শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৪:৩২

সিলেটে কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে বিপাকে প্রবাসীরা

সিলেটে কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে বিপাকে প্রবাসীরা

নিউজ ডেস্ক: কারনেট সুবিধা নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আনা কোটি টাকার বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের প্রবাসীরা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ওই গাড়িগুলো যথাসময়ে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। গাড়িগুলো জব্দ করতে শুল্ক গোয়েন্দারা তৎপর হয়ে ওঠেছেন। ফলে এতোদিন দাপটের সাথে সিলেটের রাস্তায় গাড়িগুলো চলাচল করলেও এখন দেখা মিলছে না সেগুলোর। কয়েকদিন আগে গোয়েন্দাদের তৎপরতায় দুই কোটি টাকার বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল। গত বুধবার দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল একটি লেক্সাস কার জব্দ করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কারনেট সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে শুল্ক ছাড়াই বিলাসবহুল কোটি টাকার গাড়ি দেশে আনা যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটি অনেক প্রবাসীই দেশে কোটি টাকার গাড়ি নিয়ে আসেন। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে সেই গাড়িগুলো যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অনেক প্রবাসীই তা অগ্রাহ্য করেন।

এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের যে কোম্পানীর কাছ থেকে কারনেট সুবিধায় গাড়ি আনা হয়, সেই কোম্পানীকে গাড়ি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কিংবা চুরি হয়ে গেছে- এসব অজুহাত দেখিয়ে পার পেয়ে যান প্রবাসীরা। কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়িগুলো সিলেটের রাস্তায় দাপটের সাথেই ব্যবহার করেন প্রবাসীরা। অনেক সময় জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ওই কোটি টাকার গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নেয়া হয়।

শুল্ক গোয়েন্দাদের তথ্যানুসারে, সিলেটে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি কারনেট সুবিধায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনার পর ফিরিয়ে নেয়া হয়নি। এসব শুল্ক ফাঁকির গাড়িগুলো জব্দ করতে তৎপর হয়ে ওঠেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা। পাতা হচ্ছে ফাঁদ। শুল্ক গোয়েন্দাদের তৎপরতায় গত দুই সপ্তাহে সিলেটে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দাদের তৎপরতায় কোটি টাকার গাড়িগুলো নিয়ে বিপাকে রয়েছেন সিলেটের প্রবাসীরা।

গত ১০ এপ্রিল রাতে সিলেট নগরীর মজুমদারিস্থ বিএম টাওয়ারের সামনে থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল মালেকের আনা দুই কোটি টাকার মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি জব্দ করা হয়। গত বুধবার সিলেটে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর কার্যালয়ের সামনে থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় দেড় কোটি টাকার একটি লেক্সাস কার জব্দ করা হয়। গাড়ির সাথে রাখা একটি চিঠিতে অজ্ঞাত মালিক ভুল স্বীকার করে শুল্ক পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, সিলেটে শুল্ক ফাঁকির গাড়িগুলো ধরতে গোয়েন্দারা তৎপর রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্নভাবে ফাঁদও পাতা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের তৎপরতায় দু’জন প্রবাসী স্বেচ্ছায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ি সমর্পণ করেছেন।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026