শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৪:৪৭

হযরত কুলসুম বিনতে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস্সাল্লাম

হযরত কুলসুম বিনতে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস্সাল্লাম

আজ শুক্রবার। পবিত্র জুমাবার। আজকের বিষয় ‘হযরত কুলসুম বিনতে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস্সাল্লাম’। শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ‘ইসলাম বিভাগ প্রধান’ ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান।

হযরত কুলসুম বিনতে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াস্সাল্লাম أم كلثوم ছিলেন হযরত মোহাম্মাদ সাঃ এবং তার প্রথম স্ত্রী উমমুল মুমিনিন খাদীজাতুল কুবরা এর তৃতীয় কন্যা।যিনি তৃতীয় খলিফা উসমান রাঃ এর স্ত্রী ছিলেন।

হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) ছিল হযরত খাদিজার (রাঃ) গর্ভে হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর ঔরসে তৃতীয়া কন্যা। হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর আসল নাম ছিল উমাইয়া। ধারনা করা হয় হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) নবুয়ত লাভের ছয় বছর পূর্বে হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর জন্ম হয়।

হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর শৈশবের তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর বিয়ে হয় অতি শৈশবে তার চাচাত ভাই উতাইবার (আবু লাহাবের পুত্র) সাথে। হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করলে প্রথম দিকেই হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন।

হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর শ্বশুর আবু লাহাব আর তার স্ত্রী উম্মে জামীলা হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) ও মুসলিমদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠে। অথচ আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামীলা হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) চাচা চাচী ছিল। তারা হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর উপরে অকথ্য অত্যাচার শুরু করে।

আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামীলা রাতে বন থেকে কাটা গাছ নিয়ে এসে হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর চলার পথে ছিটিয়ে রাখত। সকালে সেই কাটায় হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর পা কেটে রক্তাক্ত হত। অত্যাচার আরও বেড়ে গেলে সুরা লাহাব নাজেল হয়।

পরবর্তীতে অন্য বোনদের সাথে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাইআত হন। এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর উম্মে কুলসুম পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে মদিনায় হিজরাত করেন।

স্বামী উসমানের সাথে ৬ বছর কাটানোর পর ৯ম হিজরির শা’বান মাসে উম্মে কুলসুম ইনতিকাল করেন। উম্মে আতিয়াসহ আনসারী মহিলারা তাঁকে গোসল দেন।

মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জানাযার নামায পড়ান। আবু তালহা, আলি ইবনে আবি তালিব, ফাদল ইবনে আব্বাস ও উসামা ইবনে যায়েদ লাশ কবরে নামান।

উম্মে কুলসুমের মৃত্যুর পর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার যদি ১০টি মেয়ে থাকতো তাহলে একের পর এক তাদের সকলকে উসমানের সাথেই বিয়ে দিতাম।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026