সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৬:১৭

জীবনের সিড়ি

মানুষ কোন উপকার করলে স্মরণ রাখবে। পারলে কোন ভাল কাজ করে তা পুরণ করে দিও। এতে তোমার আত্মা তৃপ্তি পাবে। মানুষকে অবশ‍্য শ্রদ্ধা-সম্মান করবে। তবে একজন মানুষকে ততোটা সম্মান করা উচিত, যতটা তার প্রাপ‍্য। কাউকে অধিক সম্মান দেখাতে যেওনা। তাহলে তোমার মুল‍্য কমে যাবে। একসময় দেখবে তারা তোমাকে ব‍্যবহার করতে শুরু করবে।

মানুষ কখন হিংসা করে? যখন দেখবে  তোমার মাঝে যে যোগ‍্যতা, প্রতিভা রয়েছে, সেটা তার মাঝে নেই। অনেক সময় তোমার সফলতা ও অর্জন দেখে অনেকে  ঈর্ষা করবে। তাই সেই সমস্ত ঈর্ষাকাতর ও ছিন্দ্রান্বেষী মহলের কাছ থেকে সব সময় দুরে থাকবে।

পৃথিবীতে অনেক সুশ্রুী ও কুৎসিত চেহারার মানুষ রয়েছে। অবয়ব দেখে মানুষকে বুঝা যায়না। সুন্দর চেহারার মানুষের ভেতর ও অনেক ভয়ংকর জিনিস লুকিয়ে থাকে। চেহারার সৌন্দর্য দেখিয়ে কাউকে আকর্ষণ করা যায়না। আসলে মানুষের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে তার সততা ও সুন্দর চরিত্র দেখে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বিশ্রী চেহারার মানুষ ছিলেন হযরত বিলাল রাঃ ও হযরত লোকমান হাকিম। কিন্তু তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করেছেন এবং তাদের কি মর্যাদা রয়েছে সেটি সবাই জানি।

সমাজে চালাক ও দুষ্টু মানুষেরাই বেশি ধোকা দেয়। নীতি আদর্শের কথা বলে অনেক সময় মানুষ কে বোকা বানায়। একসময় মানুষ তাদেরকে প্রতারক হিসেবেই জানে। আর তরাই বেশি ধোকা খায় যারা সহজ-সরল ও বিশ্বাসি প্রকৃতির মানুষ।

সেই সমস্ত মানুষের অন্তর কঠিন। যাদের চোখ আছে দেখেনা। কান আছে শুনেনা।অন্তর আছে অনুভব করতে পারেনা। মানুষকে কষ্ট দেয়ার পরও অনুশোচনা বোধ জাগেনা। তাদেরকে যতই  নীতি কথা বল কাজ  হবেনা।

কাউকে উপদেশ দিলে মেনে নিতে আনেকে সংকোচ  কিংবা তোমাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য  করবে। অন‍্যায়ের প্রতিবাদ করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে যাবে এবং তাদের রোষানলে পড়বৃ। স্বার্থপর   মানুষেরা তার স্বার্থে মহুর্তে গিরগিটের মতো রং বদলাবে। মানুষের সামনে আপমান করবে।  যারা তোমার  কদর  করেনা বা সম্মান দেখায়না। তাদের সাথে  সম্পর্ক না রেখে একা থাকাই উত্তম।

মানুষ তার অতীতের  দুঃখ কষ্ট  ভুলে যেতে পারলে মনে  করে বেঁচে গেলো। কিন্তু জীবনের সেই সিড়ি গুলো পেরিয়ে যখন সে উপরে ওঠে, তখন সেই কষ্টের দিন গুলোর কথা অনেকেই ভুলে যায়। আর এটাই নিয়ম।

জীবনে বন্ধুত্ব করতে চাইলে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে। যারা সত‍্যি ভালো মানুষ। যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে। কারণ আল্লাহ্ ভীরু মানুষ কখনো ধোকা দেয়না। কাউকে ঠকাবেনা এবং মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করবেনা।

জীবনে যা কিছু পাওয়া যায় সন্তুষ্ট থাকলে তাতে অনেক বরকত পাওয়া যাবে। আর জানো কি একজন মানুষ কখন পরম শান্তি পায়? নামাজান্তে সে যখন সেজদায় যায়। আল্লাহর তাসবি পাঠ করে।

জীবনে চলার পথে শত দুঃখ, কষ্ট, বাধ্য বিপত্তি আসবেই। তাই কখনো ভেঙ্গে পড়বেনা। সর্বাবস্থায় ধৈর্যের সাথে এগিয়ে যাবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখবে। দেখবে আল্লাহ্ একসময় সঠিক রাস্তা দেখিয়ে দেবেন। তাই ভাবনা কিসের! যে যত বেশি সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে, মহান আল্লাহ্পাক তাকেই  ততো বেশি শান্তি দিবেন।  লেখটি ভালো লাগলে অন‍্যকে শেয়ার করবেন।

লেখক: শিহাবুজ্জামান কামাল, কবি, কলামিস্ট, সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, রেনেসাঁ সাহিত্য মজলিশ ইউকে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026