শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫০

হযরত ইয়াকুব (আ.) এর জীবনী

হযরত ইয়াকুব (আ.) এর জীবনী

ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান / ৩৯৭
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

আজ শুক্রবার পবিত্র জুমাবার আজকের বিষয়হযরত ইয়াকুব (আ.) এর জীবনী’ শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইমাম মাওলানা নুরুর রহমান ‘ইসলাম থেকে’, বিভাগ প্রধান, শীর্ষবিন্দু নিউজ

মোট ১৬টি আয়াতে আলোচিত হয়েছে তার নাম। তার আরেক নাম হলো- ইসরাইল। তিনি ইউসুফ (আ.) এ পিতা। ইসহাক্ব (আঃ)-এর দুই যমজ পুত্র ঈছ ও ইয়াকূব-এর মধ্যে ছোট ছেলে ইয়াকূব নবী হন। ইয়াকূবের অপর নাম ছিল ‘ইস্রাঈল’।যার অর্থ আল্লাহর দাস। নবীগণের মধ্যে কেবল ইয়াকূব ও মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দু’টি করে নাম ছিল। মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অপর নাম ছিল ‘আহমাদ’ (ছফ ৬১/৬)। ইতিহাস থেকে আমরা জানতে পারি হযরত ইয়াকুব (আ) ছিলেন একজন রাখাল। তিনি পশু পালন করে জীবীকা অর্জন করতেন। অর্থাৎ তাঁর পেশা ছিল রাখালের কাজ করা। এছাড়াও তিনি কৃষিকাজ ও অন্যান্য স্বাভাবিক কাজ করে জীবন যাপন করেছেন।

হযরত ইয়াকুব (আঃ) النبي يعقوب عليه السلام

হযরত ইয়াকুব (আঃ) ইংরেজি ভাষায়: Jacob; হিব্রু ভাষায়: יַעֲקֹב‎ ; আধুনিক: Yaʿakov; সেপ্তুয়াগিন্ত গ্রিক ভাষায়: Ἰακώβ Iakōb; আরবি ভাষায়: يَعْقُوب), ইসরাঈল নামেও পরিচিত (হিব্রু ভাষায়: יִשְׂרָאֵל; আধুনিক: Yiśrāʾēl; সেপ্তুয়াগিন্ত গ্রিক ভাষায়: Ἰσραήλ Israēl; আরবি ভাষায়: إِسْرَائِيل), হিব্রু বাইবেল এবং কোরআনের বর্ণনা অনুসারে, তিনি ছিলেন একজন নবী। তার গোত্রের নাম ছিল বনী-ইসরাঈল। এই নামে কোরআনে একটি সূরা নাযিল হয়েছে।

হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর সংক্ষিপ্ত পারিবারিক জীবনী :

হযরত ইয়াকুব (আঃ) হিব্রু বাইবেল এবং কোরআনের বর্ণনা অনুসারে তিনি ছিলেন একজন নবী।তার গোত্রের নাম ছিল বনী-ইসরাঈল। এই নামে কোরআনে একটি সূরা নাযিল হয়েছে।ইয়াকুব (আঃ) এর বার জন পুত্র সন্তানের কথা কোরাআনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং হিব্রু বাইবেলেও বার জন পুত্র সন্তান এবং কয়েক জন কন্যা সন্তানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়েদের মধ্যে শুধু একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকেরই সন্তান সম্ভতি হয় এবং বংশ বিস্তার লাভ করেন। হিব্রু বাইবেল অনুসারে তাদের নাম হলঃ রেউবেন, সিমোন, লেভি, জুদাহ, দান, নাফতালি, গাদ, আশের, ইসসাচার, জেবুলুন, মেয়ে দিনাহ, জোসেফ বা ইউসুফ, এবং বেনজামিন বা বেনিয়ামিন। তার উপাধি ছিল ইসরাঈল । তাই বারটি পরিবার সবাই বনী-ইসরাঈল নামে খ্যাত হয়। বারপুত্রের মধ্যে দশ জন জ্যেষ্ঠপুত্র ইয়াকুব (আঃ) এর প্রথমা স্ত্রী লাইয়্যা বিন্‌তে লাইয়্যানের গর্ভে জন্মলাভ করে। তার মৃত্যুর পর ইয়াকুব (আঃ) লাইয়্যার ভগিনী রাহীলকে বিবাহ করেন। রাহীলের গর্ভে দু’পুত্র ইউসুফ ও বেনিয়ামিন জন্মগ্রহণ করেন। তাই ইউসুফ (আঃ) এর একমাত্র সহোদর ভাই ছিলেন বেনিয়ামিন এবং অবশিষ্ট দশ জন বৈমাত্রেয় ভাই ও কয়েক জন বোন। ইউসুফ জননী রাহীলও বেনিয়ামিনের জন্মের পর মৃত্যুমুখে পতিত হন।

হযরত ইয়াকূব (আঃ) এক সফরত অবস্থায় আনেরঅদূরে একস্থানে একটি পাথরের উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েপড়েন। সে অবস্থায় তিনি স্বপ্ন দেখেন যে একদল ফেরেশতা সেখান থেকে আসমানেউঠানামা করছে। এ ঘটনার মধ্যেই আল্লাহতাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন অতিসত্ত্বর আমি তোমার উপরে বরকত নাযিলকরব তোমার সন্তান সন্ততি বৃদ্ধি করে দেব তোমাকে ওতোমার পরে তোমারউত্তরসূরীদের এই মাটির মালিক করে দেব। তিনি ঘুম থেকে উঠে খুশী মনে মানতকরলেন যদি নিরাপদে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারেন তাহলে এই স্থানে তিনিএকটি ইবাদতখানা প্রতিষ্ঠা করবেন এবং আল্লাহ তাকে যা রূযী দেবেন তার এক দশমাংশ আল্লাহর পথেই ব্যয় করবেন। অতঃপর তিনি ওই স্থানে পাথরটির উপরে একটি চিহ্ন একেদিলেন যাতে তিনি ফিরে এসে সেটাকে চিনতে পারেন।সেই স্থানেই বর্তমানে বায়তুল মুক্বাদ্দাস অবস্থিত যা পরবর্তীতেপ্রায় ১০০০ বছর পরে হযরত সুলায়মান (আঃ) পুনর্নির্মাণ করেন। মূলতঃ এটিই ছিল বায়তুলমুক্বাদ্দাসের মূল ভিত্তি ভূমি যা কাবা গৃহের চল্লিশ বছর পরে ফেরেশতাদের দ্বারা কিংবা আদমপুত্রদের হাতেকিংবা ইসহাক্ব (আঃ) কর্তৃক নির্মিত হয়। নিশ্চিহ্ন হওয়ার কারণে আল্লাহ ইয়াকূব(আঃ) কে স্বপ্নে দেখান এবং তার হাতে সেখানে পুনরায় ইবাদতখানা তৈরী হয়।ইস্রাঈলী বর্ণনা অনুযায়ী ইয়াকূব হারানে মামার বাড়ীতে গিয়ে সেখানে তিনি তার মামাতো বোন লাইয়া এবং পরে রাহীল-কে বিবাহ করেন এবং দুইজনের মোহরানা অনুযায়ী অনেক বছর মামার বাড়ীতে দুম্বা চরান। ইবরাহীমী শরীআতে দুবোন একত্রে বিবাহকরা জায়েয ছিল। পরে মূসা (আঃ) এর শরী আতে এটা নিষিদ্ধ করা হয়। শেষোক্ত স্ত্রীরগর্ভে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বসেরা সুন্দর পুরুষ ইউসুফ (আঃ)। তারপর দ্বিতীয় পুত্রবেনিয়ামীনের জন্মের পরেই তিনি মারা যান। তার কবর বেথেলহামে অবস্থিত এবং ক্ববরে রাহীল নামে পরিচিত। পরে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। ইয়াকূবের ১২পুত্রের মধ্যে ইউসুফ নবী হন। প্রথমা স্ত্রীর পুত্র লাভী এর পঞ্চম পুরুষ মূসা ও হারূণ নবী হন।

এভাবে ইয়াকূব (আঃ) এর বংশে নবীদের বংশে পরিনীত হয় ।ইয়াকূব-এর অপর নাম ইসরাঈল আর সে অনুযায়ী তার বংশধরগণ বনু ইস্রাঈল নামে পরিচিত হয়। হঠকারীইহুদী নাছারাগণ যাতে তারা আল্লাহর দাস একথা বারবার স্মরণ করে সেকারনে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে তাদেরকে বনুইস্রাঈল বলেই স্মরণ করেছেন।হারান থেকে ২০ বছর পর ইয়াকূব তার স্ত্রী পরিজন সহ জন্মস্থান হেবরনে ফিরে আসেন। যেখানে তার দাদা ইবরাহীম এবং পিতা ইসহাক্ব (আঃ) বসবাস করতেন।যা বর্তমানে আল-খলীল নামে পরিচিত। পূর্বেরমানত অনুসারে তিনি যথাস্থানে বায়তুল মুক্বাদ্দাস মসজিদ নির্মাণ করেন।কেনআন-ফিলিস্তীন তথা শাম এলাকাতেই তার নবুঅতের মিশন সীমায়িত থাকে।

হযরত ইয়াকুব(আঃ)এর জীবনী

ইসহাক্ব (আঃ)-এর দুই যমজ পুত্র ঈছ ও ইয়াকূব-এর মধ্যে ছোট ছেলে ইয়াকূব নবী হন। ইয়াকূবের অপর নাম ছিল ‘ইস্রাঈল’। যার অর্থ আল্লাহর দাস। নবীগণের মধ্যে কেবল ইয়াকূব ও মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর দু’টি করে নাম ছিল। মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর অপর নাম ছিল ‘আহমাদ’ (ছফ ৬১/৬)। ইয়াকূব তার মামুর বাড়ী ইরাকের হারান যাবার পথে রাত হয়ে গেলে কেন‘আনের অদূরে একস্থানে একটি পাথরের উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। সে অবস্থায় স্বপ্ন দেখেন যে, একদল ফেরেশতা সেখান থেকে আসমানে উঠানামা করছে। এরি মধ্যে আল্লাহ তাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন,

‘অতিসত্ত্বর আমি তোমার উপরে বরকত নাযিল করব, তোমার সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করে দেব, তোমাকে ও তোমার পরে তোমার উত্তরসূরীদের এই মাটির মালিক করে দেব’। তিনি ঘুম থেকে উঠে খুশী মনে মানত করলেন, যদি নিরাপদে নিজ পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারেন, তাহ’লে এই স্থানে তিনি একটি ইবাদতখানা প্রতিষ্ঠা করবেন এবং আল্লাহ তাকে যা রূযী দেবেন তার এক দশমাংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করবেন’। অতঃপর তিনি ঐ স্থানে পাথরটির উপরে একটি চিহ্ন এঁকে দিলেন যাতে তিনি ফিরে এসে সেটাকে চিনতে পারেন। তিনি স্থানটির নাম রাখলেন, অর্থাৎ আল্লাহর ঘর। এই স্থানেই বর্তমানে ‘বায়তুল মুক্বাদ্দাস’ অবস্থিত, যা পরবর্তীতে প্রায় ১০০০ বছর পরে হযরত সুলায়মান (আঃ) পুনর্নির্মাণ করেন। মূলতঃ এটিই ছিল ‘বায়তুল মুক্বাদ্দাসের’ মূল ভিত্তি ভূমি, যা কা‘বা গৃহের চল্লিশ বছর পরে ফেরেশতাদের দ্বারা কিংবা আদম পুত্রদের হাতে কিংবা ইসহাক্ব (আঃ) কর্তৃক নির্মিত হয়। নিশ্চিহ্ন হওয়ার কারণে আল্লাহ ইয়াকূব (আঃ)-কে স্বপ্নে দেখান এবং তাঁর হাতে সেখানে পুনরায় ইবাদতখানা তৈরী হয়।

ইস্রাঈলী বর্ণনা অনুযায়ী ইয়াকূব হারানে মামুর বাড়ীতে গিয়ে সেখানে তিনি তার মামাতো বোন ‘লাইয়া’ (ليّا) ও পরে ‘রাহীল’ (راحيل )-কে বিবাহ করেন এবং দু’জনের মোহরানা অনুযায়ী ৭+৭=১৪ বছর মামুর বাড়ীতে দুম্বা চরান। ইবরাহীমী শরী‘আতে দু’বোন একত্রে বিবাহ করা জায়েয ছিল। পরে মূসা (আঃ)-এর শরী‘আতে এটা নিষিদ্ধ করা হয়। শেষোক্ত স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বসেরা সুন্দর পুরুষ ‘ইউসুফ’। অতঃপর দ্বিতীয় পুত্র বেনিয়ামীনের জন্মের পরেই তিনি মারা যান। তাঁর কবর বেথেলহামে (بيت لحم) অবস্থিত এবং ‘ক্ববরে রাহীল’ নামে পরিচিত। পরে তিনি আরেক শ্যালিকাকে বিবাহ করেন। ইয়াকূবের ১২ পুত্রের মধ্যে ইউসুফ নবী হন। প্রথমা স্ত্রীর পুত্র লাভী (لاوى) -এর পঞ্চম অধঃস্তন পুরুষ মূসা ও হারূণ নবী হন। এভাবে ইয়াকূব (আঃ)-এর বংশেই নবীদের সিলসিলা জারি হয়ে যায়। ইয়াকূব-এর অপর নাম ‘ইসরাঈল’ অনুযায়ী তাঁর বংশধরগণ ‘বনু ইস্রাঈল’ নামে পরিচিত হয়। হঠকারী ইহুদী-নাছারাগণ যাতে তারা ‘আল্লাহর দাস’ একথা বারবার স্মরণ করে, সেকারণ আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তাদেরকে ‘বনু ইস্রাঈল’ বলেই স্মরণ করেছেন।

হারান থেকে ২০ বছর পর ইয়াকূব তাঁর স্ত্রী-পরিজন সহ জন্মস্থান ‘হেবরনে’ ফিরে আসেন। যেখানে তাঁর দাদা ইবরাহীম ও পিতা ইসহাক্ব বসবাস করতেন। যা বর্তমানে ‘আল-খলীল’ নামে পরিচিত। পূর্বের মানত অনুসারে তিনি যথাস্থানে বায়তুল মুক্বাদ্দাস মসজিদ নির্মাণ করেন (ঐ)।

কেন‘আন-ফিলিস্তীন তথা শাম এলাকাতেই তাঁর নবুঅতের মিশন সীমায়িত থাকে। ইউসুফ কেন্দ্রিক তাঁর জীবনের বিশেষ ঘটনাবলী ইউসুফ (আঃ)-এর জীবনীতে আলোচিত হবে। তিনি ১৪৭ বছর বয়সে মিসরে মৃত্যুবরণ করেন এবং হেবরনে পিতা ইসহাক (আঃ)-এর কবরের পাশে সমাধিস্থ হন। উল্লেখ্য যে, হযরত ইয়াকূব (আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের ১০টি সূরায় ৫৭টি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

ইয়াকূবের অছিয়ত

কেন‘আন থেকে মিসরে আসার ১৭ বছর পর মতান্তরে ২৩ বছরের অধিক কাল পরে ইয়াকূবের মৃত্যু ঘনিয়ে এলে তিনি সন্তানদের কাছে ডেকে অছিয়ত করেন। সে অছিয়তটির মর্ম আল্লাহ নিজ যবানীতে বলেন,

‘এরই অছিয়ত করেছিল ইবরাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকূবও যে, হে আমার সন্তানগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনকে মনোনীত করেছেন। অতএব তোমরা অবশ্যই মুসলিম না হয়ে মরো না’ (বাক্বারাহ ১৩২)। ‘তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকূবের মৃত্যু ঘনিয়ে আসে? যখন সে সন্তানদের বলল, আমার পরে তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বলল, আমরা আপনার উপাস্য এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাক্বের উপাস্যের ইবাদত করব- যিনি একক উপাস্য এবং আমরা সবাই তাঁর প্রতি সমর্পিত’ (বাক্বারাহ ২/১৩৩)।

শুরুতে বলা হয়েছে ‘এরই অছিয়ত করেছিলেন ইবরাহীম। কিন্তু সেটা কি ছিল? আল্লাহ বলেন,

‘স্মরণ কর যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেন, আত্মসমর্পণ কর। সে বলল, আমি বিশ্বপালকের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম’ (বাক্বারাহ ২/১৩১)। অর্থাৎ ইবরাহীমের অছিয়ত ছিল তাঁর সন্তানদের প্রতি ইসলামের। তাঁর পৌত্র ইয়াকূবেরও অছিয়ত ছিল স্বীয় সন্তানদের প্রতি ইসলামের। এজন্য ইবরাহীম তার অনুসারীদের নাম রেখেছিলেন- ‘মুসলিম’ বা আত্মসমর্পিত (হজ্জ ২২/৭৮)। ইবরাহীম তাঁর অপর প্রার্থনায় মুসলিম-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে ‘যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করল, সে ব্যক্তি আমার দলভুক্ত। কিন্তু যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করল, তার বিষয়ে আল্লাহ তুমি ক্ষমাশীল ও দয়াবান’ (ইবরাহীম ১৪/৩৬)।

বুঝা গেল যে, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব প্রমুখ নবীগণের ধর্ম ছিল ‘ইসলাম’। তাদের মূল দাওয়াত ছিল তাওহীদ তথা আল্লাহর ইবাদতে একত্ব। শুধুমাত্র আল্লাহর স্বীকৃতির মধ্যে তা সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তাঁর বিধানের প্রতি আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের মধ্যেই তার যথার্থতা নিহিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের অনুসারী হবার দাবীদার ইহুদী-নাছারাগণ তাদের নবীগণের সেই অছিয়ত ভুলে যায় এবং অবাধ্যতা, যিদ ও হঠকারিতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গিয়ে তারা আল্লাহর অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট জাতিতে পরিণত হয়।

ইবরাহীম ও ইয়াকূবের অছিয়তে এটা প্রমাণিত হয় যে, সন্তানের জন্য দুনিয়াবী ধন-সম্পদ রেখে যাওয়ার চাইতে তাদেরকে ঈমানী সম্পদে সম্পদশালী হওয়ার অছিয়ত করে যাওয়াই হ’ল দূরদর্শী পিতার প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।

লেখক: ইমাম খতিবমসজিদুল উম্মাহ লুটন, সেক্রেটারিশরীয়া কাউন্সিল ব্যাডফোর্ড মিডল্যন্ড ইউকে। সত্যায়নকারী চেয়ারম্যাননিকাহনামা সার্টিফিকেট ইউকে। প্রিন্সিপালআর রাহমান একাডেমি ইউকে, পরিচালকআররাহমান এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021