শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে রিপাবলিকান পার্টি। দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের গলার কাঁটা হয়ে উঠেছেন।
ও
য়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ট্রাম্পকে নিয়ে অরাজকতার দিকে এগুচ্ছে দলটি। হাউস স্পিকার পল রায়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আর ট্রাম্পের পক্ষে কথাও বলবেন না, তার সঙ্গে প্রচারণাও করবেন না।
এ পদক্ষেপকে কংগ্রেসে হুমকির মুখে পড়ে যাওয়া রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাঁচাতে জরুরি প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পোস্ট।
পল রায়ানের তরফে এ ঘোষণা আসার পর থেকে তার নিজস্ব রাজনৈতিক মহল থেকে নিন্দা আসছে। ট্রাম্প যে নিন্দা করেছেন তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। জনসমক্ষে ক্ষেপে উঠেছেন পলের ওপর। নির্বাচনের যখন মাত্র এক মাস বাকি তখন নজিরবিহীন ব্যক্তিগত বৈরিতার প্রদর্শন চলছে রিপাবলিকান দলের মধ্যে।
রিপাবলিকান দলের অনেক নেতা বলেছেন, তারা ট্রাম্পের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো হজম করতে পারছেন না। সমর্থন করতে পারছেন না তার প্রচারণা কৌশলগুলো। ফলে দৃশ্যত বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে রিপাবলিকান শিবিরে। দলীয় একতা হুমকির মুখে।
শুক্রবার ফাঁস হওয়া ২০০৫ সালের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, ট্রাম্প নারীদের নিয়ে নোংরা, অশ্লীল নানা মন্তব্য করেছিলেন। এরপর দেশজুড়ে এবং উল্লেখযোগ্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে হিলারি ক্লিনটনের থেকে সমর্থনে অনেক বেশি পিছিয়ে পড়েছেন ট্রাম্প। জরিপগুলোতে এ চিত্রই দেখা যাচ্ছে।
এদিকে, আরেক সিনিয়র রিপাবলিকান ও সাবেক সিনেটর জুড গ্রেগ মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সাধারণ রিপাবলিকানদের জন্য এতো বেশি ধ্বংসাত্মক যে, এখন প্রত্যেকে যার যার মতো অবস্থায় চলে গেছে।
ওদিকে, রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান রেইন্স প্রাইবাস ট্রাম্পের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা ব্যক্ত করেছেন।
রিপাবলিকানরা যখন নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে ব্যস্ত, তখন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন রিপাবলিকান ঝোঁকা উদারমনা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সচেষ্ট হয়েছেন। এসব ভোটাররা এখন ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত। হিলারির প্রচারণা শিবির থেকে একটি নতুন বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে যেখানে সাধারণ রিপাবলিকানরা ব্যাখ্যা করছেন কেন তারা হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেবেন।
পল রায়ানের সিদ্ধান্তটা এসেছে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এটাকে দেখা হচ্ছে এভাবে যে তারা মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প নির্বাচনে জিততে পারবেন না। আর দলকে অবশ্যই প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হবে।
সিনেট মেজরিটি লিডার মিচ ম্যাককোনেল এ ইস্যুতে সোমবার চুপ থেকেছেন। অনেক নির্বাচিত রিপাবলিকান কর্মকর্তা ট্রাম্পের প্রার্থিতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেও তারা সমর্থন প্রত্যাহার নিয়ে শঙ্কিত।
কেননা, এতে তারা নিজ সমর্থকদের বিরাগভাজন হবেন। এক আইনপ্রণেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান- ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেগ ওয়াল্ডেন হাউস সদস্যদের সঙ্গে এক কনফারেন্স কলে মন্তব্য করেছেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অর্থ দাঁড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে বিমান অবতরণ করা।
সোমবার রিপাবলিকান দলের অস্তিত্বের সংকটের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন পল রায়ান। যে রীতিনীতি আর আদর্শের ভিত্তিতে তার ক্যারিয়ার এতোদূর এসেছে এখন আর সেগুলো তাকে সাহায্য করছে না ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে। কাজেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেয়ার পরিবর্তে পল রায়ান মধ্যপন্থা বেছে নিয়েছেন। নিজের সমর্থন প্রত্যাহার না করে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প থেকে দূরে সরে এসেছেন।
তিনি সতীর্থ রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে নিয়ে যার যার মতো বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে। ট্রাম্পও নিন্দা জানাতে দেরি করেননি।
এক টুইটে তিনি লিখেছেন, পল রায়ানের উচিত বাজেটের ভারসাম্য আনা, কর্মসংস্থান আর অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করা; রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে সময় বরবাদ করা নয়।
কংগ্রেসম্যান চার্লি ডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে কথাবার্তা হিসাব করে বলতে হবে, ভালো আচরণ করতে হবে এমনটা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত।
আরে! আমি তো এসব উল্টাপাল্টা আর বিস্ফোরক মন্তব্য করছি না। যারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন তাদের ওপর চেঁচানো উচিত না মানুষের।
রিপাবলিকান দলের মধ্যে সৃষ্ট বিভাজন নিরসনে সামান্য প্রচেষ্টা রয়েছে ট্রাম্পের। তিনি ও তার প্রচারণা উল্টো হিলারি ক্লিনটনের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ দাগাতে নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন।
আর এতে হোয়াউট হাউসের দৌড়ে হিলারি ক্লিনটনের অবস্থান যে আরো শক্ত হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।