বীকার করেনি। শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন বাবা সিদ্দিকি। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

৬৬ বছর বয়সী বাবা সিদ্দিকি ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির অজিত পাওয়ার অংশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। মহারাষ্ট্রের বান্দ্রা পশ্চিম নির্বাচনী এলাকা থেকে তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিলাসরাও দেশমুখের অধীনে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি খাদ্য ও বেসামরিক সেবা সরবরাহ এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে তিনি প্রায় পাঁচ দশক যুক্ত ছিলেন। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা পূর্ব এলাকার নির্মল নগরে কোলগেট মাঠের কাছে ছেলে জিশান সিদ্দিকের অফিস থেকে বের হন বাবা সিদ্দিকি।

গাড়িতে উঠতে যাবেন এমন সময়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কমপক্ষে ছয়টি গুলি চালানো হয়। চারটি গুলি তার বুকে লাগে। পুলিশ এটিকে চুক্তিভিত্তিক হত্যা হিসেবে সন্দেহ করছে এবং তদন্তের জন্য চারটি বিশেষ দল গঠন করেছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো মুম্বাই পুলিশের সাথে যোগাযোগ রাখছে। গুজরাট ও দিল্লির পুলিশও মামলাটি তদন্ত করছে।

পুলিশ জানায়, বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করার সঙ্গে তিন ব্যক্তি জড়িত। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তৃতীয় ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন। গ্রেফতার দুজন হলেন-হরিয়ানার কর্নাইল সিং এবং উত্তরপ্রদেশের ধরমরাজ কাশ্যপ।

ক্রাইম ব্রাঞ্চের সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুইজন দাবি করেছেন যে তারা প্রায় এক মাস ধরে গুলি করার স্থানের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। তিন অভিযুক্ত শনিবার রাতে একটি অটোরিকশায় ঘটনাস্থলে আসে এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর গুলি চালায়।

পুলিশ এই ঘটনার দুটি দিক থেকে তদন্ত করছে – একটি বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সাথে সম্পর্কিত এবং অন্যটি একটি বস্তি পুনর্বাসন মামলার সাথে জড়িত।

বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে কারণ বাবা সিদ্দিকি বলিউড তারকা সালমান খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সালমান খান এর আগে লরেন্স বিষ্ণোইর কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন।

সিদ্দিকির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তিনি ১৫ দিন আগে মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন এবং তাকে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল। তবে সিদ্দিকি বিষ্ণোই গ্যাং থেকে কোনও হুমকি পাওয়ার কথা পুলিশকে জানায়নি বলে জানা গেছে।

বহু অপরাধমূলক মামলার আসামি লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দী আছেন।

তবে তার গ্যাং প্রায়শই ব্যবসায়ীদের থেকে মুক্তিপণ আদায় করে। সালমান খান ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার শিকার মামলার কারণে তার তালিকায় রয়েছেন সালমান খান।

এর আগে বিষ্ণোইর ঘনিষ্ঠ সহযোগী রোহিত গোদারা বলেছিলেন, সালমান খানের যেকোনও বন্ধু তাদের শত্রু।

পুলিশ জানিয়েছে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ে ৭০০-এরও বেশি সদস্য রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অনেক অপরাধী তার হয়ে কাজ করে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026