শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: এই প্রথম আমেরিকায় প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে মূল ফোকাস হয়ে দাঁড়িয়েছে কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি। একদিকে যৌনতার কেচ্ছা, অন্যদিকে ই-মেল কেলেঙ্কারি। যৌনতার কেচ্ছায় অভিযুক্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী রিপালবিলকানদের ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আ
র ই-মেল কেলেঙ্কারির দায় চেপেছে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রাট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের উপর। যদিও, প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের ভোটগ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে ই-মেল কেলেঙ্কারিতে ক্লিনচিট পেয়েছেন হিলারি ক্লিনটন।
এবারের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশনে অনেকেই আগে থেকে ভোট দিয়ে রেখেছেন। মনে করা হচ্ছে মোট ভোটদাতাদের ৪০ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে। তবে এই ভোটদাতাদের মধ্যে কেউ আগের সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে ভেবে নতুন করে ভোট দিতে চাইলে তিনি সে সুযোগ পাবেন।
আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে প্রথা মেনে যে তিন বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন হিলারি ও ট্রাম্প, তাতে মার্কিন জনমানস প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের পত্নীর দিকেই ঝুঁকে আছে বলে সমীক্ষায় দাবি করা হচ্ছে। মনে করা হয়েছিল, বারাক ওবামার শাসনকালে মার্কিন জনমানসে যে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে তা কাজে লাগাতে পারবেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে মার্কিন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিতে গিয়ে ট্রাম্প যেভাবে মেক্সিকো বিরোধিতা বা ইসলাম বিরোধিতায় আওয়াজ তুলেছেন তার প্রভাব পড়ার যাবতীয় সম্ভাবনা আছে অভিবাসী ভোটব্যাঙ্কে। মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার এবং অনুপ্রবেশের মতো সমস্যার মোকাবিলায় ডোলান্ড ট্রাম্পের বাতলানো রাস্তাকে অনেকেই অবাস্তব বলেও কটাক্ষ করছেন।
কারণ, ট্রাম্প বলেছেন মেক্সিকোর সীমান্তে তিনি পাঁচিল তুলে দেবেন। ট্রাম্পের এহেন মন্তব্য নাকি আমেরিকায় বসবাসকারী মেক্সিকানদের মধ্যে বিপুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে ট্রাম্প যেভাবে সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে ইসলামকে কাঠগড়ায় তুলেছেন, তাতে ক্ষোভ সঞ্চায়িত হয়েছে আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলিমদের মধ্যেও। আমেরিকার ইন্ডিয়ান কমিউনিটিতেও নাকি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে।
যদিও, দীপাবলির মধ্যে ট্রাম্প-কন্যা হিন্দু মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে মন জয়ের একটা চেষ্টা করেছিলেন।
হিলারি ক্লিন্টনের পথও যে মসৃণ তা বলা যাচ্ছে না। কারণ, এবার প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে সেনেটের ১০০টি আসন এবং কংগ্রেসের ৪৩৫টি আসনেও ভোট হচ্ছে। কাজেই কংগ্রেস যদি রিপাবলিকানদের দখলে থাকে তাহলে, আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসাবে ওভাল অফিসে ঢোকার যে স্বপ্ন হিলারি দেখছেন তা ধাক্কা খাবে।
এক্ষেত্রে টাই হতে পারে এবং তখন সমীকরণটা ঠিক কী দাঁড়াবে তার ভবিষ্যৎ বলাটা এখন কার্যত অসম্ভব।