বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১

চুল পড়া রোধ করুন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ডাঃ ওসমাণ গনি: আমাদের সৌন্দর্যের অনেকটা জায়গা জুড়ে রয়েছে, একরাশ ঘন কালো মাথাভর্তি চুল। প্রিয় এই চুলগুলো যখন পড়তে শুরু করে আমাদের কষ্টের যেন আর শেষ থাকে না। তবে লক্ষ রাখতে হবে সাধারণভাবেই প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে। কিন্তু এই চুল ঝরে পড়ার হার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে আমাদের বিশেষ কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে চুল পড়ার এই ব্যপারটা আমাদের হাতের নাগালের বইরে চলে না যায। কী ব্যবস্থা নিতে পারি তা নিয়েই আজ আমরা আলোচনা করবো:

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের শরীরে আয়রনের অভাবে চুল পড়ে। আয়রনের অভাবে আমাদের দেহে লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কমে যায়, যা আমাদের চুলের গোঁড়ার (হেয়ার ফলিকল) জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব সহজেই একটি ছোট ডায়াগনস্টিক টেস্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি শরীরে লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কম কিনা। যদি তাই হয়, তাহলে প্রচুর পরিমাণে লাল শাক, কচুর শাক খেতে হবে। এতেও যদি লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি না পায় তাহলে আয়রন ও ভিটামিন সির(শরীরে আয়রন গ্রহণে সহায়তা করে) সংমিশ্রণে কিছু ট্যাবলেট পাওয়া যায়, সেগুলো খেতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি ভাল কাজে দেয়।

ওমেগা- থ্রি(৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে খুব কার্যকর। সাধারণত বিশেষ ধরনের মাছে এই উপাদানটি থাকে। তবে আমাদের দেশে এসব স্যামন, ম্যাকারেল মাছ পাওয়া যায় না। প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড তিশির তেলে পাওয়া যায় আর এই তেল স্থানীয় বাজারেই পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, এই তিশির তেল কিন্তু মাথায় লাগানোর জন্য নয়। অথবা রান্নায় ব্যাবহার করার জন্যও নয়। প্রতিদিন ২ চা চামচ তিশির তেল সালাদের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। তাহলে আপনার চুল পড়া অনেক কমে আসতে পারে।

যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে, তারা চেষ্টা করবেন চুলে কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য কম ব্যবহার করতে। চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না।

আসলে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার জন্য চুল পড়ে যেতে পারে। যেমন, দুশ্চিন্তা, থাইরয়েড সমস্যা, রক্ত শূন্যতা, হৃদরোগে ব্যবহার করা ওষুধ ইত্যাদি। এসব সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। (চাইলে স্বাস্থ্য বাংলার হেল্প লাইনে যোগাযোগ করে 01672766149 আপনার ভেতরের কোন সমস্যার কারণে চুল পড়ছে তা নিশ্চিত হতে পারেন)।

মনে রাখবেন, সবচেয়ে বেশি চুল পড়ার ঘটনা ঘটে থাকে বংশগতির কারণে। যাদের বংশে চুল পড়ার ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে চুল পড়ার হার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে উপরোক্ত পারিপার্শ্বিক অবস্থা সমুহের কারণে।

চুল পড়া সমস্যা কাটিয়ে উঠে, সবাই ভাল থাকবেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026