মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১৭

যানজট নিরসনে জনগনের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে কাজ করছে আওয়ামীলীগ সরকার

যানজট নিরসনে জনগনের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে কাজ করছে আওয়ামীলীগ সরকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ঢাকা শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধন ও নগরবাসীর যাতায়াত সহজ করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। যত্রতত্র রাস্তা পারপার বন্ধ করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাজধানীর মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে দেশের দীর্ঘতম এই ফ্লাইওভারের রমনা থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও অংশে উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল প্রান্তে পৌঁছান। এরপর অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় তিনি বলেন. আমি মনে করি, দেশের যারা জনগণ তাদের ধৈর্য ধরতে হবে। দেখতে হবে, কোন দোষে, কী কারণে দুর্ঘটনা হল। এই নাগরিক সচেতনতাটা খুব বেশি দরকার। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাইদ খোকন উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা যেহেতু রাজধানী শহর তাই এখানে মানুষের আগমনও বাড়ছে। বাড়ছে যানজটও। সেই সাথে সাথে দেখতে হবে মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বাড়ছে, জীবনমান উন্নত হচ্ছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে, গাড়ি কেনাটাও বেশি বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যানজট নিরসনে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করব। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছি। ঢাকা শহর; এই রাজধানীর একদিকে সৌন্দর্য্য বর্ধন করা, অপরদিকে মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ করা এবং যোগাযোগটা আরও উন্নত করা, এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এবং যা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা যতই উন্নত করতে পারব আমাদের দেশের মানুষের ততই আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে থাকা মানুষগুলি; তারা সেখানে বসে জীবনযাত্রার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে পারবে, বিভিন্ন কাজ করতে পারবে। এ লক্ষ্য নিয়েই সরকার সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ উন্নত করার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্রাফিক রুলসটা সকলেরই জানা উচিৎ এবং মেনে চলা উচিৎ। নিয়ম মেনে রাস্তা পারাপারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যত্র-তত্র হঠাৎ করে রাস্তার মাঝ দিয়ে দৌড়ে পার হতে যাওয়া এগুলো বন্ধ করতে হবে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই কিন্তু এ কারণে ঘটে থাকে। নাগরিকরা যাতে এভাবে রাস্তা পার না হয় সে বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশও সচেতন থাকবেন। এছাড়া ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করে তোলার উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

শেখ হাসিনা এসময় তার সরকারের মেয়াদে নির্মিত হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমূখী ফ্লাইওভার, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, বনানী ওভারপাস ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে নগরবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা হলে কী কারণে হল সেটা না দেখেই অনেক যানবাহনের ওপর হামলা, আগুন দেওয়া, ড্রাইভারকে পিটিয়ে মেরেই ফেলা হয়। সবার আগে দেখবেন, অ্যাক্সিডেন্টটা কার দোষে হল। শুধু চালককে দোষ না দিয়ে দুর্ঘটনা হলে তার কারণ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ই-টিকেটিংয়ের কাজও চলছে। সবকিছুতেই ডিজিটাল সিস্টেম আমরা নিয়ে আসতে চাই। ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পরিবহনে একই টিকেটের মাধ্যমে যাতায়াতের সুবিধার্থে আমরা ই-টিকেটিং ও ই-ক্লিয়ারেন্স হাউজ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। শুধু দেশের ভিতরেই নয়, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত ও চীনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026