বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধে বসবাসের অনুমতি

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধে বসবাসের অনুমতি

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আরও কঠোর অভিবাসন আইন আনতে যাচ্ছে সরকার।

প্রস্তাবিত আইনে, আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় খরচে থাকা-খাওয়ার জন্য ব্যয় করা অর্থের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে হবে।

এ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। নতুন এই বিধান প্রস্তাবিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা অনেকটা শিক্ষা ঋণ পরিশোধের মতো হবে। তবে মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ওপর এটি অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও, পরবর্তীতে যারা আয় করতে সক্ষম হবেন, তাদেরও সেই সহায়তার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যারা আর্থিকভাবে সক্ষম হবেন, তাদের কাছ থেকে ব্রিটিশ জনগণের দেওয়া সহায়তার প্রতিদান হিসেবে এই অর্থ পরিশোধের প্রত্যাশা করা হবে।’

জানা গেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড আদায় করা হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ বাড়ানো বা কমানোর ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, এই প্রকল্প থেকে সরকারের আর্থিক লাভ খুব বেশি হবে না। কারণ শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পরও অধিকাংশ মানুষের আয় তুলনামূলক কম থাকে।

এদিকে ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পর মাত্র ১৩ শতাংশ ব্যক্তির বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি ছিল। অথচ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে জাতীয় জীবিকা নির্বাহযোগ্য ন্যূনতম মজুরি বছরে প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, আয়ের সীমা তুলনামূলক কম নির্ধারণ না করলে খুব অল্পসংখ্যক শরণার্থীই এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

এতে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে না। বরং কিছু শরণার্থী কাজ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র এড়িয়ে বিকল্প আবাসনের চেষ্টা করতে পারেন।

প্রস্তাবিত বিলে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮ অভিবাসন ও বহিষ্কারসংক্রান্ত মামলায় কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং আধুনিক দাসত্ববিরোধী আইনের কিছু বিধান সংশোধনেরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

অভিবাসন প্রশ্নটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান অভিবাসনবিরোধী জনমত এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে সরকার অভিবাসন ও আশ্রয়ব্যবস্থা আরমৌলিক সহায়তা দিতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026