শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১১:০৭

তিরিশ পেরোনো পুরুষের সমস্যা

তিরিশ পেরোনো পুরুষের সমস্যা

শরীর স্বাস্থ্য ডেস্ক: যখন-তখন ব্যাকপ্যাক নিয়ে যেখানে খুশি সেখানে চলে যাওয়া। বাসে-ট্রেনে-নৌকায় লাগাতার পাঁচ-সাত দিন দৌড়ের ওপর থাকা। কিংবা নিতান্তই আড্ডা মেরে বন্ধুরা মিলে পার করে দেওয়া সারা রাত। এমন উন্মাদনার দিনগুলো যেন হঠাৎই ফুরিয়ে যায়! এই পালাবদলের জন্য কেউ বলেন পেশাজীবনের কথা, কেউ বলেন সংসারই দায়ী। আসল সমস্যাটা কিন্তু অন্য জায়গায়তিরিশের পর শরীর আর মানে না, দম ফুরিয়ে যায় আমাদের। তিরিশ পেরোনোর পর পুরুষের কিছু সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

প্রতীকী ছবিযন্ত্রণার নাম ব্যাক পেইন
আগে ইচ্ছা হলেই পিঠে উঠত ব্যাক প্যাক এখন যন্ত্রণার নাম ব্যাক পেইন। দীর্ঘ সময় ধরে ডেস্কে বসে কাজ করা, অতিরিক্ত ভার উত্তোলন করা, মেদভুঁড়ি হয়ে যাওয়া এমন অনেক কারণেই ব্যাক পেইন হতে পারে। তিরিশ পেরোনো পুরুষদের মধ্যে এটা খুবই সাধারণ ঘটনা।
কাজের সময় নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকুন। বেশি ওজনের কিছু তুলতে হলে সাবধান থাকুন। অফিসে যদি সারা দিন বসে থেকে কাজ করতে হয় তাহলে মাঝে মাঝেই একটু হাঁটাচলা করুন। হাত-পা ও পিঠের হালকা ব্যায়াম করুন। তাহলে হয়তো ব্যাক পেইনের যন্ত্রণা আপনাকে পাবে না।

প্রোস্টেটের খোঁজ নিন
প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি পুরুষদের অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা। কোনো কোনো গবেষণায় বলা হচ্ছে প্রতি ছয়জন পুরুষের একজন প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকেন। পরিবারের কারও এ সমস্যা থাকলে এই ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।

বছরে একবার প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তের পরীক্ষা করিয়ে নিন। আপনার শরীরে এই অসুখ বাসা বাঁধলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই তা ধরা পড়বে।

ওজন ঠিকঠাক রাখুন
আর যা কিছুই করুন না করুন ওজনটা ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত ওজন কেবল একটা সমস্যা নয়; বহু সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বয়স বেড়ে গেলে ওজন কমানোটা নানা কারণেই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। পরিপাকের সমস্যা এবং মানসিক চাপও ওজন না কমার কারণ।

ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাবার-দাবারের অভ্যাস ঠিক করা এবং নিয়মিত শরীর চর্চা করা।

চাপে চাপা পড়বেন না
পেশাগত জীবনে উন্নতির চিন্তা, দাম্পত্য জীবন সামলে রাখা, সন্তানের দেখভাল করার ভার নিয়ে যে কেউ চাপের মধ্যে পড়তেই পারেন। কিন্তু চাপে চাপা পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে। ফলে শরীরের মতোই মনের চাপ নিয়েও সতর্ক থাকুন, নিজেকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার জন্য নিজেকে সময় দিন।

মানসিক চাপ কমানোর জন্য বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে সময় কাটান। প্রয়োজনে মাঝে মধ্যে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। এতে দেহ আর মনের ওপর চাপের বোঝাটা চেপে বসবে না।

চাঙা থাকতে দৌড়ঝাঁপ
এমন একটা সময় ছিল যখন জানতেনই না যে, পায়ের এমন একটা পেশি আছে আর সেই পেশিতে টান পড়লে জান বেরিয়ে যেতে চায়! আর হঠাৎ করে পিঠ বাকিয়ে পা ছুঁতে গিয়ে শেষে না মেরুদণ্ডটাই ভেঙে যায়! এখন আস্তে আস্তে গিঁটে গিঁটে টান পড়ার দিন শুরু হচ্ছে। তাই সময় থাকতেই সাবধান হন।

নিয়মিত শরীর চর্চার অভ্যাস করুন। সবচেয়ে ভালো হয় সকালে দৌড়ঝাঁপ আর হাঁটাহাঁটি শুরু করলে। সঙ্গে নিয়মিত হালকা যোগ ব্যায়ামের কিছু আসন চর্চা করুন।

হৃদয়ের কথা ভুলবেন না
নগর জীবনের ব্যস্ততা কিংবা আর যত অজুহাতই থাকুক না কেন আপনার হৃদ্যন্ত্রটার কথা ভুলে গেলে চলবে না। ফলে বস্তা বস্তা ক্যালরি গিলতে ফাস্ট ফুডে যাওয়াটা ছাড়ুন। অতিরিক্ত তেল-চর্বি খাওয়া থেকে দূরে থাকুন।

উচ্চ রক্তচাপ সামাল দেওয়ার মতোই হৃদ্রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে হলে খাদ্যাভ্যাস ঠিক করাটা সবার আগে জরুরি। লাল-মাংস আর তেল-চর্বি কমিয়ে দিয়ে ফল-মূল আর শাক-সবজি খাওয়ায় জোর দিন।

ক্লান্তিকে ক্ষমা করুন
বিশের কোটার উন্মাদনাগুলোর কথা ভেবে কোনো লাভ নেই। আপনি আর আগের মতো নেই। রাতের পর রাত আড্ডাবাজি আর ঘুমহীন সকালের কথা এখন অবান্তর, এক রাত জেগে থাকতে হলে তিন দিনের বারোটা। ক্লান্তি আসবেই। ক্লান্তিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। বরং ক্লান্তি জয় করতে হলে নিজের জীবনযাপনের ধরন পাল্টান।

ঘুম আর খাওয়াদাওয়ায় নিয়মিত হন। এ ছাড়া ভাতঘুমের অভ্যাসটাও রপ্ত করতে পারেন। এটা সত্যি দারুণ উপকারী। আজকাল আমরা পাওয়ার ন্যাপ হিসেবেই একে বেশি জানি। কোথাও সুযোগ পেলে কাজের আগে-পরে ১৫-২০ মিনিটের একটা ভাতঘুম দিয়ে নিন, আপনার ক্লান্তি কেটে যাবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026