শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:২৩

যুক্তরাজ্যে অদৃশ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্কে কিশোর-তরুণদের মব সৃষ্টির পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে অদৃশ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্কে কিশোর-তরুণদের মব সৃষ্টির পরিকল্পনা

সাউথ লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের রাস্তায় কিশোর-তরুণদের আচমকা জমায়েত এবং বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে এক অদৃশ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বদলে যাওয়া এই যুগে ব্রিটেনের রাজপথ এখন অ্যালগরিদম-চালিত অস্থিরতার এক নতুন মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ক্ল্যাপহ্যাম হাই স্ট্রিট এবং রচডেল টাউন সেন্টারে কিশোর-তরুণদের আকস্মিক তাণ্ডবের খবর সামনে এলেও এর গভীরে বড় কোনও ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘ক্ল্যাপহ্যাম কোর্ট লিঙ্ক-আপ’ নামের এই কর্মসূচিটি সাধারণ কোনও বিনোদন নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্ল্যাপহ্যামে শত শত মুখোশধারী তরুণের এই জমায়েত সামলাতে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে এবং সেখানে জরুরি সেবাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা খতিয়ে দেখছেন যে এই ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ জমায়েতগুলো বিশেষ কোনও স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনা কিনা। আগামী মে মাসে যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। গোয়েন্দা মহলের ধারণা, স্থানীয় এই অস্থিরতা মূলত কমিউনিটি পুলিশিং এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি ‘স্ট্রেস টেস্ট’ হতে পারে।

তদন্তকারী একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, আমরা ভাইরাল হওয়ার নেশা এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল উসকানির এক অদ্ভুত মেলবন্ধন দেখতে পাচ্ছি। এই গোষ্ঠীগুলো যে গতিতে সংগঠিত হচ্ছে, তা কেবল কোনও ট্রেন্ড নয়; বরং অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যালগরিদমিক পুশের মাধ্যমে পরিচালিত।

মজার ব্যাপার হলো, এই ডিজিটাল উসকানির উৎস এমন সব অ্যাকাউন্ট, যাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনও সম্পর্কই নেই।

সরাসরি কোনও বিদেশি ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর প্রমাণ এখনও না পাওয়া গেলেও স্থানীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব স্পষ্ট। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এক ধরনের ‘অদৃশ্য প্রভাব’ বিস্তারের চেষ্টা চলছে।

এই ‘লিঙ্ক-আপ’ কর্মসূচিগুলো এমন এক ধোঁয়াশা তৈরি করছে, যা পুলিশি শক্তিকে মূল নিরাপত্তা কাজ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। জনমনে বিশৃঙ্খলার এই চিত্রকে রাজনৈতিক প্রচারণায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আন্দোলনের কৌশল এখন শারীরিক প্রতিবাদ থেকে সরে গিয়ে ‘ফ্ল্যাশ-মব’ স্টাইলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটানোর দিকে ঝুঁকছে। রচডেলে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং কর্মীদের হয়রানির ফলে ৪৮ ঘণ্টার ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ জারি করতে হয়েছে।

এর ফলে ছুটির সময়েও স্থানীয় অর্থনীতির একাংশ থমকে গিয়েছিল। ইন্সপেক্টর মিনা ইয়াসিন জানান, যারা এই ঘটনাগুলোকে খেলা হিসেবে দেখছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আন্দোলনের কোনও নির্দিষ্ট নেতা না থাকাই প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ব্রিটিশ সরকার এখন ডিজিটাল প্রতিরোধের দিকে ঝুঁকছে। স্বরাষ্ট্র দফতর (হোম অফিস) নির্ধারিত সময়ের আগেই ‘রেসপেক্ট অর্ডার’ প্রবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর মূল লক্ষ্য হবে সেই সব ডিজিটাল সংগঠক বা ‘ইনফ্লুয়েন্সার’, যারা নিজেরা রাজপথে নামে না কিন্তু পর্দার আড়ালে থেকে ‘লিঙ্ক-আপ’ লজিস্টিকস পরিচালনা করে।

সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী ধাপটি কেবল বাড়তি পুলিশ মোতায়েন নয়। এটি মূলত স্থানীয় সরকার এবং টেক প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে একটি আইনি সমন্বয়, যাতে প্রথম আতশবাজি জ্বলার আগেই উসকানি বন্ধ করে দেওয়া যায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026